কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:৪১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

শেরপুর-ময়মনসিংহ-নেত্রকোনায় এখনো পানিবন্দি ৬৩ হাজার পরিবার

শেরপুর-ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা এখনো পানিবন্দি। ছবি : সংগৃহীত
শেরপুর-ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা এখনো পানিবন্দি। ছবি : সংগৃহীত

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বেড়ে ময়মনসিংহ, শেরপুর ও নেত্রকোনায় সৃষ্ট বন্যায় এ পর্যন্ত দুই লাখ ৩৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এখনো ৬৩ হাজার ১৭১ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় আছে। এ বন্যায় এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর তাদের হাতে এসেছে। এর মধ্যে ৮ জন শেরপুরের এবং ২ জন ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা ছিলেন।

বুধবার (০৯ অক্টোবর) বিকালে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে বন্যা পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরেন অতিরিক্ত সচিব মো. আলী রেজা।

তিনি বলেন, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনার ১৩টি উপজেলা এবারের বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছ ৭৩টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা। মোট ৬৩ হাজার ১৭১টি পরিবার বন্যার কারণে পানিবন্দি হয়ে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্য ২ লাখ ৩৮ হাজার ৩৯১ জন। পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে আশ্রয় দিতে মোট ১৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। মোট ১ হাজার ৩৩৭ জন সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই পেয়েছ ৫৬১টি গবাদি পশু। বন্যা পরিস্থিতির ক্রমে উন্নতি হচ্ছে।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, তিন জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা দিতে মোট ২০টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। এ ছাড়া, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত তিন জেলায় ত্রাণ হিসেবে ৭২ লাখ টাকা, ৪ হাজার ৪০০ টন ত্রাণের চাল, ৭ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া শিশুখাদ্য বাবদ ১৫ লাখ এবং গো-খাদ্য বাবদ ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের উজানে পাহাড়ি ঢলে আগস্টের মাঝামাঝিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার পর সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে টানা ভারি বৃষ্টিতে রংপুর, নীলফামারীসহ উত্তরের নিম্নাঞ্চলে বন্যা হয়েছে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহজুড়ে এমন বৃষ্টিপাতে নদীর পানি বেড়ে ডুবেছে ময়মনসিংহ বিভাগের তিন জেলা।

এদিকে টানা ৬ দিন পর ময়মনসিংহ ও শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করলেও পুরোপুরি কমেনি দুর্ভোগ। বৃষ্টি ও উজানের ঢল কমায় বুধবার ভোর থেকে পানি নামতে শুরু করলেও ধীরগতির কারণে ভোগান্তি। নেত্রকোনায় এখনো পানিবন্দি লক্ষাধিক। পানি নামায় স্পষ্ট হচ্ছে দুর্গত এলাকাগুলোর ক্ষয়-ক্ষতির চিহ্ন। পানি কমলেও এখনো কমেনি বানভাসীদের দুর্ভোগ। দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে চর্ম ও পানিবাহিত রোগের প্রকোপ। সংকট খাবার ও সুপেয় পানির।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বুধবার বলছে, ময়মনসিংহ বিভাগের জিঞ্জিরাম, ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইলেও পানির সমতল এখন হ্রাস পাচ্ছে। আগামী তিন দিন ময়মনসিংহ বিভাগ ও তৎসংলগ্ন উজানে অতিভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম থাকায় এই সময়ে ওই তিন নদীর পানি আরো কমবে এবং নেত্রকোনাণা জেলার সোমেশ্বরী ও জামালপুর জেলার জিঞ্জিরাম নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে ধারণা করছে পূর্বাভাস কেন্দ্র।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জাকাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব : ধর্ম উপদেষ্টা 

দল থেকে ফোন করে বলে ‘মন্ত্রীত্ব দেব, আসন ছেড়ে দিন’ : রুমিন ফারহানা

আইসিসির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মিটিং শেষে যা জানাল বিসিবি

কঠিন বিপদ থেকে মুক্তির দোয়া ও আমলসমূহ

নিজেই রান আউট করলেন নিজেকে!

পুরান ঢাকায় কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৪ ইউনিট

চট্টগ্রামে জুলাইযোদ্ধা হাসনাত আব্দুল্লাহর ওপর হামলায় জামায়াতের উদ্বেগ 

বাকি ৪৭ আসনে প্রার্থী দেওয়া নিয়ে যা জানাল জামায়াত

ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন

ইন্দোনেশিয়ায় ১১ আরোহীসহ বিমান নিখোঁজ

১০

রূপগঞ্জে পিঠা উৎসব ঘিরে জনসমাগম

১১

তারেক রহমানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

১২

বিএনপিতে যোগ দিলেন জাপা প্রার্থীর নেতৃত্বে হাজারো নেতাকর্মী

১৩

বিজেপির উন্নয়নে জেন-জিদের আস্থা রয়েছে : মোদি

১৪

জাকাত হিসাবের জটিল বিষয় সমাধানে রাজধানীতে বিশেষ সেমিনার

১৫

জ্বর ও মাথাব্যথা থেকে মুক্তির দোয়া

১৬

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন

১৭

‘এলিট রেকর্ড’ গড়লেন ওয়ার্নার, তার আগে মাত্র দুজন

১৮

কাজী অনিকের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস তারেক রহমানের

১৯

টি-২০ বিশ্বকাপ জিতলে ইতিহাসের যে ৩ রেকর্ড হবে ভারতের

২০
X