

নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত যেসব রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তাদের অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস অফিসার্স ফোরাম।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংগঠনের সদস্য সচিব এবং সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ শরিফুল আলম।
তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রার্থিতা বাছাইপর্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। যদিও এটি প্রারম্ভিক ধাপ, তবে এ ধাপে যদি নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখোমুখি হয় তাহলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার অন্যান্য ধাপে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করা শুধু কঠিন হবে না, বাস্তবে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা দুরূহ হবে। প্রশাসন নিরপেক্ষতা হারালে প্রভাবশালী দল এবং তাদের প্রার্থীরা প্রশাসনকে সহজে প্রভাবিত করবে। অতীতে আমরা এটি বিভিন্ন নির্বাচনে দেখেছি।
সাবেক এই সচিব বলেন, প্রার্থিতা বাছাইপর্বে যেসব সমালোচনা এসেছে আমরা আশা করি নির্বাচন কমিশন সেগুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে আমলে নেবে। নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে যে নির্বাচনের সব প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হচ্ছে এবং জনগণ নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমকে বিশ্বাস করছে। যেসব রিটার্নিং অফিসারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে সেসব কর্মকর্তার পক্ষপাতিত্বপূর্ণ আচরণ আমলে নিয়ে তদন্ত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ নির্ভর করে আইন প্রয়োগকারীর নৈতিক চেতনা ও প্রতিশ্রুতির ওপর, কোনো টেকনিক্যাল ব্যাখ্যার উপর নয়। অনেকের প্রার্থিতা টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা দিয়ে বাতিল করা হয়েছে, যার কারণে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া বেশি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সচিব লিখিত বক্তব্যে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হলো- নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনী আইন প্রয়োগে পক্ষপাতহীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে কঠোর হতে হবে। ভোট-কারচুপি রোধ ও অন্যান্য অনিয়ম রোধে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে সিসি টিভি ক্যামেরা লাগাতে হবে। নির্বাচন কমিশনসহ নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিতে নির্বাচন কমিশন নির্দেশ প্রদান করবে। প্রয়োজনে এ বিষয়ে শিগগির একটি স্বতন্ত্র গাইড-লাইন প্রকাশ করবে।
শরিফুল আলম বলেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যে কারও বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ উত্থাপন হলে তদন্ত সাপেক্ষে তাকে কর্মস্থলে থেকে প্রত্যাহার এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কাজ থেকে বিরত করতে হবে। পরবর্তীতে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রমোশনের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। অভিযুক্তদের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনে চাকরিচ্যুত করতে হবে। নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশন অফিস, বিভাগীয় কমিশনার অফিস, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ‘অভিযোগ বার্তা’ রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জনসাধারণসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দুই-তিন দিন পরপর ব্রিফিং করবে।
তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সরকারের অঙ্গীকার নিশ্চিত করার স্বার্থে সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলী, বিশেষ সহকারীরা এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত অন্যান্য শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিতে হবে যে, তারা পরবর্তী সরকারের অংশ হবে না। এ জন্য সরকারকে এখনই প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস অফিসার্স ফোরাম থেকে বলা হয়, নির্বাচনকালে যারা জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পুলিশ সুপার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন, তাদেরকে নির্বাচন সমাপ্ত হবার এক সপ্তাহের মধ্যে লটারির মাধ্যমে অন্য কর্মস্থলে আবশ্যিকভাবে বদলি করতে হবে। এ জন্য এখনই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, প্রার্থিতা বাছাইয়ে বেশ কিছু প্রতিক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করছি। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের আবশ্যিকভাবে নিরপেক্ষ ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রার্থী বাছাই সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে সংক্ষুদ্ধ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে শরিফুল আলম বলেন, অনেকে দায়ী করছেন রিটার্নিং অফিসাররা নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারছেন না। গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে অনেক আলোচন সমালোচনা হচ্ছে, যা আমাদের উদ্বিগ্ন করেছে।
মন্তব্য করুন