বয়স মাত্র ২৮। কখনো অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করে কখনো রাজমিস্ত্রীর শ্রমিক হিসেবে কাজ করে কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে সংসার চলত তার। তবুও তিনি সুখী ছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে হঠাৎই সড়ক দুর্ঘটনায় ভেঙে যায় তার একটি পা৷ থেমে যায় তার আয়৷ চলার পথ নেই৷
দীর্ঘদিন পায়ের চিকিৎসা নেওয়ার পরও থেমে নেই তার জীবন। বলছি ভাঙা পা নিয়েই পথে পথে চা বিক্রি করে সংসার চালানো নয়ন মিয়ার কথা।
তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের নিরাহারগাতী গ্রামে। দুই হাতে দুটি চায়ের ফ্লাস্ক নিয়ে বের হয়ে পড়েন সকালে। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়েই চলে চা বিক্রি। দিনশেষে ৩০০-৫০০ টাকা আয় হয় তার। আর এ আয়েই চলে সংসার। ছোট একটি দোকান দেওয়ার সামর্থ্যও নেই তার৷ তাই কষ্ট করে ভাঙা পা নিয়েই চা বিক্রি করে সে। বর্তমানে সে সম্মুর দোকান এলাকায় তার শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করছেন।
নয়ন জানান, একটি সড়ক দুর্ঘটনায় তার পা ভেঙে যায়। পরে বছরখানেক সময় চিকিৎসার পর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটেন। কিন্তু ভারী কোনো কাজ করতে পারেন না। এ কারণে স্থানীয় কয়েকজনের পরামর্শে দুটি ফ্লাস্ক কিনে শুরু করেন পথে পথে চা বিক্রি। এতে যা আয় হয় তা দিয়ে কোনো মতে তার সংসার চলছে। একটি দোকান হলে তার কষ্ট কিছুটা কমত এবং সংসারও ভালোভাবে চলত বলেও জানান তিনি।
সম্মুর দোকান এলাকার জামাল উদ্দিন জানান, তার এ সংগ্রামী জীবন অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। ভাঙা পা নিয়েও সে চা বিক্রি সংসার চালাচ্ছেন এটা দেখে সমাজের অনেকের শেখা উচিত। তবে তাকে একটি দোকান করে দিলে সেটা তার জন্য সহজ হতো।
আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দ্বীন ইসলাম জানান, সে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে৷ চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে তার জন্য কিছু করার চেষ্টা করবেন বলেও নিশ্চয়তা দেন তিনি৷
মন্তব্য করুন