অ্যনফিল্ডে লড়াইটা ছিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দুই পরাশক্তির। কঠিন সেই লড়াইয়ের পরও শেষ হাসি হাসল লিভারপুল। ডোমিনিক সোবোশ্লাইয়ের অসাধারণ ফ্রি-কিকেই ১-০ গোলে আর্সেনালকে হারাল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
খেলা যখন ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছিল, তখনই ৮৩ মিনিটে হাঙ্গেরিয়ান তারকার জাদুকরি শট ভেদ করে আর্সেনালের গোলরক্ষক ডেভিড রায়ার জাল। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে বাঁকানো সেই শটে অ্যনফিল্ডে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে ‘দ্য কপ’।
ম্যাচে আর্সেনালের জন্য শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের। ম্যাচের মাত্র পাঁচ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা। বাধ্য হয়ে মিকেল আর্তেতা নামান নতুন সাইনিং ক্রিস্টিয়ান মোসকেরাকে। আর্তেতা আরেক নতুন সাইনিং এবেড়েচি এজেকে রাখেন দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত বেঞ্চে।
উভয় দলই সতর্কতায় খেলায় সুযোগের সংখ্যা ছিল অল্প। প্রথমার্ধে লিভারপুলের হুগো একিতিকের এক গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে চাপ বাড়ায় স্বাগতিকরা, আর শেষ পর্যন্ত সোবোশ্লাই এনে দেন জয়ের আনন্দ।
মৌসুমের প্রথম তিন ম্যাচে তিন জয়—অপরাজিত ধারা ধরে রাখল ইয়ুর্গেন ক্লপের দল। এর মধ্যে দুটো জয় এসেছে শেষ মুহূর্তের গোল থেকে। এবারও ভিন্ন কিছু হয়নি। মৌসুমের শুরুতে আগের মৌসুমের ঝলক পুরোপুরি না দেখালেও জয় তুলে নেওয়াই যেন প্রমাণ করছে তাদের চ্যাম্পিয়নসুলভ মানসিকতা।
এই জয়ের পর লিগ টেবিলের শীর্ষে বসেছে লিভারপুল। এরই মধ্যে তারা দলে শক্তি বাড়াতে চাচ্ছে। সোমবার ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার আগে ক্রিস্টাল প্যালেস অধিনায়ক মার্ক গেহিকে দলে ভেড়াতে এবং নিউক্যাসলের সুইডিশ স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার ইসাককে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে অ্যনফিল্ড যেন আর্সেনালের জন্য অভিশাপের মাঠে পরিণত হয়েছে। লিভারপুলের বিপক্ষে টানা ১৩ ম্যাচ ধরে অ্যনফিল্ডে জয়ের দেখা পেল না তারা—শেষবার এখানে জিতেছিল ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে।
এদিনও রক্ষণে ভালো খেললেও আক্রমণে ছিল সীমিত। প্রথমার্ধে ননি মাদুয়েকে একটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও লিভারপুল গোলরক্ষক আলিসন তা ঠেকিয়ে দেন। নতুন স্ট্রাইকার ভিক্টর গিয়োকারেসও ভ্যান ডাইক ও কোনাতের কাছে হার মানেন। শেষ দিকে এজেকে নামালেও বদলানো যায়নি ভাগ্য।
মন্তব্য করুন