কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৫০ পিএম
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:২৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
হিন্দু নেতাদের আহ্বান

নিজ নিজ উপাসনালয় ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সম্প্রীতির কথা বলুন

ছবি : কালবেলা
ছবি : কালবেলা

দেশে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে নিজ নিজ উপাসনালয় ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বছরজুড়ে সম্প্রীতির কথা বলতে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানসহ সব ধর্মের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন হিন্দুধর্মীয় নেতারা।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তারা এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সমাজ ও রাষ্ট্রে বিদ্যমান বৈষম্য নিরসনের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়।

বাংলাদেশ সনাতন পার্টির (বিএসপি) উদ্যোগে ‘আসন্ন দুর্গাপূজার নিরাপত্তা, অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর : বৈষম্যমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাষ্ট্রের করণীয়’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়।

অনুষ্ঠানে গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই এ দেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হচ্ছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। কিন্তু আমরা বেশিদূর এগোতে পারিনি। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে থেকে আমরা ধর্মীয় অনুষ্ঠান করতে চাই না, আমরা জনগণের সমর্থন নিয়ে নিরাপদে শারদীয় দুর্গাপূজাসহ সব পূজা-পার্বণ পালন করতে চাই।

জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার বলেন, সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া এ দেশের মানুষের মুক্তি নেই। এবারের দুর্গাপূজায় সরকারের পক্ষ থেকে ৫ কোটি টাকার অনুদান দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, বিদ্যমান বৈষম্য একদিনে জন্ম নেয়নি। দীর্ঘদিন ধরে তা চলে আসছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়তে হলে, বাংলাদেশকে নতুন করে বিনির্মাণ করতে হলে বিদ্যমান বৈষম্য নিরসন করতে হবে। সবাই মিলে একটি মানবিক ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংখ্যালঘুবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ মকবুল হুসেইন বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি যখন সংসদে যাবে, তখন তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথও সুগম হবে। পিআর পদ্ধতিতে আগামী জাতীয় নির্বাচন হলে এবং দেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ৮ শতাংশ হলে তারা ২৪টির মতো আসন পাবে।

তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে, আমরা এমন রাষ্ট্রই চাই। বাংলাদেশকে সেভাবেই নতুন করে বিনির্মাণ করতে হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষা ফোরামের সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন খান বলেন, নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা সম্পন্নে নিরাপত্তার দাবি জানানো হচ্ছে। আমি বলব, এটা দাবি নয়, এটা তাদের অধিকার। তিনি বলেন, ইসলাম ধর্ম সঠিকভাবে প্রতিপালিত হলে সেখানে সাম্প্রদায়িকতা থাকার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের (একাংশ) নির্বাহী মহাসচিব পলাশ কান্তি দে বলেন, শুধু সংখ্যালঘু নয়, প্রতিটি মানুষই যাতে এ দেশে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এজন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ন্যাশনাল কংগ্রেস বাংলাদেশ-এনসিবির চেয়ারম্যান কাজী ছাব্বীর বলেন, সারা দেশে প্রতিমা ভাঙচুরের একটি ঘটনারও আজ পর্যন্ত বিচার হয়নি। বিচার হলে এ ধরনের ঘটনা ঘটত না। এখানে মসজিদে আজান হবে, মন্দিরেও ঘণ্টা বাজবে—এটাই সম্প্রীতি।

অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ সনাতন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায় বলেন, ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর এ দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় স্বপ্ন দেখেছিল ছাত্র-জনতার রক্তের মধ্য দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে। সেই বাংলাদেশ হবে বৈষম্যমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বিগত সরকারগুলোর মতো অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায় উপেক্ষিত, নির্যাতিত, নিপীড়িত ও বৈষম্যের শিকার। তিনি আসন্ন দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তাসহ তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণার জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে অবিলম্বে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের চিন্ময় কৃষ্ণদাস ব্রহ্মচারীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

বাংলাদেশ সনাতন পার্টির উপদেষ্টা অধ্যাপক অশোক তরু সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান রিজু, আশেক্কীনে আউলিয়া ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান শাহ সুরেশ্বরী দিপু নূরী, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সহসভাপতি সুরঞ্জন ঘোষ, গরিব-দুঃখী জনতা পার্টির চেয়ারম্যান নিউটন অধিকারী, গণমুক্তি জোটের চেয়ারম্যান শাহরিয়ার ইফতেখার ফুয়াদ ও মহাসচিব আক্তার হোসেন, গণফোরামের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা, স্বদেশ বিচিত্রা পত্রিকার সম্পাদক কবি অশোক ঘোষ, ভক্তসংঘ সোসাইটি বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক অনিল চন্দ্র পাল, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি হারুন-অর-রশিদ, বাংলাদেশ হিন্দু মহাসংঘের সভাপতি পীযূষ দাস, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সনাতনী ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক শান্ত দাস প্রমুখ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জামায়াতে যোগ দিলেন গণঅধিকার পরিষদের শতাধিক নেতাকর্মী

রোজা শুরু কবে, জানালেন জ্যোতির্বিদরা

ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া অনন্য গাঙ্গুলীর মরদেহ উদ্ধার

তারেক রহমানই এ দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন : টুকু

ময়মনসিংহে হচ্ছে ৩৫ হাজার কোটি টাকার অলিম্পিক কমপ্লেক্স

ফেব্রুয়ারিতে এলপি গ্যাসের দাম বাড়বে না কমবে, জানা যাবে সোমবার

মুক্তিযোদ্ধা ভাতার টাকা বিতরণ নিয়ে শঙ্কা

অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বিজয়- রাশমিকা

যেসব জেলায় ব্যালট পেপার পাঠানো হচ্ছে

নুর ও মামুনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ

১০

সংঘাত এড়াতে ভিন্ন পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

১১

ঢাকা-৬ উন্নয়নের ভিত্তি গড়তে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ইশরাকের

১২

ইরানে হামলা করলে কী পরিণতি হবে যুক্তরাষ্ট্রের, জানালেন খামেনি

১৩

আপনার আমার সবার অধিকার সমান, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের হাবিব

১৪

প্রিপারেশন বেশ ভালো : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

১৫

বাসে বমি হয়? কীভাবে এটি কাটাতে পারবেন জানুন

১৬

নির্বাচনের পরই বোঝা যাবে জোটের পরিণতি কী হবে : নাহিদ

১৭

বিশ্বকাপ নিশ্চিত করল স্কটল্যান্ড

১৮

টানা ৪ দিন ব্যাংক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে, কবে থেকে শুরু?

১৯

ছবিতে কী দেখছেন, মাছ নাকি অন্য কিছু? উত্তরই বলে দেবে আপনার মস্তিষ্ক কেমন

২০
X