বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সুন্দরবনে পর্যটনবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ

সুন্দরবনে নৌযান চলাচল বন্ধ। ছবি : কালবেলা
সুন্দরবনে নৌযান চলাচল বন্ধ। ছবি : কালবেলা

সুন্দরবনে পর্যটনবাহী প্রায় চার শতাধিক জালিবোট, লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন নৌযান মালিকরা। এতে করে দূরদূরান্ত থেকে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকরা সুন্দরবন ভ্রমণ করতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, রোববার (৪ জানুয়ারি) নৌপরিবহন অধিদপ্তর (খুলনা) মোংলার ফেরিঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে অন্তত ৩০টি পর্যটনবাহী জালিবোটের উপরের অংশের অবকাঠামো কেটে ও ভেঙে ফেলে এবং সেসব মালামাল জব্দ করে নিয়ে যায়। এতে বোটগুলোর সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পর্যটকদের বসার স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ব্যাহত হয়। এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ বোট মালিকরা ধর্মঘটের ডাক দেন।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে সুন্দরবনে পর্যটকদের প্রবেশ ও ভ্রমণ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। সোমবার ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সুন্দরবন ভ্রমণের উদ্দেশে মোংলার পিকনিক কর্নারে আসা পর্যটকরা নৌযান ধর্মঘটের কারণে নিরুপায় হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

খুলনা থেকে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটক সৈকত শেখ বলেন, গাড়ি থেকে নেমে জানতে পারি সুন্দরবনে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম জালিবোটসহ সব নৌযান বন্ধ। তাই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছি।

ঢাকা থেকে পরিবারসহ আসা রহিমা খাতুন বলেন, এত দূর থেকে এসে জানতে পারলাম নৌযান চলাচল বন্ধ। এখন আর কিছু করার নেই, ফিরে যেতে হচ্ছে।

যশোর থেকে আসা আফসান বলেন, আমরা এক বাসে ৫০ জন এসেছি। এসে দেখি সুন্দরবনে যাওয়ার কোনো নৌযান নেই। আসাটাই বৃথা হলো।

মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের হয়রানির প্রতিবাদে নৌযান মালিকরা জালিবোট, লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল বন্ধ রেখেছেন। প্রায় ৪শ নৌযান এই ধর্মঘটের আওতায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নৌযান মালিকদের জন্য ব্যয়বহুল কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। হয়রানি বন্ধ না হলে ধর্মঘট চলবে।

সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির বলেন, সোমবার ভোর থেকে এখানে কোনো পর্যটক কিংবা নৌযান আসেনি। শুনেছি নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অভিযানের কারণে নৌযান মালিকরা চলাচল বন্ধ রেখেছেন।

এ বিষয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তর (খুলনা)-এর পরিদর্শক মো. রাশেদুল আলম বলেন, জালিবোটগুলোর উপরের অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে যাতে নৌযানের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি না থাকে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অস্ট্রেলিয়ায় ছড়ি ঘোরাচ্ছেন বাংলাদেশের লেগ স্পিনার 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র

চিনি খাওয়া কমালে কি ক্যানসার প্রতিরোধ হয়? যা বললেন চিকিৎসক

ইন্দোনেশিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত, সব আরোহীর মরদেহ উদ্ধার

জামায়াতকে নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবর ইস্যুতে যা বললেন ফরহাদ মজহার

এক নজরে অস্কার মনোনয়ন

আইসিসিকে ‘তুলোধুনো’ করলেন উপদেষ্টা ফারুকী

মুসাব্বির হত্যা : আরেক ‘শুটার’ গ্রেপ্তার

শুটিং ফেলে হঠাৎ কেন বাংলাদেশে শাকিব খান?

ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ইলন মাস্কের

১০

নির্বাচনের আগে তিন জেলায় না যাওয়ার পরামর্শ যুক্তরাজ্যের

১১

ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে ইসলামিক ব্যাংকিং বিভাগ

১২

৩০ পার হলেই খাদ্যাভ্যাস বদলানো জরুরি, জানুন কেন

১৩

র‍্যাব সদস্য হত্যার পর প্রকাশ্যে হুমকি শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিনের

১৪

পুরান ঢাকার সমস্যার স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি ইশরাকের

১৫

স্কটল্যান্ডকে যে ‘কৌশলে’ বিশ্বকাপ থেকে বাদ করল পাকিস্তান

১৬

রাবির ‘সি’ ইউনিটের ফল প্রকাশ

১৭

বিএনপিই একমাত্র বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি : সালাহউদ্দিন আহমদ

১৮

নেতাকর্মীরা দুঃসময়েও পালায়নি, সামনেও পালাবে না : জামায়াত আমির

১৯

সিরিয়া থেকে হাজার হাজার বন্দিকে নতুন গন্তব্যে পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

২০
X