বাঙালি ও বাংলাদেশের জনসাধারণ পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণে গরু পালন করে আসছে। বর্তমানে গরু পালন করে শুধু পুষ্টির চাহিদাই পূরণ নয়, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হয়েছেন অনেকেই।
এদের মধ্যে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জিএম কাদের অন্যতম একজন। দুগ্ধ গাভি পালনে একজন সফল খামারি হিসেবে এই অঞ্চলে মানুষের কাছে ব্যাপক পরিচিত লাভ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি তিনি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের প্রধানবাড়ি (খেংটি) এলাকায় নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন জিম নামের একটি ডেইরি ফার্ম। দেশি-বিদেশি মিলে ২৮টি গাভি ও ২টি ষাঁড় রয়েছে তার খামারে। প্রতিদিন ১২০ লিটার দুধ উৎপাদন হয় এ খামার থেকে। এসব গরুর জন্য নিয়মিত বাজার থেকে ঘাস ক্রয় করে গরুকে খাওয়ান তিনি।
জানা গেছে, ২০১৫ সালে দেশি একটি দুগ্ধ গাভি পালনের মধ্য দিয়ে খামারের কাজ শুরু করেন তিনি। কয়েক বছরের ব্যবধানে তার খামারে এখন ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৩০টি গরু রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জিম ডেইরি ফার্মের খামারের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও দেখভালের জন্য রয়েছে তিনজন শ্রমিক। তারা দিনরাত পরিশ্রম করেন। এদের কেউ গরুকে ঘাস খাওয়াচ্ছেন, কেউ আবার গাভি থেকে দুধ নেওয়ার এবং বাজারজাত করার কাজ করছেন। কেউবা গোবরগুলোকে গ্যাসের কাজে ব্যবহার করার জন্য ব্যস্ত রয়েছেন। এ ছাড়া নিজস্ব কৃষি জমিতে সবজি উৎপাদনে জৈবসার হিসেবে গোবর ব্যবহার করছেন।
উন্নত জাতের এ ফ্রিজিয়ান ৩০টি গাভিতে তার খামার পরিপূর্ণ হয়ে আছে। ৩০টি গাভির ভেতর ৬টি গাভি দুধ দিচ্ছে। বাকি গাভিগুলো খুব অল্পদিনের মধ্যে বাচ্চা দেবে বলেও তিনি জানান। প্রতিদিন গড়ে ১২০ কেজির বেশি দুধ বিক্রি হচ্ছে তার খামারে। এতে প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার টাকা আয় হয়, যা থেকে মাসিক আয় হয় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং প্রতি বছরে আয় হয় ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
জিম ডেইরি ফামের্র মালিক জিএম কাদের কালবেলাকে বলেন, আমার বড় মেয়ের জন্য বাজার থেকে দুধ কিনে এনে খাওয়াতে খুবই কষ্ট হতো। সেই সুবাদে স্থানীয় হাট থেকে মাত্র ৮৪ হাজার টাকায় ২০১৫ সালে একটি দেশি গরু ক্রয় করি। বর্তমানে আমার খামারে কাজ করে ৩টি শ্রমিকের পরিবার চলে। তবে ধীরে ধীরে এর চেয়ে আরও বড় পরিসরে খামার করার চিন্তাভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে বর্তমানে গরুর খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় হিমসিম খেতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি স্লোগান দিয়েছিল, বদলে যাবে দেশ, দুধ-মাংসের বাংলাদেশ। সেই স্লোগানকে সামনে রেখে যদি গরুর খাদ্যের সিন্ডিকেটটা ভেঙে একটু সহযোগিতা করে, তাহলে আমারা যারা উদ্যোক্তা আছি তারা সফল হতে পারব। কারণ যখন ৭০০ টাকা ফিটের বস্তা ছিল, তখনও কিন্তু দুধের দাম ৫০ টাকা ছিল। এখন ১৩শ টাকা ফিটের বস্তা এখনও দুধের দাম ৫০ টাকা। তাহলে কীভাবে সম্ভব, আমরা কীভাবে টিকে থাকব। বর্তমানে আমার এখানে প্রায় ৭৫ লাখ টাকার গরু রয়েছে। সিন্ট নির্মাণে আমার প্রায় ১৩-১৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। সরকারিভাবে এখনো আমি কোনো কিছু পাইনি। তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আমার খামার পরিদর্শণ করে গেছেন।
বেকার যুবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমার মতো উদ্যোক্তা হতে পারেন। ব্যাপক হারে না হলেও দুই-চারটা গরু দিয়ে আপনারা শুরু করতে পারেন। এতেই একজন সফল খামারি হিসেবে পরিচিত হতে পারেন বলে মনে করেন তিনি।
এ ব্যাপারে উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. শ্যামল চন্দ্র রায় কালবেলাকে বলেন, জিম ডেইরি ফার্ম দেখেছি। গরুগুলোও ভালো স্বাস্থ্যবান। সরকারি সহায়তা পাওয়ার যোগ্য। খামারটি বেশ সম্ভাবনাময়। সরকারি সহায়তা পেলে আরও ভালো করতে পারে।
মন্তব্য করুন