কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৫, ০৮:০০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মিয়ানমারে মানবিক সংকটের মধ্যেই বোমাবর্ষণ জান্তা সরকারের

মিয়ানমারের ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল জান্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় পড়লেও বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত কিছু এলাকাও এ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছবি : সংগৃহীত
মিয়ানমারের ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল জান্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় পড়লেও বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত কিছু এলাকাও এ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছবি : সংগৃহীত

মিয়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট মানবিক সংকটের মধ্যেই বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির সামরিক জান্তা।

জবাবে বিদ্রোহী গোষ্ঠী কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন (কেএনইউ) এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং বলেছে, ভূমিকম্পে মানুষ যখন বিপর্যস্ত, তখনও সামরিক বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রেখেছে।

সোমবার (৩১ মার্চ) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমিকম্পে প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন নিহত এবং ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকা পড়েছেন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।

শুক্রবার ৭.৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প দেশটির সাগাইং অঞ্চলকে সবচেয়ে বেশি কাঁপিয়ে দেয়। তবে বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরাবতী নদীর ওপর একটি সেতু ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকর্মীরা দুর্গত অঞ্চলে যেতে পারছেন না।

এর মধ্যেই জান্তা বাহিনী কারেন রাজ্যে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংগঠন ফ্রি বার্মা রেঞ্জার্স। তারা জানিয়েছে, হামলাগুলো কেএনইউ’র সদর দপ্তরের কাছাকাছি এলাকায় চালানো হয়েছে।

কেএনইউ এক বিবৃতিতে বলেছে, সামরিক বাহিনীর এখন প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত ত্রাণ কার্যক্রম চালানো। কিন্তু তারা উল্টো নিজেদের জনগণের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে।

এদিকে ভূমিকম্পের পরপরই আসিয়ান জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একটি বৈঠক করেছেন। সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান মিয়ানমারে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সামরিক জান্তার মুখপাত্র রয়টার্সের এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো ও গণতন্ত্রপন্থিরা জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এতে গৃহযুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে।

শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে সামরিক অভিযান কিছুটা কমবে বলে ধারণা করা হলেও বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, জান্তা বাহিনীর এ হামলা মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলবে।

দেশটিতে এখন ভূমিকম্পের ভয়াবহতা কাটিয়ে ওঠার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তা ও যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন। কিন্তু সামরিক জান্তা বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে বিমান হামলা চালিয়ে যাওয়ায় দেশটি আরও মানবিক সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিএনপি সরকার গঠন করলে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে : ডা. শাহাদাত

রাউজান-রাঙ্গুনিয়ার অগ্নিকাণ্ড ষড়যন্ত্র উন্মোচনে পুরস্কৃত পুলিশ কর্মকর্তারা

নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের ৭ দফা নির্দেশনা বিএনপির

ভোটকেন্দ্রে যাওয়াই গণতন্ত্র রক্ষার একমাত্র পথ : ইশরাক হোসেন

পুরস্কার ভাগাভাগি নিয়ে মাচাদোকে নোবেল ফাউন্ডেশনের বার্তা

নারী ক্ষমতায়িত হলে জাতির ভবিষ্যৎ বদলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে : জাইমা রহমান

জম্মু কাশ্মীরে গোলাগুলি, ভারতের ৭ সেনা আহত

নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীকে শোকজ, ইসির কড়া বার্তা

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ইস্যুতে কঠিন সিদ্ধান্ত জানাল পাকিস্তান

মধ্যপ্রাচ্যের এক ঘাঁটি থেকে সম্পূর্ণরূপে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার

১০

যুগ্ম সচিব আবদুল্লাহ আল ফারুকের মৃত্যুতে শেকড় পাবনা ফাউন্ডেশনের শোক

১১

নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারে এনসিপি

১২

মাদকবিরোধী তৎপরতায় খেলাধুলা চমৎকার উপাদান : জহির উদ্দিন

১৩

নতুন মানচিত্রে অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচের অজানা পৃথিবী উন্মোচিত

১৪

এনসিপি প্রার্থী নাহিদ ইসলামকে শোকজ

১৫

৮১ ঘণ্টা পর শোকজের জবাব দিলেন নাজমুল

১৬

ওপরে তুলেই নিচে নামিয়েন না, কাদের বললেন হৃদয়?

১৭

ক্যানসারে আক্রান্ত খুবি শিক্ষার্থী মুজাহিদ বাঁচতে চায়

১৮

স্বপ্ন দেখে ভয় পেলে যে দোয়া পড়বেন

১৯

চিলিতে জরুরি অবস্থা, সরিয়ে নেওয়া হলো ২০ হাজার বাসিন্দাকে

২০
X