কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৩, ০২:৪৩ পিএম
আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৩, ০২:৪৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

স্ক্রিনিংয়ের অভাবে দেশে স্তন ক্যান্সারে নারী মৃত্যুর হার ভয়াবহ

‘স্তন ক্যান্সার সচেতনতা : গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় কথা বলছেন বক্তারা। ছবি : কালবেলা
‘স্তন ক্যান্সার সচেতনতা : গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় কথা বলছেন বক্তারা। ছবি : কালবেলা

নারী মৃত্যুর দিক থেকে সারা বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে স্তন ক্যান্সার। তবে বাংলাদেশে এর অবস্থান প্রথম। এর কারণ বাংলাদেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় হচ্ছে স্টেজ ফোর বা একেবারে শেষ পর্যায়ে গিয়ে। বাংলাদেশে স্ক্রিনিংয়ের অভাবে স্তন ক্যান্সারে রোগী মৃত্যুর হার ভয়াবহ।

বুধবার (২৫ অক্টোবর) সকালে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে ‘স্তন ক্যান্সার সচেতনতা : গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস উপলক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক নূরুন নাহার হেনা।

তিনি বলেন, প্রতিবছর ১৫ হাজারের বেশি মানুষ স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। সচেতনতার অভাবেই এমনটা হচ্ছে৷ সচেতনতা বৃদ্ধি করতে না পারলে দিনের পর দিন এটা বেড়েই যাবে। আমাদের মেয়েরা স্তন শব্দটা বলতেই লজ্জাবোধ করে। যে কারণে কান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পরেও তারা বিষয়টি নিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলতে পারে না। যখন করার কিছুই থাকে না, তখন ডাক্তারের কাছে যায়। এ অবস্থা পরিবর্তনে তৃণমূল পর্যায় থেকে সবাইকে কাজ করতে হবে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত কর কমিশনার এবং বিএসসিএফের (ব্লু স্কাই চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা আয়েশা সিদ্দিকা শেলী।

তিনি বলেন, বিশ্বে প্রতি মিনিটে আট জন নারীর মধ্যে একজন নারী এই রোগের ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে এটা সম্পূর্ণ নিরাময় হয়। স্তন ক্যান্সার মূলত নারীদের রোগ। তবে এক শতাংশ পুরুষও এতে আক্রান্ত হয়। উন্নত দেশগুলোতে চল্লিশ বছর বয়সের পর নারীদের স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং বাধ্যতামূলক। তবে বাংলাদেশে এমন কোনো ব্যবস্থা নেই।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, নারী স্বাস্থ্যের প্রতি উদাসীনতার কারণে স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। চল্লিশ বছর বয়স থেকে বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনার পরামর্শ দেন তারা।

বক্তারা জানান, আর্থিক অস্বচ্ছলতা স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুর একটা বড় কারণ। অপারেশন, রেডিওথেরাপিসহ ক্যান্সারের যে কোনো চিকিৎসা ব্যয়বহুল। তাই স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য বাজেটে আলাদা বরাদ্দ রাখার আহবান জানান বক্তারা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এ জেড মাহমুদুল হাসান বলেন, স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীরা শারীরিক জটিলতার পাশাপাশি মানসিক ট্রমায়ও আক্রান্ত হয়। এই ক্যান্সারের চিকিৎসা ব্যবস্থা মূলত ঢাকা কেন্দ্রীক। লম্বা সময় কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি দিতে হয়। সব কাজ ফেলে ঢাকায় হাসপাতালে পড়ে থাকতে হয় রোগীকে। রোগীর সঙ্গে তার স্বামী বা কাউকে থাকতে হয়। ফলে সাধারণ নিম্ন আয়ের পরিবারের আয়ের পথও বন্ধ থাকে। এ জন্য দেশের আট বিভাগে সমন্বিতভাবে স্তন ক্যান্সার চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আহবান জানান তিনি। কর্মশালায় জানানো হয়, ২০ বছর থেকেই নারীদের নিজেদের স্তন পরীক্ষা করা উচিত। ৩০ বা তার বেশি বয়সের নারীদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে নিয়মিত স্তন ক্যান্সার ঝুঁকির বিষয়ে পরামর্শ নিতে হবে। ৪০-৫৪ বছরের নারীদের প্রতিবছর একবার স্তনের আল্ট্রাসনোগ্রাম বা ম্যামোগ্রাম করতে হবে। আর ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের প্রত্যেক দুই বছর পরপর ম্যামোগ্রাম বা আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা গণমাধ্যমে নাটিকা প্রচার এবং দেশের তৃণমূল পর্যায়ে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে স্তন ক্যান্সারের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির আহবান জানান।

আরও বক্তব্য দেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফায়জুল হক, ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্যাথলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা.জুবায়দা বাহারুন খান এমডি।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের (উপসচিব) পরিচালক (প্রশাসন ও উন্নয়ন) এ, কে এম আজিজুল হক।

কালবেলা/এমএ
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১৭ বছর পর লর্ডসে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ, ইসিবির সূচি ঘোষণা

গবেষণাভিত্তিক শিক্ষায় নতুন দৃষ্টান্ত গড়ল সিকৃবি

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যু / সফর সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার দেশে ফিরছেন স্পিকার

সমমনা জোটের নতুন সমন্বয়ক ডা. নূরুল ইসলাম

‘সুন্দর ভবন থাকলেই হবে না, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীও থাকতে হবে’

সুনামগঞ্জে ভারতীয় কাপড়সহ আটক ৩

জামায়াত দেশ ও ইসলামের জন্য অকল্যাণকর: উবায়দুল্লাহ ফারুক

কেপ ভার্দের ভোজিনহা ও তার পরিবারকে মেসির ‘বিশেষ উপহার’

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের পথে / আর্জেন্টিনাকে আজীবন বহিষ্কারে ২৩ মিলিয়ন গণস্বাক্ষর

হুথিদের যে কোনো হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করা হবে: ট্রাম্প

১০

কারখানায় বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫

১১

ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেই সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি কার্যকর হবে: ট্রাম্প

১২

আর্জেন্টিনা ফুটবল বসকে যুক্তরাষ্ট্রে আটকের খবর, যা জানা গেল

১৩

সেই বিচারককে গোপালগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার

১৪

যবিপ্রবির নতুন ট্রেজারার ড. ফারুক হাসান

১৫

এনসিপির সেই শীর্ষ নেতা স্থায়ী বহিষ্কার

১৬

হাম উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু

১৭

ভক্ত সেজে দুই ভরি স্বর্ণ হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক গ্রেপ্তার 

১৮

বাংলাদেশের পোশাক খাতে সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং জোরদারে বিজিএমইএ-জিআরআইর কৌশলগত অংশীদারত্ব

১৯

যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি পারমাণবিক চুক্তি যেভাবে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় প্রভাব ফেলবে

২০
X