আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) জগতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। চ্যাটজিপিটির মতো প্রযুক্তির মাধ্যমে ভালো-মন্দ অনেক কাজই এখন দ্রুত ও নিখুঁতভাবে করিয়ে নেওয়া যাচ্ছে। এআই ক্রমশ মানুষের চেয়ে ক্ষমতাধর হয়ে উঠছে। স্বভাবতই বিশ্বের প্রযুক্তিবিষয়ক নীতিনির্ধারক, বিনিয়োগকারী এবং নির্বাহীরা ভাবছেন, এআই কি মানুষের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে?
এই প্রশ্নকে সামনে রেখে আজ সোমবার (৩০ অক্টোবর) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বিতর্কে মেতে উঠেছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতিকে মানুষের ভয় করা উচিত’ শীর্ষক এই বিতর্ক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য রাষ্ট্রদূত এম শামীম আহসান।
আলোচনা করেন ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিক রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির মহাপরিচালক শাহ আহমেদ শফি।
বিতর্কে বিজয়ী হয়েছে পক্ষে দল। সেরা বক্তার পুরস্কার পান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব রায়হান মাহমুদ হান্নান। বাংলাদেশি প্রশিক্ষণার্থী এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিশেষায়িত কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ কোর্স এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতি প্রোগ্রামের পেশাদার মাস্টার্সের দু’জন বিদেশি অংশগ্রহণকারীও বিতর্কে অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, এআই প্রযুক্তির অগ্রগতি মানুষের জন্য সুখবর হলেও এটি নিয়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কারণ এই প্রযুক্তি ভুল মানুষের নিয়ন্ত্রণে গেলে তা হবে সভ্যতার জন্য হুমকি ও বিপজ্জনক। এআই চ্যাটবট পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। যন্ত্রের কাছে মানুষের পিছিয়ে যাওয়ার শঙ্কাও রয়েছে। প্রযুক্তির অপব্যবহারের পাশাপাশি মানুষের কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অস্বীকার করা যাবে না ডিজিটাল বিভাজন ও বৈষম্যকেও।
বক্তারা এআই নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, এআইর যতই অগ্রগতি হোক না কেন মানুষের প্রয়োজন কখনোই ফুরাবে না। কারণ এসব কিছুই করা হচ্ছে মানুষের জন্য। তবে বুদ্ধিমত্তা ও ক্ষমতার দিক থেকে এআইকে মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। তারা এ ধরনের প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ এবং অপব্যবহার বন্ধে কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল হওয়ার পাশাপাশি আইনগত সুরক্ষার ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব দেন।
মন্তব্য করুন