বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের হুমকির অভিযোগে রাজশাহীর নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (এনবিআইইউ) প্রক্টর এ জে এম নূর-ই-আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নূর-ই-আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রক্টরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনজন ছাত্র প্রতিনিধিসহ সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জানা গেছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফোনকল রেকর্ড ছড়িয়ে পড়েছে। রেকর্ডে নূর-ই-আলমের কণ্ঠ এবং অচেনা এক ব্যক্তির কণ্ঠ শোনা যায়। সেখানে বলা হয়েছে, আন্দোলনে অংশ নিলে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রেকর্ডটি প্রকাশিত হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। সোমবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা নগরের চৌদ্দপাই এলাকায় ক্যাম্পাসের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভও করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রক্টর নূর-ই-আলমের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বিবেচনা করে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে সদ্য বরখাস্ত হওয়া প্রক্টর এ জে এম নূর-ই-আলম দাবি করে বলেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। অডিওটি এআই দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। আমি জুলাই আন্দোলনের পক্ষে ছিলাম, এর প্রমাণ আমার ফেসবুক আইডিতে পাওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের আগে থেকেই শিক্ষার্থীদের আইনি সেবা দিয়ে আসছেন। সাম্প্রতিক বরখাস্তবিষয়ক সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ চান, নইলে আইনের আশ্রয় নেবেন।
তবে তার ফেসবুক আইডিতে ঢুকে জুলাই আন্দোলনের পক্ষে বেশ কিছু স্ট্যাটাস দেওয়ার তথ্য মিলেছে।
প্রক্টরের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রথম সারিতে থাকা শিক্ষার্থী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তার পক্ষে ছিল কি না, সেটা বলা কঠিন। তবে অডিওটি আমাদের কাছে এআই দ্বারা তৈরি মনে হয়নি। আর তিনি ছাত্রজীবনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হল শাখা ছাত্রলীগের সেক্রেটারি ছিলেন।
মন্তব্য করুন