শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩৩
কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৫:৩০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

হঠাৎ হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া কীসের ইঙ্গিত? যা বলছেন চিকিৎসক

ছবি : এআই দিয়ে তৈরি
ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

হঠাৎ বুকের ভেতর হৃৎপিণ্ড যেন অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত ধকধক করতে শুরু করল! মুহূর্তেই ঘাম, মাথা ঘোরা, বুক ধড়ফড় আর এক ধরনের ভয়াল আতঙ্কে ভরে উঠল মন— আমাদের চারপাশে অনেকেই এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এটি কি শুধুই মানসিক চাপ বা প্যানিক অ্যাটাকের ফল, নাকি আসলে হৃৎপিণ্ডের কোনো গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত— যেমন অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন। দুটির প্রাথমিক লক্ষণ অনেকটাই মিল থাকায় সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে যান। অথচ চিকিৎসা এবং সতর্কতার গুরুত্ব দুটো ক্ষেত্রে ভিন্ন। চিকিৎসকরা বলছেন, এ সময় হালকাভাবে না নিয়ে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে আসল কারণ বের করা অত্যন্ত জরুরি।

চিকিৎসকের ব্যাখ্যা

ভারতের মণিপাল হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান ও কনসালট্যান্ট ডা. কেশব আর বলেন, প্যানিক অ্যাটাক ও অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন উভয়ের ক্ষেত্রেই দ্রুত হৃদস্পন্দন, মাথা ঘোরা ও ভয়ের অনুভূতি থাকতে পারে। তবে পার্থক্য হলো, অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন হৃৎপিণ্ডের অস্বাভাবিক ছন্দ, যা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। আর প্যানিক অ্যাটাক মানসিক চাপের প্রতিক্রিয়া।

অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন

এটি হলো হৃৎপিণ্ডের অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক সংকেতের কারণে হৃৎস্পন্দনের অনিয়ম ও দ্রুততা। সাধারণত বয়স্ক মানুষ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা স্ট্রোকের ইতিহাস রয়েছে এমন ব্যক্তিদের বেশি দেখা যায়।

প্রাথমিক লক্ষণ

১. দ্রুত বা অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন

২. মাথা ঘোরা, বমিভাব

৩. ক্লান্তি

৪. শ্বাসকষ্ট

যে কারণে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন

অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন উপেক্ষা করলে স্ট্রোক, হার্ট ফেইলিওর বা বাম কক্ষ দুর্বল হওয়ার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

প্যানিক অ্যাটাক

এটি হঠাৎ অত্যধিক ভয় বা আতঙ্কের আক্রমণ, যা কয়েক মিনিটের মধ্যে তীব্র হয়। সাধারণত মানসিক চাপ, পরীক্ষা, আবেগগত সমস্যা বা কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই এটি ঘটতে পারে।

প্রাথমিক লক্ষণ

১. দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন ২. মাথা ঘোরা, হালকা মাথা লাগা ৩. ঘাম, কাঁপুনি, বুকে ব্যথা ৪. আতঙ্ক বা নিয়ন্ত্রণ হারানোর অনুভূতি

ডা. কেশব আর আরও বলেন, বারবার দ্রুত হৃৎস্পন্দন হওয়া মানেই এটি অ্যানজাইটি নয়। অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন গুরুতর এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি করে, তাই তা দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। তার দাবি, প্যানিক অ্যাটাক প্রাণঘাতি নয়, তবে জীবনযাত্রার মানকে প্রভাবিত করতে পারে এবং প্রয়োজনে থেরাপি, স্ট্রেস কমানো বা ওষুধ নেওয়া যেতে পারে।

মোটকথা

হঠাৎ বা নিয়মিত দ্রুত হৃৎস্পন্দন হওয়া কখনোই হালকাভাবে নেওয়ার বিষয় নয়। লক্ষণগুলো প্যানিক অ্যাটাক বা অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন যেকোনো একটি হতে পারে। তাই প্রথম ধাপ হলো চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইসিজি বা ইকোর মতো অন্যান্য টেস্ট করা। দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা নিলে গুরুতর জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ওয়ারী পাস্তা ক্লাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, দগ্ধসহ আহত ৮

‘মেয়েদের মাস্টার্স পর্যন্ত পড়ালেখা ফ্রি করবে জামায়াত’

শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বিএনপি নেতা মাহাবুবের জামায়াতে যোগদান

আগামীর জন্য বিনিয়োগ : সিঙ্গার বাংলাদেশের নতুন যুগ

মদিনায় ২১ লাখ বৃক্ষরোপণ করল সৌদি সরকার

এবার নিশিরাতে নির্বাচন করতে দেব না : তারেক রহমান

ফ্ল্যাট থেকে জনপ্রিয় অভিনেত্রীর মরদেহ উদ্ধার, গৃহকর্মী পলাতক

গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ : হাবিব

যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে যাচ্ছে শক্তিশালী ‘বোম্ব সাইক্লোন’

পিটিয়ে মানুষ হত্যাকারীদের কাছে বাংলাদেশ নিরাপদ নয় : গোলাম পরওয়ার

১০

প্রেমিক বিবাহিত, সন্তানও আছে! গোপন তথ্য ফাঁস করল চ্যাটজিপিটি

১১

টেলিগ্রামে গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারকারী গ্রেপ্তার

১২

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের

১৩

নেদারল্যান্ডসে প্রযুক্তি খাতে বছরে ৪০ হাজার কর্মীর চাহিদা, সম্ভাবনায় বাংলাদেশ

১৪

ইরানে হামলায় নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না আজারবাইজান

১৫

‘বি’ ইউনিটের মাধ্যমে শেষ জবির ভর্তি পরীক্ষা

১৬

ক্ষমতার রাজনীতি করতে আসিনি : মান্নান

১৭

ঘুম থেকে উঠে মানুষ নাম নেয় আল্লাহর, একজন নেন আমার : মির্জা আব্বাস

১৮

প্যারাডাইস ল্যান্ডের ‘আশুলিয়া আরবান সিটি’র শুভ উদ্বোধন

১৯

নিজের ছাড়া অন্যের ভোটের দিকে হাত বাড়াবেন না : জামায়াত আমির

২০
X