ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৪, ০১:৩৩ পিএম
আপডেট : ১২ মে ২০২৪, ০২:০৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সর্বজনীন পেনশন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন। ছবি : কালবলো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন। ছবি : কালবলো

গত ১৩ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত সর্বজনীন পেনশন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনকে 'বৈষম্যমূলক' আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদ ও বাতিলের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

রোববার (১২ মে) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবন সংলগ্ন স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে এই কর্মসূচির আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। কর্মকর্তাদের পাশাপাশি এতে বিভিন্ন শ্রেণির কর্মচারীরাও অংশ নেন।

এ সময় মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদেরকে "নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হোক"; "এক দেশে দুই নীতি মানি না মানবো না"; "স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কালো আইন চাপিয়ে দেয়া, মানিনা মানবো না"; "বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই"; "সর্বজনীন পেনশন স্কীম মানিনা মানবো না"; " ৭৩ এর আদেশে হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে"; ইত্যাদি সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা-কর্মচারীরা বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত সর্বজনীন পেনশনসংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপনের কারণে সারাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম হতাশা ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, এই প্রজ্ঞাপন কার্যকর হলে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা চরম বৈষম্যের শিকার হবেন। একই বেতন স্কেলের আওতাধীন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ভিন্ন নীতি সংবিধানের মূল চেতনার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

তারা আরও বলেন, এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর দুরভিসন্ধি রয়েছে কিনা সেটা ভেবে দেখা দরকার। যে মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা চতুর্থবার ক্ষমতায় এসে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সমাজও তার উন্নয়নযাত্রায় বিপুল উৎসাহ নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে বিদ্যমান সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের পথে ঠেলে দেওয়ার পুরনো কৌশল শুরু হয়েছে বলে আমরা মনে করি। অনতিবিলম্বে এই প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার সমাজের মধ্যে সৃষ্ট হতাশা ও অসন্তোষ লাঘব করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হকের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বক্তব্য দেন। এ সময়, বক্তব্য দিতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন অফিসের ব্যবস্থাপক মো. কামরুল হাসান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নিজস্ব পরিচয় রয়েছে, নিজস্ব সিন্ডিকেট রয়েছে, সিনেট রয়েছে। এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, এটি রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ অনুযায়ী পরিচালিত হয়। অতএব, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কখনোই যায় না। আমরা আশা করি, আমাদের কর্মকর্তা কর্মচারীদের দুঃখের এই ভাষা প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছবে এবং বৈষম্যমূলকে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হবে। যদি তা না হয় তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ঠিকই জানে যে, কীভাবে দাবি আদায় করতে হয়। আমাদের দাবি আদায়ের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার সব ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না।

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আব্দুল মোতালেব বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পেনশন সংক্রান্ত যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে সেটি আমাদের জন্য নয়। যারা ১ জুলাই থেকে কাজে যোগদান করবেন তাদের জন্য। আমরা এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি এবং এখানেই বছরের পর বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। এই বিশ্ববিদ্যালয় হল আমাদের প্রাণ, আমাদের চেতনা। আজকে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা এখানে বাস্তবায়ন করা হলে আমাদের চেতনায় আঘাত করা হবে এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হবে।

তিনি বলেন, এই নিয়ম বাস্তবায়িত হলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালযয়ের কোনো পার্থক্য থাকবে না। 'প্রত্যয়' নামে যে পেনশন স্কিম চালু করা হয়েছে এটি অবশ্যই সর্বজনীন নয়। এটি গতানুগতিক ধারায় একটি গোষ্ঠীকে নিষ্পেষিত করার ষড়যন্ত্র মাত্র। এটি বাস্তবায়ন করা হলে কোন মেধাবী লোক এই বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করতে আসবেন না। মেধাশূন্য হয়ে যাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অতএব আমরা চাই, টেনশন সংক্রান্ত এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার হোক।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক পেনশন সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি হয়। এতে বলা হয়, 'সকল স্বশাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ বা সমজাতীয় সংস্থা এবং উহাদের অধীন অঙ্গপ্রতিষ্ঠানসমূহের চাকরিতে যেসব কর্মকর্তা বা কর্মচারী, তাহারা যে নামেই অভিহিত হউন না কেন ১ জুলাই ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ তারিখ ও তৎপরবর্তী সময়ে নতুন যোগদান করিবেন, তাহাদের সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনার আওতাভুক্ত করিল।'

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগে পরিবর্তন এনে পরিপত্র জারি

সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ দ্রুত পাসের দাবি আহছানিয়া মিশনের

ক্ষমতায় গেলে কেরু অ্যান্ড কোং-সহ সব কারখানা সচল করা হবে : জামায়াত আমির

যুব সমাজ ও নতুনরা ভোটের চিত্র বদলে দেবে : তুলি

নির্বাচনের ফলাফল না নিয়ে আমরা কেউ বাড়ি ফিরব না : আবু আশফাক

ধানের শীষের প্রচারণায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের কমিটি গঠন

টেকনাফে পাহাড় থেকে ৬ কৃষককে অপহরণ

তারেক রহমানের গাড়ি থামিয়ে কী বললেন তরুণী

হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে কেউ আমন্ত্রিত ছিলেন না, দাবি কলেজ কর্তৃপক্ষের

বিজয় থালাপতি এখন বিপাকে

১০

মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে যে নতুন ঘোষণা দিল যুক্তরাষ্ট্র

১১

নির্বাচন ও ডিজিটাল বাস্তবতা নিয়ে ‘ইয়ুথ ভয়েস অব বাংলাদেশ’ চট্টগ্রাম সিটির প্রস্তুতি সভা

১২

সাংবাদিকদের ওপর হামলায় আরও এক আসামি গ্রেপ্তার 

১৩

সুর নরম আইসিসির

১৪

অরিজিতের বড় ঘোষণা, হতবাক সংগীতপ্রেমীরা

১৫

অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএর হাতে

১৬

পল্টনে শিশু নির্যাতনের বিষয়ে আদালতকে যা বললেন পবিত্র কুমার

১৭

নুরুদ্দিন অপুর ধানের শীষকে সমর্থন জানালেন ৩ শতাধিক আ.লীগের নেতাকর্মী

১৮

সিজিএস আয়োজিত নীতি সংলাপ / বৈদেশিক নীতির বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যে পৌঁছানোর তাগিদ

১৯

দুপক্ষের তুমুল সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৫

২০
X