নাম সাবিহা। অক্ষয় কুমার, আয়েশা জুলখাদের সমসাময়িক কালে বলিউডে পথচলা শুরু। একসঙ্গে সিনেমাও করেছেন তারা।
সাবিহার বাবা-মা দু’জনেই বলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রী। তাঁর নিজেরও বলিউডে অভিষেকটা হয়েছিল এক সুপারস্টারের নায়িকা হিসাবে। তারপরও বলিউড জগতে নিজের ক্যারিয়ারটা লম্বা করতে পারেনি এই অভিনেত্রী। কিছুটা ভাগ্য দোষে আর বাকিটা পরিস্থিতির কারণে তিনি এতটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েন যে, সিনেমার দুনিয়া ছেড়ে অন্য পেশা বেছে নিতে বাধ্য হন তিনি।
বলিউডের সাড়া জাগানো সুপারহিট ছবি ‘খিলাড়ি’তে অভিনয় করেছিলেন তিনি। সাবিহা সেই খিলাড়ি ছবির দ্বিতীয় মূল চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। অর্থ্যাৎ ছবির আরও এক নায়িকা ছিলেন তিনি। ছবিটি অক্ষয় কুমারের অভিনয় জীবনটাই বদলে দেয়। অক্ষয়ের সঙ্গে ওই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন আয়েশা এবং দীপক তিজোরি।
খিলাড়ি শুধু অক্ষয়কে নয়, ছবির অন্য নায়ক-নায়িকাদেরও জনপ্রিয় করে তুলেছিল। শুধু সাবিহার ভাগ্যের চাকাই ঘুরেনি। খিলাড়ি বক্স অফিসে বিপুল সাফল্য পেলেও সাবিহার হাতে তেমন কোনো ছবির প্রস্তাব আসেনি।
অথচ খিলাড়ি মুক্তি পাওয়ার ঠিক চার বছর আগে পরিস্থিতি ছিল একেবারে উল্টো। মাত্র ১৫ বছর বয়সে সাবিহার প্রথম ছবি মুক্তি পায়। ‘আনোখা রিস্তা’ নামক ছবিতে রাজেশ খান্নার নায়িকা ছিলেন তিনি।
গ্ল্যামারে ভরপুর এক কিশোরী দর্শকদের মন জিতে নিয়েছিলেন। সেই জনপ্রিয়তা দেখে প্রযোজকদের ভিড়ও বেড়েছিল অভিনেত্রীর দরজায়।
‘আনোখা রিস্তা’ মুক্তির কিছু দিন পর সাবিহার মা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ছবির শুটিং চলাকালীন তাঁর মেয়ের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছেন ছবির সুপারস্টার নায়ক রাজেশ খান্না।
এই অভিযোগ নিয়ে কিছুদিন হইচই হয়। কিন্তু শেষপর্যন্ত রাজেশ খান্না বিতর্ক এড়িয়ে বেরিয়ে গেলেও সাবিহার অভিনয় জীবন শুরু হতে না হতেই যেন থমকে যায়।
যে সাবিহা তাঁর প্রথম ছবি মুক্তির পর প্রযোজকদের জন্য সময় বার করতে পারছিলেন না, তাঁর হাত থেকেই ধীরে ধীরে উধাও হতে থাকে ছবির প্রস্তাব। প্রযোজকদের আগ্রহ যেন হঠাৎ করেই ভাটা পড়ে যায়।
যদিও তাতে হাল ছাড়েননি সাবিহা। প্রায় চার বছর বলিউডের মাটি কামড়ে পড়েছিলেন। ১৯৯৫ সালে সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে ‘জয় বিক্রান্ত’ নামে একটি ছবিতে অভিনয় করে অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারে ইতি টানেন সাবিহা। চাকরি নেন সৌদি এয়ারলাইন্সে।
আরও পড়ুন: জায়েদ খানের জাতিসংঘের পুরস্কার পাওয়ার খবর ভুয়া
১৯৭২ সালের ৯ অক্টোবর মুসলিম পরিবারে জন্ম সাবিহার। বিয়ে করা হয়নি প্রাক্তন বলিউড অভিনেত্রীর। প্রচারের আলো থেকে অনেক দূরে এখন মুম্বাইয়ে থাকেন তিনি। নিজের জগতে মাকে নিয়েই সময় কাটে তাঁর।
সাবিহার মা অমিতা ছিলেন পঞ্চাশের দশকের সেরা নায়িকাদের একজন। বাবা কামরান প্রথম জীবনে জনপ্রিয় অভিনেতা ছিলেন। পরে তিনি ছবি পরিচালনার কাজও শুরু করেন।
মন্তব্য করুন