বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১
কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৩, ০৫:২৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

হুইল চেয়ারে বসেই স্বপ্ন দেখে মাহাথির

হুইল চেয়ারে বসে মাহাথির। ছবি : সংগৃহীত
হুইল চেয়ারে বসে মাহাথির। ছবি : সংগৃহীত

জন্ম থেকে স্বাভাবিক মানুষের দুটি পা ও দুটি হাত থাকলেও জন্মগতভাবে মাহাথির মোহাম্মদের দুই পা নেই। দুই হাত দিয়ে স্কুল-কলেজ পর্যায়ে ভালো ফলাফল করে এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা শেষে গুচ্ছের অন্তর্ভুক্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন হুইল চেয়ারে বসে।

হুইল চেয়ারে বসে আছেন মাহাথির, পেছনে মা জোসনা বেগম ঠেলে নিয়ে যাচ্ছেন পরীক্ষাকেন্দ্রে। কেন্দ্রে অভিভাবক ঢুকতে না পারায় রোভার স্কাউটের সেচ্ছাসেবীরা মাহাথির মোহাম্মদকে পৌছেঁ দিচ্ছেন পরীক্ষাকেন্দ্রে। ছেলেকে নিয়ে কতশত স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন জোসনা বেগম। একটাই স্বপ্ন, ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে দেখতে চান তিনি।

ছোটবেলা থেকে মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত মাহাথির। বগুড়া থেকে পরীক্ষা দিতে আসা এই শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৪.৭৭ ও এইচএসসিতে মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে এবার অংশ নিচ্ছেন ভর্তি পরীক্ষায়। শনিবার (২০ মে) গুচ্ছের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে পরীক্ষা দেন তিনি। দুই পা-বিহীন মাহাথির অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।

মাহাথির বলেন, আমার একটাই স্বপ্ন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাই। আমি অনেক অনেক পড়াশুনা করতে চাই। সেটার জন্য এতদূর এগিয়ে চলা। আমি পড়াশুনা করে সরকারি চাকরি করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, আমার এতটুকু আসার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান পরিবারের। আমি পা-বিহীন হলেও কখনো পিছিয়ে যাইনি। সমাজ, স্কুল কলেজের সহপাঠী, শিক্ষরা যেভাবে উৎসাহ দিয়েছে তা আমাকে পড়াশুনায় সাহায্য করেছে।

ছেলেকে নিয়ে দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ঘুরে ঘুরে ভর্তি পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন মা জোসনা বেগম। প্রতিবন্ধকতাকে তিনি প্রতিবন্ধকতা মনে করেন না। তিনি ছেলের এতদূর আসাকে গর্ববোধ করেন।

জোসনা বেগম বলেন, আমার ছেলে প্রতিবন্ধী, হাটঁতে পারে না। কিন্তু জন্মের পর থেকে কখনো কোনো অযত্নে রাখিনি। বড় ছেলের মতোই সব যত্ন করেই রেখেছি তাকে। কোনো অসুবিধা মনে করি না আমি। আমার ছেলে শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে এতদূর এসেছে তা আমাকে গর্বিত করে। আমার পরিবারও ছেলেকে নিয়ে গর্ববোধ করে। পড়াশুনা করে ছেলে সফল হোক এটাই একান্ত কামনা।

লেখা পাঠিয়েছেন এ বি এস ফরহাদ

[ নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। দৈনিক কালবেলার সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, দৈনিক কালবেলা কর্তৃপক্ষের নয়। ]
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শিল্প কারখানা-শিপইয়ার্ড চালু, শ্রমিক সংকট

বন্যার পর কারফিউ, সিলেটে নাকাল নিম্নআয়ের মানুষ

অগ্রিম টিকিটের টাকা ফেরত নিয়ে ‘চিন্তিত’ রেলযাত্রীরা

সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করলে সহপাঠীদের বয়কটের ডাক

বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র

কুষ্টিয়ায় ৪ মামলায় গ্রেপ্তার ৫১

সিলেটে জনমনে ফিরছে স্বস্তির নিঃশ্বাস, যান চলাচল স্বাভাবিক

ক্রেডিট কার্ডের বিল ও কিস্তি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা

নাশকতা মামলায় ছাত্রদল ও জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার

পুলিশ হত্যায় জড়িতরা ছাড় পাবে না : ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার

১০

তাণ্ডবকারী জামায়াত-বিএনপিকে খুঁজে খুঁজে বের করব : শামীম ওসমান

১১

আধিপত্য বিস্তারে শৈলকুপায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা

১২

কক্সবাজারে নাশকতা প্রতিরোধ কমিটি গঠন

১৩

চট্টগ্রামে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার ৬৬৬

১৪

বিএনপি-জামায়াত অহিংসতার নামে সহিংস আন্দোলন চালিয়েছে : জয়

১৫

কারফিউ প্রত্যাহারের দাবি গণঅধিকার পরিষদের

১৬

রাজশাহী থেকে সীমিত পরিসরে চলছে ঢাকাগামী বাস

১৭

সিরাজগঞ্জে ৬ মামলায় আসামি ১ হাজার

১৮

ধ্বংসযজ্ঞ দেখে কূটনীতিকরা স্তম্ভিত : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

১৯

‘কারফিউ ঘিরে সংকট’ পণ্যে দাম বাড়াচ্ছেই

২০
X