ময়মনসিংহ ব্যুরো
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:২৯ এএম
আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:৪১ এএম
অনলাইন সংস্করণ

অটোচালক হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন আসামিরা

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। ছবি : কালবেলা
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। ছবি : কালবেলা

ময়মনসিংহে চালককে হাত-পা ও মুখ বেঁধে হত্যার পর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা হত্যার দায় স্বীকার করে ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দেন। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ নগরীর জয়নুল আবেদিন পার্কের পাশে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড় থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় হাসেম মিয়া (২৯) নামের অটোরিকশাচালকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করে অভিযুক্তরা। হাসেম সদর উপজেলার দাপুনিয়া কলাপাড়া গ্রামের মৃত জহির উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই নিলু মিয়া বাদী হয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা করেন।

কোতোয়ালি ও গৌরীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জেলা পুলিশের গোয়েন্দ শাখা (ডিবি) হত্যাকাণ্ডে জড়িত ফুলপুরের বাতিকুড়া গ্রামের মো. আলমগীর (২০), তারাকান্দার পূর্ব কামারিয়ার মো. রাকিবুল হাসান তপু (৩০), একই উপজেলার হরিপুর গ্রামের মো. রাকিব হাসান ওরফে রাকিবুল ইসলাম (২১), টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার রামপুর গ্রামের মো. আরাফাত হোসেন বাবু (২৭) গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, ৮ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে আলমগীর, রাকিবুল হাসান তপু, রাকিবুল, আরাফাত হোসেন বাবুসহ পাঁচজন স্মৃতিসৌধের মাঠে বসে অটো ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনা মোতাবেক রাত ১২টার দিকে হাসেমের অটোরিকশা ভাড়া করে সার্কিট হাউস মাঠে নিয়ে যান তারা। তারপর মাঠে দাঁড়িয়ে চালক হাসেমের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে তারা এলোপাথাড়ি মারধর করে বেড়িবাঁধের নিচে নদীর পাড়ে নিয়ে যান। সেখানে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ছুরি দিয়ে বুকে ও পিঠে আঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করেন।

তারপর লাশ মাটিতে ফেলে অটোরিকশাটি নিয়ে শম্ভুগঞ্জ এলাকায় ৩৪ হাজার টাকায় বিক্রি করে নিজেদের মধ্যে টাকা ভাগাভাগি করে নেন। হত্যার পর লুট করে নেওয়া অটোরিকশাটি কেনার সূত্র ধরে নগরীর শম্ভুগঞ্জ এলাকার ফরহাদ (৩১), সুমন শেখ (৩৫) এবং আলমকে (৪০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, আলমগীরের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা, তপুর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা, রাকিব হাসানের বিরুদ্ধে একটি চুরি মামলা, আরাফাত হোসেন বাবুর বিরুদ্দে একটি হত্যা ও চুরি মামলা রয়েছে।

ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ বলেন, হত্যায় জড়িতদের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হত্যা ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। বিকেলেই তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

কালবেলা/এমএ/এএএম
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

একাধিকবার প্রবেশের সুযোগ দিয়ে ১ বছরের ওমরাহ ভিসা চালু করল সৌদি আরব

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ঢাবি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ

আমরা একসঙ্গে ছিলাম, আছি এবং একসঙ্গেই থাকব: প্রধানমন্ত্রী

ডিবির হাতে গ্রেপ্তার ভাইরাল সেই রুনা 

ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল, কারণ খুঁজতে মাঠে বিশেষজ্ঞ দল

বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে দেশে ফিরল স্পেন, মাদ্রিদে লাখো মানুষের ঢল

ইউক্রেনে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, ৪ ভারতীয় নাবিক নিহত

রক্ত, আতঙ্ক আর দীর্ঘশ্বাসে লেখা ২১ জুলাই: যে দিন সাভারের আকাশ ভারী হয়েছিল কান্নায়

সংশোধন নয়, সংস্কারের মধ্যে দিয়ে নতুন সংবিধানের কথা বলেছিলাম আমরা : আখতার হোসেন 

নিবন্ধন পেল বাংলা পোস্ট

১০

স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার পর ‘গুপ্তবাহিনী’ ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করে: প্রধানমন্ত্রী

১১

গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণ জানাল তিতাস

১২

ডেঙ্গুর আর্থিক ক্ষতি বছরে ৫ হাজার কোটি টাকা: ডা. মোসলেহ উদ্দীন

১৩

বাজার থেকে আরও ৮ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

১৪

ইসলামোফোবিয়া প্রতিরোধে অস্ট্রেলিয়া সরকারের উদ্যোগ

১৫

ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের ৫ কারণ 

১৬

কারখানায় বিস্ফোরণে দগ্ধ আরও ২ শ্রমিকের মৃত্যু

১৭

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কৌশল বুঝে ফেলেছে ইরান: গালিবাফ

১৮

অস্ত্রোপচারে ড্রিলের ফলা রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ

১৯

ভারতে প্রথম ডেঙ্গু টিকার অনুমোদন, কারা নিতে পারবেন

২০
X