বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
উপকূলীয় প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৩, ১১:৪৭ এএম
অনলাইন সংস্করণ

লিবিয়ায় সাতক্ষীরার ১০ যুবককে জিম্মি করে নির্যাতন, কারাগারে ২০

লিবিয়ায় জিম্মি কয়েকজন যুবক। ছবি : সংগৃহীত
লিবিয়ায় জিম্মি কয়েকজন যুবক। ছবি : সংগৃহীত

ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা থেকে লিবিয়ায় নিয়ে ১০ যুবককে জিম্মি করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। মোবাইল ফোনে যোগাযোগের সুযোগ দিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ বাবদ দফায় দফায় টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা। টাকা দিতে দেরি হলে অথবা রাজি না হলে যুবকদের নির্যাতনের ভিডিও পাঠানো হচ্ছে পরিবারের কাছে।

এ ছাড়া একই চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে নৌপথে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় মাল্টা সাগর থেকে আবারও লিবিয়া ফিরে আসা শাহাজান হোসেন, সালামিন গাজী ও শেখ আসমতসহ ২০ যুবককে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে তিনজন যথাক্রমে শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর গ্রামের আবু জাফর, মানিকখালী গ্রামের নুর আমিন ও কালিঞ্চি এলাকার জাকির আলির ছেলে।

জিম্মি অন্য যুবকরা হলেন শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী গ্রামের দেলোয়ার কয়াল, মামুন কয়াল, তারানীপুরের আবু রায়হান, বংশীপুরের মিলন, কৈখালীর আনারুল মিস্ত্রি, রহিম সরদার, মিঠু কয়াল, পূর্ব কৈখালীর জামির আলি, আব্দুল কাদের ও রাসেল হোসেন। ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় একাধিক সূত্রসহ ও মানবপাচার চক্রের কয়েক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার শ্রীফলকাঠি গ্রামের হারুন-অর রশিদ, তার ভগ্নিপতি মনিরুল ইসলাম, ধুমঘাট গ্রামের সেকেন্দার ও তাদের পরিচিত মুরাদ হোসেন এ মানবপাচার চক্র গড়ে তুলেছেন। স্থানীয়ভাবে সেকেন্দারসহ কয়েকজন আত্মীয়কে দায়িত্ব দিয়ে হারুন ঢাকায় এবং মনিরুল ও মুরাদ লিবিয়ায় অবস্থান করে সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন। শুরুতে আট থেকে ৯ লাখ টাকায় সাগর পথে ইতালি পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যুবকদের লিবিয়ায় নিয়ে যান তারা। পরে ভালো নৌযানে তুলে দেওয়াসহ নানা অজুহাতে আর দুই থেকে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় এ চক্রটি। পাশাপাশি অনেককে বিক্রি পর্যন্ত করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ নির্বিঘ্নে ইতালি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে হারুন ও সেকেন্দার তাদের কাছ থেকে আট থেকে ১০ লাখ পর্যন্ত টাকা নেন। পরে যুবকদের লিবিয়া নিয়ে গেলেও সাত মাসে তাদের ইতালিতে পৌঁছে দেওয়া হয়নি।

সালামিন হোসেনের বাবা আবু জাফর জানান, জমি বন্ধক দিয়ে তিন লাখসহ মাজাট গ্রামের নুর মোহাম্মদ ও প্রভাষ কর্মকারের কাছ থেকে চড়া সুদে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে মোট ৮ লাখ টাকা চক্রটিকে দেয়। অথচ ইতালিতে ছেলেকে পৌঁছে দেওয়া হয়নি। বরং গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে লিবিয়ার কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তার ছেলে।

আরেক কারাবন্দি শাহাজানের বাবা নুর আমিন জানান, শেষ সম্বল চাষের জমি বিক্রি করে হারুনের ‘টোপে’ পড়ে ছেলেকে ইতালি পাঠানোর চেষ্টা করেছিলেন। কারাবন্দি হওয়ার পর তাকে ছাড়ানোর অজুহাতে হারুনের লোকজন এক লাখ, দেড় লাখ করে টাকা দাবি করছে। সকালে ও সন্ধ্যায় শুধু দুই বার খেতে দেওয়ার কথা জানিয়েছে তার ছেলে। এদিকে গত কিছুদিন ধরে হারুনের মোবাইল ফোনে কল করলেও তিনি তা রিসিভ করছেন না।

জিম্মি যুবকদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে মানবপাচারকারী চক্রের প্রধান হারুন ও তার ভগ্নিপতি মনিরুলের সহায়তায় লিবিয়াতে মামুন, দেলোয়ার, আবু রায়হান, মিলন, আনারুল, আব্দুর রহিম, মিঠু, ও জামির আলিকে আটকে রাখা হয়েছে। তিন দফায় ১২ থেকে সাড়ে ১৩ লাখ করে টাকা পরিশোধের পরও অতিরিক্ত টাকা দাবি করে তাদের শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছে।

মামুন কয়ালের বাবা জাহার আলি কয়াল জানান, প্রায় একমাস আগে ১০ যুবকের নির্যাতনের একটি ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। সেই ভিডিটিওতে বাড়ি থেকে ‘টাকা পাঠাও, টাকা পাঠাও’- এমন আকুতি মিনতি করতে দেখা যায় মামুনসহ অন্যদের। ওই ভিডিও এলাকায় ভাইরাল হলে পাচারচক্রের সদস্যরা বেকায়দায় পড়ে জিম্মি যুবকদের দিয়ে নতুন একটি ভিডিও তৈরি করে পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। তাতে মামুনসহ অন্যদের বলতে শোনা যায়, ‘সাংবাদিক ভাই, আপনারা এ বিষয়ে কোনো নিউজ করবেন না, আমরা ভালো আছি।’

তবে মামুন ও আরও একজনের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গত সোমবার নতুন করে আরেকট একটি ভিডিও পাঠানো হয়। সেটাতে মামুনসহ অন্যদের টাকা চাইতে দেখা যায়।

রাসেলের বাবা আব্দুর রশিদ জানান, জিম্মি অবস্থা থেকে মুক্ত করার অজুহাতে গত বুধবার প্রত্যেকের পরিবারের কাছ থেকে হারুন ও তার লোকজন মাথাপিছু এক লাখ করে টাকা আদায় করে। তার বোন ও ভগ্নিপতি মনিরুলের ভাই সেকেন্দারের বিকাশে এসব টাকা দিতে হচ্ছে বলেও জানান তারা।

এসব বিষয়ে অভিযুক্ত হারুন-অর রশিদ জানান, কয়েকজনকে গত মাসে নৌকায় তুলে দেওয়া হলেও মাল্টা সাগর উত্তাল থাকায় তারা ফিরে আসে। আর কারাগারে থাকা ২০ জনকে মুক্ত করার চেষ্টা চলছে।

তারা কাউকে জিম্মি করেননি দাবি করে পাচার চক্রের এ হোতা আরও জানান, তার ভগ্নিপতি মনিরুলের আস্তানা থেকে পালিয়ে যাওয়া কয়েকজনকে লিবিয়ার সন্ত্রাসী আটক করে মুক্তিপণ চাচ্ছে। সেখানকার সহযোগীদের সহায়তায় জিম্মিদশা থেকে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

কালবেলা/এমএ
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পর্দা উঠছে ২৩তম কমনওয়েলথ গেমসের, উদ্বোধন করবেন রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলা

ডিএমপির দুই থানায় নতুন ওসি

সেই ইকনের পড়ালেখার দায়িত্ব নিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী

‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই আমাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়’

ব্রাহ্মণপাড়ায় ৩২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস বিষয়ে সংসদে আলোচনা হবে: ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চোর সন্দেহে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যা: সাভারে ৩ আসামির একদিনের রিমান্ড

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকের বিরোধের জেরে ধর্ষণ মামলা

বিশ্বকাপের সেরা একাদশ ঘোষণা করল ফিফা, জায়গা পেলেন যারা

নারায়ণগঞ্জে চুরির মামলায় শ্রমিকদল নেতা গ্রেপ্তার

১০

৪৯তম বিশেষ বিসিএস: দুই প্রার্থীর ফল ও সাময়িক নিয়োগ বাতিল

১১

বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল অটোরিকশার ২ যাত্রীর

১২

টানা বৃষ্টিতে মরিচের বাজারে আগুন

১৩

লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজে রেডিওতে সতর্কবার্তা দিচ্ছে হুতিরা

১৪

আধুনিক মেশিনে বদলে যাচ্ছে রামেক হাসপাতালের ল্যাব সেবা

১৫

হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

১৬

ফেনীতে আ.লীগের কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

১৭

মেসিদের নিয়ে অপপ্রচার, কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে আর্জেন্টিনা

১৮

দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই: পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি

১৯

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মধ্যেও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছে ইরান

২০
X