অনেকটা ঘোষণা দিয়েই বিশ্বের শীর্ষ ধনী হয়েছিলেন ইলন মাস্ক। বয়স ৫০ না পেরোতেই সফলতার এমন কোনো চূড়া নেই যেখানে পা রাখেননি তিনি। তার পুরো নাম ইলন রেভ মাস্ক। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রোটোরিয়ায় ১৯৭১ সালের ২৮ জুন জন্ম হয় তার।
ইলন মাস্কের বাবা আফ্রিকান হলেও তার মা একজন কানাডিয়ান। ১৯৯২ সালে পরিবারের সঙ্গে কানাডা হয়ে আমেরিকায় পাড়ি জমান। মূল সফলতার গল্পটা যেন সেখান থেকেই শুরু হলো। বয়স যখন মাত্র ১২, তখনই স্বপ্ন দেখেছিলেন আকাশ জয়ের।
শিশু বয়সেই ব্লাস্টার নামের একটি গেমস বানিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়েছিলেন। সেটি পিসি অ্যান্ড অফিস টেকনোলজি ম্যাগাজিনের কাছে ৫০০ ডলারে বিক্রি করে জানান দিয়েছিলেন বড় হয়ে উদ্যোক্তা হবেন। দক্ষিণ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত এই মার্কিনির সফলতার গল্প যেন সেখান থেকেই শুরু। ব্যবসায়ী হিসেবে ইলন মাস্কের যাত্রা শুরু ১৯৯৫ সালে লোকেশন গাইড ওয়েব সফটওয়্যার সংস্থা জিপ-২ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।
কিন্তু বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন তিন বছর পর অনলাইন লেনদেন মাধ্যম পেপাল প্রতিষ্ঠা করে।
ওই সময় টেক প্রতিষ্ঠান কমপ্যাকের কাছে ছেড়ে দেন জিপ-২ এর মালিকানা। পকেটে ঢোকান ৩০৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেও তার বৈজ্ঞানিক চিন্তাশক্তি থেমে থাকেনি। মানুষকে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন মঙ্গল গ্রহে।
বয়স যখন মাত্র ৩০, তখনই ভাবতে শুরু করেন মহাকাশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের। ২০০২ সালে তৈরি করে ফেলেন বারবার ব্যবহার যজ্ঞ ফ্যালকন রকেট। প্রতিষ্ঠানের নাম দিলেন স্পেস এক্স।
এসব সাহসী কাজের জন্য সবাই তাকে খ্যাপাটে বললেও চমক তখনো বাকি ছিল মাস্কের। সবাইকে তাক লাগিয়ে ঘোষণা দিয়ে বসেন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণের।
২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন টেসলা। আর ২০০৮ সালে রোডস্টার নামে প্রথম গাড়ি বাজারে ছেড়েই করেন বাজিমাত। কয়েক বছরের মধ্যেই বিশ্বের শীর্ষ তালিকায় ওঠে আসে তার এই প্রতিষ্ঠান।
এর মধ্যেও ২০০৬ সালে যৌথভাবে সোলার সিটি নামের একটি কোম্পানি দাঁড় করান তিনি। ২০১৩ সালের মধ্যে এই সোলার সিটি মার্কিন সরকারের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী ছিল। সবশেষ প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি ডলার মূল্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটার কিনে শোরগোল ফেলে দেন মাস্ক। যা ব্যক্তিগতভাবে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অধিগ্রহণ। স্বাভাবিকভাবেই অনেকের প্রশ্ন—কোথায় থামবেন ইলন মাস্ক?
ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ ধনী থাকা অবস্থায় ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার। তবে টুইটারের কর্মী ছাঁটাইসহ নানা কারণে পড়ে গেছে তার বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার দর। ফলে ছিটকে গেছেন শীর্ষ ধনীর তালিকা থেকেও।
মন্তব্য করুন