জ ই আকাশ, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৪, ০৯:৫১ এএম
আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৪, ১০:৪১ এএম
অনলাইন সংস্করণ

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে ইছামতী, জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি

দখল আর দূষণে অস্তিত্ব সংকটে ইছামতী নদী। ছবি : কালবেলা
দখল আর দূষণে অস্তিত্ব সংকটে ইছামতী নদী। ছবি : কালবেলা

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্র দিয়ে প্রবাহিত ইছামতীর শাখা নদীর মাঝ দিয়ে একাধিক স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মৃতপ্রায়। নদীর মাঝ দিয়ে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণে জলাবদ্ধতায় কচুরিপানা পচে পানিদূষণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য নদীতীরবর্তী কয়েক হাজার মানুষ। দখল, দূষণ আর অবহেলায় ইছামতীর এই শাখা নদীটি অনেকটাই অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

জানা যায়, প্রায় ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য নদীটি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের ভাঙাবাড়িয়া এলাকার কালিগঙ্গা থেকে হরিরামপুর উপজেলার বলড়া ইউনিয়নের সুলতানপুর, বহুলাতুলি, কাণ্ঠাপাড়া হয়ে চালা ইউনিয়নের পূর্বখলিলপুর, পশ্চিম খলিলপুর, বয়ড়া ইউনিয়নের যাত্রাপুর, আন্ধারমানিক, দড়িকান্দি ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পিয়াজচর ও বাহিরচর হয়ে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ২০০০ সালের দিকে পদ্মার তীব্র ভাঙন রোধে এই ইছামতীর নদীর ওপর দিয়ে বাহিরচর বাজার সংলগ্ন বালুচর এলাকায় নদীর দুইপাড় ভরাট করে একটি সরু কালভার্ট ব্রিজ নির্মাণের মধ্য দিয়ে এই নদীর গতিপথ রোধ করা হয়। এরপর দড়িকান্দি ও বাহিরচর পশ্চিমপাড়া এলাকায় নদীর মাঝ দিয়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। এর প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে আন্ধারমানিক এলাকায় বর্তমান লেছড়াগঞ্জ বাজার সংলগ্ন নদীর মাঝ দিয়ে আরও একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়াও কাণ্ঠাপাড়া-পশ্চিম খলিলপুর সংযোগে নদীর প্রস্থ কমিয়ে একটি স্লুইস গেট নির্মাণ এবং পূর্ব খলিলপুর-বহলাতুলী সংযোগস্থলে নদীর দুইপাশ ভরাট করে মাঝখানে প্রায় পনের ফিট দৈর্ঘ্য একটি কালভার্ট ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে হরিরামপুর উপজেলার বাহিরচর পশ্চিমপাড়া থেকে সদর উপজেলার ভাঙাবাড়িয়া এলাকায় কালিগঙ্গা নদীর প্রবেশমুখ পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটারের অধিক এলাকা নিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এই ইছামতীর শাখা নদী।

স্থানীয়রা আরও দাবি করেন, ইছামতীর এই শাখা নদীটিতে অপরিকল্পিতভাবে একাধিক বাঁধ দিয়ে নদীর গতিপথ রোধে পানি প্রবাহিত না হওয়ায় এবং নদীর বিভিন্ন স্থানে দখল ও ময়লা-আর্বজনায় পরিবেশ দূষণসহ চরম জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। বর্ষা মৌসুমে নদীর দুকূল ভেসে কচুরিপানার স্তূপ পড়ে। নদী সচল না থাকায় বর্ষার পানি চলে যেতেই কচুরিপানা পচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়াও নদী তীরবর্তী হাটবাজার ও বাড়ির ময়লায় পানি নষ্ট হয়ে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়ে। এতে করে এ অঞ্চলের নদী তীরবর্তী কয়েক হাজার পরিবার দুর্গন্ধে বসবাসসহ নদীর পানিও ব্যবহার করতে পারছে না। নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় শীত মৌসুমেই নদী পুরোপুরি শুকিয়ে যায়। এতে নাব্যতা সংকটে নদীটি অনেকটাই বিলুপ্তিপ্রায়। দখল, দূষণ ও সংরক্ষণের অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে নদীটির ঐতিহ্য। নদীর মাঝ দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে একাধিক বাঁধ দিয়ে নদীর পানি চলাচল বন্ধে এ অঞ্চলে কৃষিকাজ ও মৎস্য প্রজনন বৃদ্ধিসহ পানিশূন্যতায় জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

বয়ড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান তুষার জানান, নদীতে কচুরি পানা পচে পানি নষ্ট হয়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে গেছে। একটা পদ্মা ভাঙন রোধে নদীতে বেশ কয়েকবার বাঁধ দেওয়া হলেও বর্তমানে নদীটি আবার সচল করা প্রয়োজন।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল হোসেন বলেন, এই নদীটি জলাবদ্ধতার কারণে পানি নষ্ট হয়ে গেছে। নদীটি খননের জন্য আমরা বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের কাছে দাবি করেছি। নদীর ভেতরে তিন বাঁধ রয়েছে। যার ফলে পানি চলাচল করতে পারে না। ফলে এলসকার জনগণ পানি নিয়ে চরম ভোগান্তির মধ্যে আছে। রান্নাবান্না থেকে শুরু করে গোসলসহ অন্যান্য কাজেও এ পানি ব্যবহার করা যায় না। এমনকি গবাদিপশুও গোসল করানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাই আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি করছি, যেন নদীটি সচল করে এর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা যায়, তার জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

এ ছাড়াও নদী বিশেষজ্ঞের পরামর্শে যতদ্রুত সম্ভব নদীটি সচল করার জন্য এলাকাবাসীও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান।

তবে এ বিষয়ে জানতে মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বন্যায় প্লাবিত ৫৯ উপজেলা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১

‘কারবালা ইসলামকে পুনর্জীবিত করার অনন্য মহাকাব্য’

ভারতে লোকাল বাসে মন্ত্রী, ভাংতি না থাকায় নামিয়ে দিলেন কন্ডাক্টর

ঢাকায় দ্বিতীয়বারের মতো ‘গুগল প্রোডাক্ট এক্সপার্ট’ কর্মশালা 

স্বামীকে তালাক দিয়ে প্রেমিককে বিয়ে, স্ত্রীর স্বীকৃতি চেয়ে অনশন

পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস রাজশাহী’ অনুষ্ঠানে ১৪টি ইলেকট্রনিক বুথের উদ্বোধন

বগুড়ায় যমুনার ভাঙনে শহরাবাড়ি স্পারের ৩০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ঢাবির সব অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত

'ঈশ্বরের হাত' আর বেকহ্যামের প্রায়শ্চিত্ত / বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা মহারণের সেরা ৫ গল্প

৬ মাস পর সুন্দরবনে ফিরল সেই বাঘিনী, অবমুক্ত করলেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

১০

যে রেকর্ড গড়লে আর কোনো অপূর্ণতা থাকবে না মেসির

১১

তারেক রহমান উন্নয়নের মাধ্যমে বরিশালবাসীর সম্মানের প্রতিদান দিবেন: রহমাতুল্লাহ

১২

৩০ সেকেন্ডে ১৯৫ চুম্বন, গড়লেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড

১৩

‘রেফারিই হারিয়ে দিল’, এমবোলোর লাল কার্ড নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন কোচ

১৪

বন্যায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম

১৫

বন্যাকবলিত ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

১৬

জমির উদ্দিন সরকারের জানাজায় প্রধানন্ত্রীর অংশগ্রহণ

১৭

বিশ্বকাপে ৬৪ শতাংশ সময় হেঁটেছেন মেসি

১৮

ইরানের ড্রোন হামলার বিরল প্রতিবাদ ওমানের, রাষ্ট্রদূত তলব

১৯

বিশ্বকাপে অপ্টার পূর্বাভাস বাস্তবে কতটা মিলল? 

২০
X