যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত। বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট। ২০০৭ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হন এবং ২০০৯ সাল পর্যন্ত সেখানে কাজ করেন। তিনি সেপ্টেম্বর-২০১০ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সচিব পদে অবসর গ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসম্যানদের চিঠি ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নিয়ে কালবেলার সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এম এম মুসা।
কালবেলা : যুক্তরাষ্ট্রের ছয় কংগ্রেসম্যানের দুটি চিঠি নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ছয়জন সদস্যের একটি চিঠি এসেছে। এসব চিঠি বাংলাদেশের সরকারকে চাপে ফেলবে বলে মনে করেন কী?
এম হুমায়ুন কবির : বাংলাদেশের সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে সত্য। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ দরকার। উদ্যোগ দেখলে বিদেশিরা ভাববে, বিষয়টি একটি সমাধানের দিকে যাচ্ছে। কিন্তু এখনো সেরকম কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না বলেই ক্রমাগত চিঠি প্রদানের ঘটনা বেড়েই চলেছে। আন্তর্জাতিক সমঝোতায় এখন পর্যন্ত যেসব ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে তাতে বোঝা যাচ্ছে তারা মোটামুটি একটা সমন্বিত ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে। সেক্ষেত্রে বিষয়টি আরও জটিল হওয়ার আগেই আমাদের উদ্যোগী হতে হবে। চীনাদের কাছ থেকে যে বিবৃতিটা এসেছে তাতে মনে হচ্ছে মার্কিন ও চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে বাংলাদেশকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমরা নিজেরাও এ ধরনের দ্বন্দ্বের মধ্যে যেতে চাই বলে মনে হয় না। এটি আমাদের স্বার্থের জন্য অনুকূলও নয়। তারা নিজস্ব জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের তাদের সঙ্গে জড়িত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এ ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভেতরে আমরা যেন না পড়ি, সে বিষয়ে অত্যন্ত সচেষ্ট থাকা উচিত। নির্বাচন, রাজনীতি, মানবাধিকার প্রভৃতি বিষয়ে উন্নতিতে আমাদের দিক থেকে উদ্যোগ গ্রহণের যদি কোনো সুযোগ থাকে,তাহলে আরেকটু উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন।
কালবেলা :বাংলাদেশের সরকার এসব চিঠি আমলে নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে না। আপনার কী মত?
এম হুমায়ুন কবির : এ ব্যাপারে আমার মনে হয় বাইরের পৃথিবী সম্পর্কে আমাদের ধারণাটা সব সময় স্ব্চ্ছ থাকে না এবং সে কারণে তাদের ভাষাটা যথা উপযুক্তভাবে পড়তে পারি না। আমরা হয়তো মনে করছি যুক্তরাষ্ট্র তো আমাদের অংশ না, সুতরাং ভিসা না দিলেও কিছু আসে যায় না। কিন্তু ভিসা না দিলে সেটার যে প্রতিক্রিয়া বা প্রভাব সে বিষয়ে চিন্তা করা উচিত। আমাদের উন্নয়ন সহযোগী ও বন্ধুদের মাধ্যমেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির যাত্রা বজায় রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে তারা যদি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করে, তাহলে আমাদের জন্য তা নেতিবাচক প্রভাব বয়ে আনতে পারে। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারি। বিষয়টি আমাদের সবার উপলব্ধি করা দরকার। যদি এই চিঠিগুলো সত্যের ওপর ভিত্তি করে হয় এবং বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে হয়,তাহলে আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। সেক্ষেত্রে যদি কোনো ঘাটতি থাকে তা মেটাতে হবে।
কালবেলা : প্রত্যেকটা চিঠির ভাষায় কয়েকটি বিষয় উঠে এসেছে। তাদের একটি হচ্ছে মানবাধিকার, গুম-খুন আরেকটি হলো সুষ্ঠু নির্বাচন। বিদেশিরা কী চায় তা স্পষ্ট….
এম হুমায়ুন কবির : তারাই যে শুধু এমনটা চায়, ব্যাপারটা তা নয়। এটা বাংলাদেশের মানুষেরও প্রত্যাশা। এটি একটি বৈশ্বিক প্রত্যাশা। বাংলাদেশের মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখানো হবে, একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হবে—কেউই বলতে পারবে না এগুলো খারাপ দাবি। সে বিবেচনায় এই বিষয়গুলো যদি মনোযোগ আকর্ষণের মতো বিষয় হয়ে থাকে তাহলে আমরা সেখানে মনোযোগ দিই না কেন। এটা করলে আমাদেরই মঙ্গল।
কালবেলা : নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হঠাৎ করে পশ্চিমা দেশগুলোর পার্লামেন্ট সদস্যদের এমন চিঠি দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এটা নিয়ে আপনি কী ভাবছেন?
এম হুমায়ুন কবির : বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বড় ধরনের ঘাটতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে লেখালেখি বা আলোচনা হচ্ছে বহুদিন ধরে। যেহেতু এখন আরেকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে আসছে, এখন সেটাও যদি আগের মতো হয়, তাহলে পুরো ব্যবস্থার জন্য সেটা হুমকি তৈরি করতে পারে এমন একটা আশঙ্কা হয়তো তারা করছেন এবং এ কারণে তাদের বেশ উৎসাহী বলে মনে হচ্ছে। মূল বিষয়টি হলো আমাদের সমস্যাটা এখান থেকে উদ্ভূত। কাজে এখান থেকেই সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে। আমাদের এখানে যারা দায়িত্বশীল পর্যায়ে আছে তাদেরই এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। যা বলা হচ্ছে তা মনোযোগ দিয়ে শোনা দরকার।
মন্তব্য করুন