নোয়াখালীর চরজব্বার থানায় দুই ভাইকে নির্যাতন করার অভিযোগে সুবর্ণচর চরজব্বর থানার ওসি দেবপ্রিয় দাসকে পুলিশ লাইনে বদলি করা হয়েছে। রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে দেবপ্রিয় দাসকে নোয়াখালী পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার বিষয়টি জানানো হয়। এর আগে, গত শনিবার ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরের দিকে হাঁস নিয়ে বিরোধের জের ধরে ওসি তার কক্ষে দুই ভাইকে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করে ভুক্তভোগী।
নির্যাতনের শিকার মো. পারভেজ (২৪) উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চর কচ্ছপিয়া গ্রামের মো. সেলিমের ছেলে। তিনি ওই ওয়ার্ডে যুবলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী। মো. হৃদয় (২০) যুবলীগ নেতা পারভেজের চাচাতো ভাই। সে স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী পারভেজ অভিযোগ করে বলেন, গত শুক্রবার ধানক্ষেতে হাঁস যাওয়াকে কেন্দ্র করে তার চাচা আবু জাফরের সঙ্গে প্রতিবেশী ইমাম উদ্দিনের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিকেলের দিকে চর জব্বর থানার একদল পুলিশ উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনে থেকে আমাকে এবং আমার চাচাতো ভাই হৃদয়কে আরেক স্থান থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে শুক্রবার ও শনিবার সারা দিন থানার হাজতে আটকে রাখে। শনিবার বিকেলের দিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য থানায় গিয়ে টাকা-পয়সা দিয়ে আমাদের থানাহাজত থেকে বের করে নিয়ে আসেন।
পারভেজ আরও বলেন, শনিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে থানার ওসি দেবপ্রিয় দাশ তার কক্ষে দুই ভাইকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটান। আমার শরীরে এখনো মারের দাগ আছে।
তবে চরজব্বর থানার সাবেক ওসি দেবপ্রিয় দাশ অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, দুই ভাইকে নির্যাতনের অভিযোগের সাথে এ বদলির কোনো যোগসূত্র নেই। এটা নিয়মিত বদলির অংশ।
মন্তব্য করুন