কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:১৫ পিএম
আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:১৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ভারত

মাতৃদুগ্ধে মিলেছে ইউরেনিয়াম, দাবি গবেষকদের

মায়ের কোলে শিশু। ছবি : সংগৃহীত
মায়ের কোলে শিশু। ছবি : সংগৃহীত

স্তন্যদানকারী মায়েদের দুধে বিপজ্জনক মাত্রার ইউরেনিয়াম শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় এমন উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দূষণ শিশুদের জন্য অ-ক্যানসারজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

রোববার (২৩ নভেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহারে এ গবেষণা চালানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, অখিল ভারতীয় আয়ুর্বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান (এআইআইএমএস) দিল্লির অধ্যাপক এবং গবেষণার সহলেখক ডা. অশোক শর্মা এএনআইকে জানান, ৪০ জন স্তন্যদানকারী মায়ের দুধ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতিটি নমুনাতেই ইউরেনিয়াম রয়েছে। প্রায় ৭০ শতাংশ শিশু সম্ভাব্য অ-ক্যানসাজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকির আওতায় পড়লেও, সামগ্রিক ইউরেনিয়ামের মাত্রা অনুমোদিত সীমার নিচে ছিল। ফলে বাস্তবিক প্রভাব খুব বেশি হওয়ার সম্ভাবনা কম।

গবেষণায় দেখা গেছে— সর্বোচ্চ গড় দূষণ খাগাড়িয়া জেলায়। এছাড়া এককভাবে সর্বোচ্চ মাত্রা পাওয়া গেছে কাটিহার জেলায়। ইউরেনিয়াম-দূষিত দুধ দীর্ঘমেয়াদে শিশুদের যে ক্ষতি করতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে— কিডনি গঠনে ব্যাঘাত, স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব এবং বুদ্ধিমত্তা হ্রাসসহ বিভিন্ন মানসিক ও জ্ঞানীয় সমস্যা।

ডা. শর্মা জানান, যে মাত্রায় ইউরেনিয়াম পাওয়া গেছে, তা বাস্তবে গুরুতর প্রভাব ফেলবে এমন সম্ভাবনা কম। ইউরেনিয়ামের অধিকাংশই মায়ের শরীর থেকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়, দুধে ঘনীভূত হয় না। তাই চিকিৎসাগত প্রয়োজন না হলে স্তন্যদান বন্ধ করার কোনো কারণ নেই।

তিনি জানান, অন্যান্য রাজ্যেও ভারী ধাতু শনাক্ত করতে একই ধরনের গবেষণা করা হবে, কারণ মানবদেহে এদের প্রভাব বোঝা এখন অত্যন্ত জরুরি।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের ১৮ রাজ্যের প্রায় ১৫১টি জেলায় ভূগর্ভস্থ জলে ইউরেনিয়াম দূষণ রিপোর্ট হয়েছে। শুধু বিহারেই প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানির উৎসে ইউরেনিয়াম পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরেনিয়াম স্বাভাবিকভাবে শিলা এবং মাটিতে থাকে এবং ভূগর্ভস্থ জলে মিশে যেতে পারে। পাশাপাশি—খনি, কয়লা জ্বালানো, পারমাণবিক শিল্প, ফসফেট সার ব্যবহারের ফলে দূষণ আরও বাড়তে পারে।

গবেষকরা জানান, পূর্ববর্তী গবেষণায় মায়ের দুধে আর্সেনিক, সিসা, ও পারদের উপস্থিতি ধরা পড়েছিল। ভবিষ্যতে কীটনাশকসহ অন্যান্য পরিবেশ দূষকের উপস্থিতিও পরীক্ষা করা হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে বিতর্ক: শেয়ার মালিকানা প্রকাশের দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নাসির-তামিমার ভাগ্য নির্ধারণ আজ, দোষ প্রমাণিত হলেই ভয়ঙ্কর পরিণতি

‘ফিল্মি স্টাইলে’ হামলা চালিয়ে পুলিশের হাত থেকে আসামি ছিনতাই

অবশেষে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা-দাফনের সময় জানাল ইরান

বিশ্বকাপের আগেই সুসংবাদ / নেইমারকে নিয়ে ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তির বার্তা

মাঝ আকাশে বিমানের জানালার কাচ ভাঙলেন যাত্রী!

আলভারেজকে নিয়ে রিয়ালের ‘মেগা বিড’, প্রত্যাখ্যানের ঘোষণায় চমকে দিল অ্যাটলেটিকো 

সম্পদ-দলীয় প্রতীক সবই হারাচ্ছেন মমতা!

বিমান বাহিনীর ১৩১তম জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ কোর্সের সনদপত্র বিতরণ

চিকিৎসকদের নিয়ে সাংবাদিক মাসুদ কামালের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ড্যাব

১০

সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় চোখে আলো ফিরেছে ৮৪ জনের

১১

বাজেটে মোবাইল, বিদ্যুৎ ও প্রযুক্তিপণ্যে বড় সুখবর

১২

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৩

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় দেশের পতাকা থাকুক সবার উপরে

১৪

গাজায় সহিংসতার দায়ে ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রীর ওপর ফ্রান্সের নিষেধাজ্ঞা

১৫

ঢাকায় নিখোঁজ জবি শিক্ষার্থীর বাবা, সন্ধান চায় ছেলে

১৬

নতুন রিসাইক্লিং উদ্যোগ / ৯০ শতাংশর বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য কমিয়েছে সিঙ্গার বাংলাদেশ

১৭

সরকারি বাঙলা কলেজে অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা

১৮

বাংলার নদী, বাংলার জীবন : ইতিহাস থেকে বর্তমান অবস্থা

১৯

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২০
X