রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩
আতিকুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৪, ০৪:০৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

শান মেশিনের প্যাডেলে চলে ষাটোর্ধ মোহাম্মদ আলীর সংসার

ছুরি শান দিচ্ছেন শান কারিগর মোহাম্মদ আলী। ছবি : কালবেলা
ছুরি শান দিচ্ছেন শান কারিগর মোহাম্মদ আলী। ছবি : কালবেলা

দরজায় কড়া নাড়ছে কোরবানির ঈদ। আর কোরবানির ঈদ মানেই মাংস কাটাকাটির মহোৎসব। তাই এ সময় পুরোনো বঁটি, চাকু কিংবা দা আগে থেকে ধার বা শান দিয়ে ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হয়।

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ততা বেড়েছে এ পেশায় নিয়োজিত কারিগরদের। বিশেষ করে কাঁধে শান মেশিন নিয়ে শহরের অলিতে গলিতে হাঁক দিতে দেখা যাচ্ছে শান কারিগরদের।

ভ্রাম্যমাণ এ সকল কারিগররা শান মেশিন কাঁধে চেপে ঘুরে বেড়ায় প্রতিটি পাড়া মহল্লায় ও হাট বাজারে। এভাবে কাঁধে শান মেশিন চেপে ৩৮ বছর ধরে শান দেওয়ার কাজ করে সংসার চালিয়ে আসছেন ষাটোর্ধ বয়সী মোহাম্মদ আলী।

সরেজমিনে দেখা যায়, মোহাম্মদ আলী শান দেওয়া মেশিনের প্যাডেল পা দিয়ে সজোরে ঘুরিয়ে শান দিচ্ছে। এতে একটি পাথরের প্লেট সজোরে ঘুরাতে হচ্ছে তাকে। ঘূর্ণায়মান ওই পাথরের প্লেটের কার্নিশে লোহার চাকু, দা ও কাঁচি স্পর্শ করলে ঘর্ষণে ধার উঠে যায়। এ সময় ঘর্ষণের ফলে আগুনের ফুলকিও বের হয়। এভাবে দুই পায়ে প্যাডেল ঘোরানোর কাজ খুবই পরিশ্রমের।

শান কারিগর মোহাম্মদ আলী কালবেলাকে বলেন, এ শান মেশিনে প্রতিটি পাড়া মহল্লায় এবং বিভিন্ন হাট বাজারে ঘুরে শান দেওয়ার কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়েই কষ্টে চলে পরিবারের ভরণপোষণ। পাঁচজনের পরিবারে নেই মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও। তাই হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলা থেকে এসে আবাস গড়েছি কুমিল্লার গোমতী নদীর পাড়ে ছোট্ট ঝুপড়ি ঘরে। ২৫ বছর বয়স থেকেই একটি শান দেওয়া মেশিন কাট দিয়ে তৈরি করে শুরু করেছি মরচে ধরা পুরানো কাঁচি,দা ও চাকুতে ধার ওঠানোর কাজ।

তিনি বলেন, কোরবানির ঈদে অনেক পশু জবাই হয়। এ সময় প্রায় প্রতিটি পরিবারেই ছুরি, বঁটি, শিলপাটা ধার দেওয়ার হিড়িক পড়ে। ফলে বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে কোরবানির ঈদের আগের কয়েকদিন আয়ও ভালো হয়। অন্য সময় ৩০ টাকা নেওয়া হলেও এখন ছুরি ধার করতে ৫০ টাকা নিচ্ছি। অন্যগুলো ১০০ টাকা। কোরবানির ঈদের আগে প্রতিদিন গড়ে ১২০০ টাকার মতো আয় হয়।

এ শান কারিগর আরও বলেন, কিন্তু ঈদের পর এ আয় অর্ধেকে নেমে আসে। এ আয় দিয়েই চলছে পরিবারের ভরণপোষণ। এ বয়সে এসে শান দেওয়ার কাজ করতে ইচ্ছে করে না। অন্য কোনো কাজও জানা নেই। মরার আগ পর্যন্ত শান দেওয়ার কাজ করে বাঁচতে হবে। শরীর না কুলালেও জীবিকার তাগিদে শান দেওয়া মেশিনের প্যাডেল ঘোরাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

টমছমব্রিজ এলাকার বাসিন্দা আমিমুল এহসান বলেন, আমাদের এলাকার অনেক পরিবারের দা-বঁটি মেশিনের মাধ্যমে শান দেওয়া হয়। দা-বটি বাজারে নিতে ঝামেলা। তাই শান দেওয়া লোক বাসার সামনে আসলে তাদের কাছ থেকে দা-বঁটি শান দেই। এতে একটু ঝামেলা কম হয়। শান ওয়ালারা বঁটি শান দিতে নেন ৫০ টাকা, ছুরি ২০ টাকা, ছাপাতি ১০০ টাকা, শিলপাটা ১০০ টাকা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘থামাতে হলে আমাকে মেরেই ফেলুন’, মমতার চরম হুঁশিয়ারি

খামেনির মহাপ্রয়াণ মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের মূল শক্তি: পেজেশকিয়ান

৯০০ পিস ইয়াবাসহ আর্জেন্টিনা সমর্থক তরুণ গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জ আদর্শ স্কুল চ্যাম্পিয়ন

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সের একাদশ ঘোষণা

কেপ ভার্দেতে কেমন চলছে মুসলিমদের জীবনযাত্রা?

বিশ্বকাপ থেকে ‘এক’ স্বাগতিকের বিদায়

কানাডার স্বপ্ন ভেঙে সবার আগে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো

কেপ ভার্দে যেতে কি বাংলাদেশিদের আগাম ভিসা লাগবে?

ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না সরকার : বিজন কান্তি 

১০

নরসিংদীতে মন্দির উন্নয়ন কাজের সরকারি বরাদ্দ বিএনপি নেতার পকেটে!

১১

সেমিনারে বক্তারা / সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য

১২

এএফসি টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন বিমান, রানার্সআপ ইউএস-বাংলা

১৩

সকাল ৯টার মধ্যে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে

১৪

সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ফিরছে সরাসরি ফ্লাইট, রোববার প্রথম যাত্রা

১৫

জুলাই সনদের প্রতি পুনরায় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করলেন জামায়াত আমির

১৬

হরমুজ প্রণালি ইরানের জন্য পারমাণবিক অস্ত্রের মতোই গুরুত্বপূর্ণ 

১৭

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারত্ব আরও গভীর করার আহ্বান ডা. শফিকুর রহমানের

১৮

ইসলামিক ব্যাংকিংয়ে সুশাসন, শরিয়াহ কমপ্লায়েন্স বাস্তবায়নে জোর

১৯

ফরিদপুর বিভাগ ও সিটি করপোরেশন হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

২০
X