

টালিউডের ‘ইন্ডাস্ট্রি’ তিনি। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজত্ব করছেন বাংলা সিনেমার পর্দায়। তিনি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সম্প্রতি এক আড্ডায় নিজের সহঅভিনেত্রীদের নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন এই সুপারস্টার। ঋতুপর্ণা থেকে জয়া আহসান, রাইমা সেন থেকে ঐশ্বরিয়া রাই—কারও কথাই বাদ গেল না তার জবানবন্দিতে। তবে প্রশংসার ফাঁকে ফাঁকে বেরিয়ে এলো অনেক অজানা গল্প, ভয় আর মজার সব তথ্য।
সুদীপ্তাকে ভয় পান ‘বুম্বাদা’! শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি, পর্দায় দাপুটে সব চরিত্রে অভিনয় করা প্রসেনজিৎ নাকি এক অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ করতে রীতিমতো ভয় পান! তিনি আর কেউ নন, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী। প্রসেনজিতের ভাষায়, ‘এই একজন অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ করতে আমার সিরিয়াসলি ভয় লাগে। আমি ওকে ঈর্ষাও করি।’
অভিনেতার ব্যাখ্যা, সুদীপ্তা কখন কীভাবে ডেলিভার করবেন, তা আগে থেকে বোঝা মুশকিল। ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’ সিনেমার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, শুটিংয়ের মাত্র ৩-৪ দিন আগে বাবাকে হারিয়েছিলেন সুদীপ্তা। অথচ সেটে বাবার মৃতদেহের সামনে কান্নার দৃশ্যে তিনি এমন অভিনয় করেছিলেন যে, ইউনিটের সবাই বাস্তবে কাঁদতে শুরু করেছিলেন।
পুরো টালিউড জানে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের দেরি করে আসার অভ্যাসের কথা। প্রসেনজিৎ সেই বিষয়টিকেই কটাক্ষের সুরে বললেন, ‘ঋতুপর্ণা ভীষণ টাইমে আসে! সকাল ১০টা বললে মোটামুটি রাত ১০টার মধ্যে ঢুকে পড়ে।’
অন্যদিকে রাইমা সেনকে নিয়ে মজার তথ্য দিলেন তিনি। বললেন, ‘রাইমা একেবারে শিশু বাচ্চাদের মতো। একটু বকলেই কেঁদে দেয়। তবে কেঁদেটেদে ও যে শটটা দেয়, সেটা দারুণ।’
‘দিদি নম্বর ওয়ান’ খ্যাত রচনা ব্যানার্জির পেশাদারিত্ব নিয়ে উচ্ছ্বসিত প্রসেনজিৎ। তিনি জানান, রচনার মতো প্রফেশনাল তিনি খুব কম দেখেছেন। রচনার একটি অদ্ভুত নিয়মের কথাও ফাঁস করলেন তিনি। বললেন, “সন্ধে ৭টার পর রচনাকে কেউ এক ফোঁটা জলও খাওয়াতে পারবে না। ও ভীষণ নিয়ম মেনে চলে। তবে শুটিংয়ে টিফিন ক্যারিয়ার ভর্তি খাবার নিয়ে আসা রচনার পুরোনো অভ্যাসের কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি।
অন্যদিকে দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান সম্পর্কে প্রসেনজিৎ বলেন, জয়া প্রচুর রসগোল্লা খায়, কিন্তু আশ্চর্যভাবে তার গায়ে একটুও চর্বি জমে না! জয়াকে তিনি ‘ভেরি ক্যালকুলেটিভ’ ও ‘প্রস্তুত অভিনেত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অন্যান্য নায়িকাদের কিসসা শ্রাবন্তীকে তিনি ছোটবেলা থেকেই চেনেন। তার মিমিক্রি করার ক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন অভিনেতা। পাওলি দাম সম্পর্কে বলেন, সিরিয়াস চরিত্রের বাইরে পাওলি কমেডিতেও দুর্দান্ত হতে পারেন, যা অনেকেই জানেন না। এছাড়া অপরাজিতা আঢ্য সেটে ঢুকলেই একটা আলাদা ‘গ্লো’ বা ইতিবাচক আভা তৈরি হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সবশেষে, ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’ যদি আবার তৈরি হয়, তবে নিজের চরিত্রে আজকের প্রজন্মের কাকে দেখতে চান? এমন প্রশ্নে কৌশলী উত্তর দেন প্রসেনজিৎ। দেব, জিৎ, অঙ্কুশ বা বনি—সবাইকে মিলিয়ে একটি মাল্টিস্টার কাস্টের ইচ্ছাই প্রকাশ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন