বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:২৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

‘গর্ভফুল’ রেখেই সেলাই করলেন চিকিৎসক

ভুক্তভোগী নারী রিতা আক্তার বর্তমানে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ছবি : কালবেলা
ভুক্তভোগী নারী রিতা আক্তার বর্তমানে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ছবি : কালবেলা

রাজশাহীতে প্রসূতির পেটে গর্ভফুল (প্লাসেন্টা) রেখেই সেলাই করার অভিযোগ উঠেছে মেরিনা আক্তার নামে এক গাইনি বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে। সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিতে এসে ভুল চিকিৎসায় ওই প্রসূতির জীবন এখন সংকটের মুখে।

অভিযুক্ত ডা. মেরিনা আক্তার নওগাঁ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক। সেলাই কাটার পর ওই রোগীর অবস্থার অবণতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রেরণের নির্দেশ দেন ডা. মেরিনা।

প্রসূতি মায়ের ছোট ভাই আব্দুল জব্বার বলেন, পুঠিয়া উপজেলার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বেসরকারি রায়হানা ক্লিনিকে গত ২ নভেম্বর তার বোন মোছা. রিতা সন্তান প্রসবের জন্য ভর্তি হন। ডা. মেরিনা আক্তার তার সিজার করেন। সিজারের পর রিতা ও তার নবজাতক শিশু বাড়ি ফিরে যান। এর কিছুদিন পর রিতার সিজারের সেলাই কাটা হয়। সেলাই কাটার পর একদিকে যেমন তার রক্তপাত বন্ধ হচ্ছি না, তেমনি চরম পেটব্যাথা অনুভব করছিলেন। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে ১২ নভেম্বর রিতার পরিবার তাকে আবারও ওই রায়হানা ক্লিনিকে ডা. মেরিনা আক্তারের কাছে নিয়ে যান। ডাক্তার তার অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত রামেক হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন।

ওইদিনই (১২ নভেম্বর) রামেক হাসপাতালে ভর্তির পর সেখানকার ডাক্তার তার আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে বলেন। সিল্কসিটি ডায়াগনিস্টক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পর ডাক্তার জানান, রিতার পেটে গর্ভফুল অপসারণ করা হয়নি।

রামেক হাসপাতালের ২৮ নং ওয়ার্ডে ভর্তি রিতা বলেন, আমি ভুল চিকিৎসার শিকার। আমি এর বিচার চাই। চিকিৎসায় পঞ্চাশ হাজারের বেশি টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে এখনও আমি সুস্থ হয়ে উঠতে পারিনি। আমি আমার নবজাতককে এখন পর্যন্ত কোলে তুলে আদর করতে বা বুকের দুধ খাওয়াতে পারছি না। আমি চাই না অন্য কারও সাথে এমন হোক।

এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের গাইনি ইউনিট প্রধান ডা. নাহিদ সুলতানা বলেন, রিতার পেটে জমাট রক্ত রয়েছে। এটা এমন কিছু না। চিকিৎসায় তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডা. মেরিনা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ফুল পেটের মধ্যে থাকলেও ভয়ের কোনো কারণ নেই। তিনি আরও বলেন, একজন প্রসূতি মায়ের সিজারের পর তার ফুল কোনো কারণে ভেতরে থেকে যেতে পারে। ওই মুহূর্তে জোর করে ওই ফুল বের করতে গেলেই বরং রোগীর আরও খারাপ অবস্থা হতে পারে। ফুল পরবর্তীতে শরীরের সাথে এবজর্ব (মিশে যায়) হয়ে যায়। এটা ভয়ের কোনো বিষয় নয়। যদি সমস্যা হয় তবে চিকিৎসা আছে, ওষুধ আছে।

তিনি আরও বলেন, সিজারের পর সেলাই কাটার পর দ্বিতীয় দফায় যখন ওই রোগী আমার কাছে আসে তখন তার শরীরে রক্তস্বল্পতা ছিল। আমি তার অবস্থা দেখে তার ভালোর জন্য রামেক হাসপাতালের ইমরাজেন্সিতে ভর্তির পরামর্শ দেই। তা না হলে গ্রাম থেকে গিয়ে শহর থেকে রক্ত নিয়ে আবার যাতায়াতে যে সময় নষ্ট হতো তাতে রোগীর আরও বেশি ক্ষতি হতে পারত।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মানহীন-ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্যপণ্য / ডিএসসিসির মামলায় ৪ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ক‌্যানসার আক্রান্ত শিক্ষক সাজু বাঁচতে চান

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্বারে দ্বারে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী

৯৬ বছরের ইতিহাসে যা কোন দল পারেনি এবার কি তাই করে দেখাবে স্পেন?

শান্তিরক্ষা মিশনে জ্ঞান ও উদ্ভাবনী পদ্ধতির ওপর বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

মেসিরা উঠলেই বদলে যাবে ফাইনালের রেফারি!

বান্দরবানে বন্যার্তদের পাশে বিজিবি

ফিফা থেকে রেকর্ড ‘পুরস্কার’ পাচ্ছে মিশর

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত সেনা সার্জেন্ট সেলিমের লাশ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু, সন্দেহের তীর মা ও সৎ বাবার দিকে

১০

নিষিদ্ধ সংগঠনের পোস্টার লাগানোর অভিযোগে মামলা, আসামি শতাধিক

১১

এইচএসসিতে নকলের দায়ে ৭ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার, ৫ শিক্ষককে অব্যাহতি

১২

হলে ছাত্রদল নেতার সিট দখল ও মারধরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

১৩

টানা বর্ষণে পেকুয়ায় জনজীবন স্থবির, প্লাবিত অন্তত ২০ গ্রাম

১৪

বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

১৫

চবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা

১৬

সালমান খানের নতুন লুক ভাইরাল, ভক্তদের উচ্ছ্বাস

১৭

আবারও শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনার ঘোষণা

১৮

ভারতে পালানোর সময় ঝিনাইদহ স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি গ্রেপ্তার

১৯

বিশ্বকাপ জিতবে কোন দেশ, সবশেষ ভবিষ্যদ্বাণীতে জানাল সুপার কম্পিউটার

২০
X