ডেমরা-যাত্রাবাড়ী একটি আধুনিক ৪ লেন বিশিষ্ট মহাসড়কের করিডোর। এ সড়কটি ভবিষ্যতে পদ্মা সেতু হয়ে আসা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গাড়িগুলোকে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার ব্যবহার না করে রাজধানী ঢাকা যাতায়াতের একটি বিকল্প সড়ক হিসেবে পরিকল্পনা করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ঠিক সেভাবেই সড়কটি তৈরি করা হয়েছে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের আদলেই। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি সড়কটি উদ্বোধন করলেও সাধারণের জন্য সড়কটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় ২০২৩ সালের আগস্ট মাসেই। ডেমরা-যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে প্রচুর গাড়ি চলাচল করছে এ সড়কে কিন্তু অদৃশ্য কারণে আজ পর্যন্ত সড়কবাতি স্থাপন করা হচ্ছে না।
দিনের বেলা চলাচলে অসুবিধা না হলেও সমস্যা দেখা দেয় রাতে। সন্ধ্যার পর বিশেষ করে স্টাফ কোয়ার্টার থেকে কাজলা পর্যন্ত সড়কে বাতি না থাকায় একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। ২০২৩ এর আগস্ট মাসে সড়কটি উন্মুক্ত করার পর থেকে এ পর্যন্ত সড়কে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩ জন। মোটরসাইকেল ছিনতাই হয়েছে ৩টি। এ ছাড়া সাধারণ পথচারীরাও হচ্ছেন ছিনতাইয়ের শিকার। সড়কের চারপাশের বাড়িগুলোতেও চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে। গত কয়েক মাসে এ সড়ক ও আশপাশে ২ শতাধিক চুরি এবং ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। আর এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সড়কবাতি না থাকার কারণেই ঘটছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
ঢাকা সড়ক বিভাগ সূত্র জানায়, এ সড়কে ৪৩৫টি সড়কবাতির চাহিদা রয়েছে, যা দ্রুতই বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে। এ ছাড়া সড়কের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজও শেষ পর্যায়ে।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এমদাদুল হক কালবেলাকে বলেন, খুব দ্রুত ডেমরা-যাত্রাবাড়ী সড়কে সড়কবাতি স্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজটি করা হচ্ছে বলে কিছুটা সময় লাগছে। এ মাসের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।
ডেমরা থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমান কালবেলাকে বলেন, এ সড়কে সড়কবাতি না থাকায় রাতের বেলা অপরাধ বেড়েই চলেছে। তাই এলাকাবাসীর স্বার্থে সড়কে দ্রুত সড়কবাতির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন