কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১০:৫২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ছিনতাইকারীর হাতে রক্তাক্ত সাংবাদিক, আটকের পর ছেড়ে দেয় পুলিশ

সাংবাদিক আরমান ভূঁইয়া। ছবি : সংগৃহীত
সাংবাদিক আরমান ভূঁইয়া। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর সংসদ ভবন এভিনিউ সড়কে পুলিশের সামনে সংঘবদ্ধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক ছিনতাইকারী চক্রের হামলায় গুরুতর আহত হন সাংবাদিক আরমান ভূঁইয়া। যদিও চক্রটির কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ, তবে কিছুক্ষণ পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি এ ঘটনায় মামলার আবেদন করলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।

এ ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে, সংসদ ভবন এভিনিউ সড়কের মনিপুরীপাড়া ৫ নম্বর গেটের সামনে।

আহত আরমান ভূঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনের অপরাধ বিভাগের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি বলেন, ওইদিন আমি ও আমার এক বন্ধু ছিনতাইকারী চক্রের একজনকে আটক করি। এরপর চক্রের আরও তিনজন সদস্য সামনে আসে। পরে আমরা তেজগাঁও থানার ওসিকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া অনুরোধ করি। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসতে দেরি করায় ছিনতাইকারী চক্রের আরও ১০-১৫ জন সদস্য চলে আসে। পরে তেজগাঁও থানা পুলিশের সামনেই চক্রের সদস্যরা আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমাকে রক্তাক্ত জখম করে।

সাংবাদিক আরমান বলেন, হামলার পর তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিয়াজ উদ্দিন মোল্লা ঘটনাস্থল থেকে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য জাহাঙ্গীর, শাহিন, রাব্বিসহ কয়েকজনকে আটক করে তেজগাঁও থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসার জন্য পুলিশের একটি টিম আমাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যায়।

তিনি অভিযোগ করেন, চিকিৎসা শেষে থানায় ফিরে জানতে পারি পুলিশ টাকার লেনদেন করে আটককৃত ছিনতাইকারীদের ছেড়ে দিয়েছেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে মামলা করতে গেলে পুলিশ নানা কৌশলে কালক্ষেপন শুরু করে। একদিন পর একটি অভিযোগ রাখলেও মামলা রেকর্ড করেনি তারা।

জানতে চাইলে এসআই নিয়াজ বলেন, আমরা ঘটনাস্থল থেকে আহত সাংবাদিক ও মূল অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরসহ ৫-৬ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। পরে চিকিৎসার জন্য আহত সাংবাদিককে ঢামেকে পাঠানো হয়৷ আর আটক ব্যক্তিদের ডিউটি অফিসারের কাছে রেখে আমি অন্য কাজে চলে যাই।

সেদিন রাতে তেজগাঁও থানার ডিউটি অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল। জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেদিন আটকের বিষয়ে আমার নলেজে নেই। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোবারক হোসেন বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ৫-৬ জন রিকশাচালককে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে তাদের ছাড়িয়ে নিতে ৫০-৬০ জন রিকশাচালক থানায় এসে মব সৃষ্টির চেষ্টা করছিল। তাই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

যদিও ওসির এ বক্তব্যের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ওইদিন আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিতে ১০ জন ব্যক্তি এসেছিল। তবে থানায় তারা কোনো মব সৃষ্টি করেনি বলে নিশ্চিত করেছেন থানার দায়িত্বরত একাধিক পুলিশ সদস্য।

ওইদিন রাতে থানার দায়িত্বে ছিলেন এসআই আসাদুর রহমান। তিনি বলেন, ওসি স্যারের নির্দেশে আটক ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা রেখে গ্যারেজের মালিকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বিস্তারিত তথ্য ডিউটি অফিসারের কাছে রয়েছে। তিনিই তাদের নাম-ঠিকানা রেখেছিলেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নুরুল হকের স্ত্রী মারিয়া নুরের আক্ষেপ

ঢাবি শিক্ষক কার্জনসহ দুজনের জামিন মেলেনি

ডাকসু নির্বাচনে চারদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন আবিদুলের

কুমিল্লায় ঘর থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার

দেশে জিপএক্স ডেমন জিআর ২৫০আর উন্মোচন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ৮ সদস্যের কমিটি গঠন

নিষেধাজ্ঞা শেষে খুলছে সুন্দরবনের দ্বার

‘অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যানথ্রোপলজি, সাস্ট’র কমিটি গঠন

পাবনায় পানিতে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু

উন্নত প্রযুক্তির স্যাটেলাইট উন্মোচন করল ইরান

১০

শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকতে বললেন মাহিন সরকার

১১

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌথ বাহিনী মোতায়েন

১২

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে দু’একটি দল বাধা দিচ্ছে : জামায়াত 

১৩

এক মঞ্চে মোদি-শি, জমে উঠছে বৈরী দুই প্রতিবেশীর কূটনীতি

১৪

ওয়ালটনে চাকরির সুযোগ, পাবেন একাধিক সুবিধা

১৫

ট্রেনের ধাক্কায় আধা কিলোমিটার দূরে ছিটকে পড়ল অটোরিকশা

১৬

বাড়ির পাশে খেলছিল ভাই-বোন, অতঃপর...

১৭

ক্ষুব্ধ নাগরিকরা, ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রীর বাড়িতে লুটপাট

১৮

দেড় ঘণ্টা ধরে পিটিয়ে মৃত ভেবে ফেলে গেল গ্রামবাসী

১৯

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে এনসিপি

২০
X