

আসন্ন নির্বাচনকে বহুল কাঙ্ক্ষিত আখ্যা দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, যে লড়াইটা আমরা শুরু করেছিলাম তার সুষ্ঠু একটা পরিসমাপ্তির জন্যই আমরা কথা বলেছি, কাজ করেছি। আর সেটা হতে যাচ্ছে ইনশাআল্লাহ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। এই নির্বাচন আমাদের দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনের ফসল। এই নির্বাচন আমাদের বহু কাঙ্খিত একটি নির্বাচন। বাংলাদেশের মানুষ বহু বছর ভোট দিতে পারে নাই। পছন্দের প্রার্থী নির্বাচিত করতে পারে নাই। আমরা আশা করছি যে, এবার জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের পছন্দের প্রার্থী নির্বাচনের দ্বারা তাদের সরকার পাবে। যে সরকার তাদের কল্যাণের জন্য কাজ করবে।
তিনি বলেন, কাজেই এই নির্বাচনটা যাতে অবাধ-সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়। এই নির্বাচনে যেন সত্যি সত্যি আমাদের জনগণ তাদের মত প্রকাশ করতে পারেন। সে লক্ষ্যেই আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের কাজ। এজন্য আমরা গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাই।
রোববার (০৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। নজরুল ইসলাম খান বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে সদস্য সচিব করে গত বৃহস্পতিবার ৪১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে বিএনপি। রোববার বিকেলে গুলশানে দলের নির্বাচনী অফিসে এই কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন নজরুল ইসলাম খান। এ সময় দলের কমিটির সমন্বয়ক ইসমাইল জবিহউল্লাহ ও মুখপাত্র ড. মাহাদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা সভায় শুধু পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। দ্বিতীয়ত এই কমিটি কিভাবে আগামী দিনগুলোতে কাজ করব? পাশাপাশি আলোচনা করে দ্রুত উপকমিটিগুলো চূড়ান্ত করা হবে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অনেক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কীভাবে আমরা আমাদের প্রার্থী দেরকে সহযোগিতা করতে পারব। কীভাবে শান্তিপূর্ণ অবাধ এবং সুষ্ঠ একটা নির্বাচন অনুষ্ঠানে আমরা ভূমিকা পালন করতে পারব। কীভাবে ভোটারদেরকে যথাসময়ে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হতে আমরা উদ্দীপ্ত করতে পারব এবং আমাদের দলের প্রতীক আমাদের দলের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দেওয়ার ব্যাপারে আমরা উৎসাহিত করতে পারব। এই সমস্ত বিষয়গুলি আমাদের আলোচনায় এসছে।
তিনি বলেন, বিএনপিই সেই প্রধান সংগঠন যারা বরাবর যথাসম্ভব দ্রুত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দাবি জানিয়েছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেন যে নির্বাচন হলেই বিএনপি ক্ষমতায় যাবে। সেজন্য বিএনপি তাড়াতাড়ি নির্বাচন চায়। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসাবে অবশ্যই বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে। কিন্তু সেই কারণে আমরা নির্বাচন চাই নাই। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আমরা স্বৈরাচারী তথা ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন চেয়েছি। দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা চেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা যে এক দফা দাবির আন্দোলন করছিলাম সেটা ছিল ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদের নির্বাচন। ২০২৫ সালের জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিদায় করতে পেরেছি। কিন্তু দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয় নাই। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা শুধুই একটা অবাধ-সুষ্ঠ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটের মাধ্যমে জনগণ সমর্থনের দ্বারা পূর্ণ প্রতিষ্ঠা হতে পারে। সে কারণেই আমরা বারবার নির্বাচনের কথা বলেছি। বিএনপির ইতিহাস তো এটাই। আমরা একদলীয় বাকশাল শাসনের অবসান করে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। এরপর এরশাদের সামরিক সৈরশাসন সেটার বিরুদ্ধে অবিরাম লড়াই করে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এবারও ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনে গুম-খুন ও নির্যাতনের সবচেয়ে বেশি শিকার বিএনপি। সবচেয়ে বেশি মিথ্যা এবং গায়েবী মামলার শিকার হয়েছে। তারপরও রাজপথ থেকে আমরা কখনো পেছনে যাইনি। আমরা সক্রিয় ছিলাম।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, তারেক রহমান সাহেব ১৭ বছর পর দেশে ফিরে এক বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যে বক্তব্য রেখেছেন তিনি শান্তির কথা বলেছেন বারবার। কাজেই একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে যে ভূমিকা পালন করা দরকার বিএনপি তাই করবে। এদেশের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। বারবার গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছে। আজকে তাদের সবার সামনে একটা চমৎকার সম্ভাবনার সুযোগ এসেছে। এই সম্ভাবনাকে আমরা কাজে লাগাতে আপনাদের সহযোগিতা চাই।
এবারের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক কি না? কারণ আটটি দল অংশ নিচ্ছে না। বিভিন্ন স্থানে বিরোধী প্রার্থীদের আবেদন বাতিলে আপনারা কনসার্ন কি না? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দেশের প্রচলিত আইনে যদি মনোনয়নপত্র বাতিল হয় হতেই পারে। আমাদের বিএনপিরও মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তো সেখানে আপত্তি জানানোর সুযোগ আছে, সময় আছে। তারা নিশ্চয়ই আপত্তি জানাবেন এবং তার ভিত্তিতে হয়তো সিদ্ধান্ত পরিবর্তনও হতে পারে। আমরা মনে করি এই মুহূর্তে অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের যে আয়োজন সেখানে যাদের রাজনৈতিক তৎপরতার উপর কোনো বিধিনিষেধ নাই তাদের কারও নির্বাচনে অংশগ্রহণের বাধা নাই। এখন এটা তাদের সিদ্ধান্তের প্রশ্ন।
আরেকজন জানতে চান যে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পুরুষ এবং নারীরা বাসায় গিয়ে একটি বিশেষ দলের পক্ষে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এটা সুষ্ঠ নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ঘরে ঘরে কোনো দলের প্রার্থীর জন্য ভোট প্রার্থনা করাটা দোষের ব্যাপার না। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যটা কি? সরকারের উচিত এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। কারণ এই ডকুমেন্টগুলি অত্যন্ত ব্যক্তিগত।
আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যতটুকু জানি যে, বিএনপির পক্ষ থেকে কোথাও কোনো সরকারি অফিসে কাউকে এই অনুরোধ করা হয় নাই যে, অমুকের মনোনয়নপত্র বাতিল করব। আর বললেই বা তারা করবে কেন? তাদের তো করার কথা না। তারা তো সরকারি কর্মকর্তা, দলের কর্মী না তারা।
এ সময় ড. মাহাদী আমিন বলেন, আমরা বিশ্বাস করি একটা অবাধ-সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতায়ন হবে এবং এমন সরকার আসবে যারা সত্যি সরকারের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। আমরা সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলব যেখানে থাকবে মানবাধিকার, ব্যক্তি স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদের সময়ে কিন্তু গণমাধ্যমের ওপরও আঘাত নেমে এসেছিল।
মন্তব্য করুন