সারা দেশের মতো কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় শীতের তীব্রতা কমেছে। কৃষকরা আবারও পুরোদামে ধানের জমি প্রস্তুতে কাজে নেমে পড়েছেন। এতে সাহেবাবাদ বাজারে ইরি-বোরো ধানের চারার হাট জমে উঠেছে। সপ্তাহের বৃহস্পতি ও রোববার এ দুই দিন বসে এ হাট। এখানে নিজেদের জমি রোপণের পর উদ্বৃত্ত চারা বিক্রি করতে আসেন প্রান্তিক কৃষকরা। এসব চারা যাচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। এই উপজেলার কৃষকরা ছাড়াও এই হাটে চারা কিনতে আসেন আশপাশের উপজেলার কৃষকরাও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বীজতলা উপযোগী জমি না থাকায় যে সব কৃষক বীজতলা তৈরি করতে পারেন না, তারাই মূলত এই চারার হাট থেকে চারা কিনে নিয়ে যান। কোনো কোনো কৃষক বীজতলা তৈরি করেও ধানের চারার ঘাটতি হলে তারাও আসেন এই হাটে। তবে এ বছর ঘনকুয়াশা এবং তীব্র শীতের কারণে বীজতলা কোল্ড ইঞ্জুরিতে আক্রান্ত হয়েছে বেশি। তাই বিভিন্ন এলাকায় চারার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে এসব কৃষকরাও এই হাটে আসছেন চারা কিনতে। এতে করে চারার হাট জমজমাট হয়ে উঠেছে।
সাহেবাবাদ বাজারে ধানের চারা বিক্রয় করতে আসা উপজেলার মালাপাড়া ইউনিয়নের অলুয়া এলাকার কৃষক হুমায়ুন কবির কালবেলাকে বলেন, আমি উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শমতো ইরি-বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করেছিলাম। এতে যে ধানের চারা হয়েছে তা দিয়ে আমার ৯৩ শতক জমিতে চারা রোপণ করেছি। বাকি চারা আমি বাজারে বিক্রি করতে এসেছি।
বাজারে চারা কিনতে আসা উপজেলার উত্তর নাগাইশ গ্রামের কৃষক লাল মিয়া কালবেলাকে বলেন, আমি সাহেবাবাদ বাজারে এসেছি ইরি ধানের চারা কিনতে। এই বাজারে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা ধানের চারা ক্রয়-বিক্রয় করতে আসেন। আমিও প্রতি বছর চারা ঘাটতি হলে এই বাজার থেকে চাহিদা মতো ধানের চারা কিনে জমি আবাদ করে আসছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাসুদ রানা কালবেলাকে বলেন, বীজতলা তৈরি থেকে শুরু করে ধানের জাত নির্বাচনে এবং বোরো ধানের আবাদ নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের সহযোগিতা করছে উপজেলা কৃষি অফিস। বোরো ধানের আবাদ বৃদ্ধির জন্য সরকারের নিদের্শনা অনুযায়ী আমরা উপজেলার সব ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে উফশী ও হাইব্রিড ধানের বীজ এবং সার প্রণোদনা হিসেবে দিয়েছি।
মন্তব্য করুন