

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটে ‘ক্যান্সার সচেতনতা: স্বাস্থ্যই সম্পদ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে কানসাট ‘রাজবাড়ির’ পাশে সাইফুদ্দিন মেমোরিয়াল ফাযিল মাদ্রাসার হলরুমে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ ।
ক্যান্সার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ সেমিনার আয়োজন করে এসকেএফ (ESKAYEF) ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বগুড়া টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. যোবায়ের ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমানে ক্যান্সার একটি জাতীয় সমস্যা। দিন দিন ক্যান্সার বেড়েই চলেছে। দেশের জনগণের ভেতর ক্যান্সারের ঝুঁকি ও উপসর্গগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। জনগণ যদি সচেতন হয়, তাহলে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যাবে। এমনকি ক্যান্সার যদি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরাও পড়ে তবুও চিকিৎসা করে সুস্থ করে তোলা সম্ভব হবে। সেই আশা নিয়েই জনগণের মধ্যে ক্যান্সার বিষয়ক এ সচেতনতা প্রোগ্রাম শুরু করেছি।
উল্লেখযোগ্য ঝুঁকিসমূহ নিম্নরূপ:
↗️ ধূমপান ও মদ্যপান ↗️ অস্বাস্থ্যকর খাবার ↗️ স্থূলতা ও ব্যায়ামের অভাব ↗️ রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ ↗️ নির্দিষ্ট কিছু ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া ↗️ পারিবারিক ইতিহাস ↗️ নির্দিষ্ট জিনের ত্রুটি ↗️ বয়স বৃদ্ধি ইত্যাদি
উল্লেখযোগ্য উপসর্গসমূহ নিম্নরূপ:
↗️ স্হায়ী কাশি বা স্বরভঙ্গি ↗️ কফের সঙ্গে রক্ত যাওয়া ↗️ শরীরের কোনো স্থানে গোটা বা টিউমার হওয়া ↗️ অস্বাভাবিক রক্তপাত বা স্রাব ↗️ কোনো ক্ষত বা ঘা না শুকানো ↗️ খাবার গিলতে বা হজম সমস্যা ↗️ হঠাৎ ওজন বা ক্ষুধা কমে যাওয়া ↗️ তিল বা ত্বকের দাগের পরিবর্তন ↗️ অতিরিক্ত দুর্বল বা ক্লান্তি ↗️ পায়খানা বা প্রসাবের অভ্যাসে পরিবর্তন ইত্যাদি
সুতরাং আমাদের করণীয়
↗️ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য পরিহার করা ↗️ প্যাসিভ স্মোকিং এড়িয়ে চলা ↗️ বায়ুদূষণ ও শিল্পকারখানার ক্ষতিকর রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ ↗️ স্বাস্হ্যকর জীবন যাপন ↗️ নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ে অংশগ্রহণ ↗️ নিয়মিত ক্যান্সার প্রতিরোধক টিকা গ্রহণ ↗️ স্বাস্থ্যকর খাবার (ফল, শাকসবজি, ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার) খাওয়া ↗️ লাল মাংস ও ফাস্টফুড কম খাওয়া ↗️ নিয়মিত শরীরচর্চা করা ↗️ শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ↗️ যে কোনো সমস্যা দীর্ঘদিনের হলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা ইত্যাদি।
সেমিনারে আলোচক ডা. যোবায়ের ইসলাম বলেন, আমাদের অনেকের ভেতরে ক্যান্সারের ওপর একটা ভয় আছে। ক্যান্সার হয়ে গেলে আর বাঁচব না। কিন্তু আমরা ক্যান্সারের ওপর পড়ালেখা করি দেখেছি যে, ক্যান্সার যদি প্রথম দিকেই ধরা পড়ে তাহলে ক্যান্সারের চিকিৎসা করলে পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব। কিন্তু কিছু মানুষের ভেতর অসচেতনতা কাজ করে, অনেক সময় ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো না জেনে অথবা জানার পরও অনেকদিন ধরে কাশি, গলার স্বর পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। প্রস্রাব-পায়খানার সঙ্গে হয়তো একটু রক্ত যাচ্ছে। কফের সঙ্গে একটু রক্ত বের হলো এগুলো ক্যান্সারের লক্ষণ। এগুলো হলে মানুষ স্থানীয় ওষুধের দোকান থেকে কিছু ওষুধপত্র খেয়ে সাময়িক একটু সুস্থতা পায়। যার কারণে এটাকে গুরুত্ব দেয় না। আমরা যদি স্টেজ-১-এ ক্যান্সার ধরতে পারি তাহলে এটা ভালো করার শতকরা ৮০ থেকে ৯০ ভাগ সুযোগ রয়েছে। স্টেজ-২ এ ধরা পড়লে শতকরা ৬০ থেকে ৭০ ভাগ, স্টেজ-৩-এ ধরা পড়লে শতকরা ৩০ থেকে ৪০ ভাগ এবং স্টেজ-৪ এ শতকরা ১০ থেকে ১৫ ভাগ সুস্থ হওয়ার সুযোগ আছে। স্টেজ যত এগিয়ে যায় সুস্থ হওয়ার সুযোগ তত কমে যায়। কিন্তু মানুষ যদি সচেতন থাকে ক্যান্সারের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার প্রথম দিকেই চিকিৎসা শুরু করে তাহলে ভালো হওয়া সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, আজকের সেমিনারের উদ্দেশ্য ছিল প্রাথমিক উপসর্গগুলো কী, এগুলো মানুষের ভেতর জানানো যেমন ফুসফুস ক্যান্সারের ক্ষেত্রে ধূমপান বা দূষিত বায়ু, যক্ষ্মা বা সিওপিডি থেকে ফুসফুস ক্যান্সার ছড়িয়ে যেতে পারে।
মেয়েদের ব্রেস্ট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে পরিবারে কারও মা-বোন, খালা, মেয়ে, ফুপু, দাদি-নানি এদের যদি ব্রেস্ট ক্যান্সার থাকে তাহলে ঝুঁকি অনেক বেশি। সেই ক্ষেত্রে তারা ঘন ঘন ডাক্তারের কাছে স্ক্যানিং করবে। যদি হয় তাহলে দ্রুত ধরা পড়বে। তখন প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ব্রেস্ট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে মনোপোজ ১২ বছরের আগে মাসিক হওয়া বা ৫৫ বছরের পরে মাসিক বন্ধ হয়েছে তারাও ঝুঁকি বহন করে। এ ছাড়া ৩০ বছরের পরে মেয়েরা যত দেরিতে বাচ্চা নেবে তত বেশি ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকিতে পড়বে। এই জন্য বাচ্চা নেওয়ার ক্ষেত্রেও মেয়েদের সচেতন হতে হবে ব্রেস্ট ক্যান্সার রোধে।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান অতিথি কানসাট ইউপি চেয়ারম্যান সেফাউল মূলক, বিশেষ অতিথি মোবারকপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক হায়দারী, শ্যামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম ও এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের এসকেএফ অনকোলজি রাজশাহীর এরিয়া ম্যানেজার ওয়াহিদুজ্জামান সজীব প্রমূখ।
সেমিনারে অংশ নেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ।