চলতি সপ্তাহে ব্রাসেলস সফরের সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি প্রধান বার্তা ছিল- ইউরোপ ও চীনের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে তার দেশ কোনো পক্ষ নিচ্ছে না।
এ বিষয়ে রাজনীতি বিষয়ক ডিজিটাল গণমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্রনীতি খুবই পরিষ্কার—সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব; আমাদের নিজস্ব উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ। আমার একটি ছোট জায়গায় ১৭ কোটি মানুষ আছে, তাই আমাদের প্রতিটি দেশ থেকে বিনিয়োগ দরকার। প্রত্যেকে তাদের পছন্দ অনুযায়ী এখানে বিনিয়োগ করতে পারে।
বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি নারী সরকারপ্রধান হাসিনা। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করতে ব্রাসেলস শহরে ছিলেন এবং ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ ও অনুদান সমন্বিত ৪০০ মিলিয়ন ইউরোর বাম্পার প্যাকেজ দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতে এখন পর্যন্ত ইইউর সবচেয়ে বড় বাজি হিসেবে চিহ্নিত।
ইইউ এবং বেইজিংয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইতোমধ্যে চীন আগ্রাসী বিদেশি বিনিয়োগ কৌশল ব্যবহার করে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গঠিত বাংলাদেশ দীর্ঘদিন বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ ছিল।
কিন্তু সাম্প্রতিক দশকে দেশটি বিস্ময়কর অর্থনৈতিক উন্নয়ন পেয়েছে। সফল পোশাক রপ্তানি শিল্প, বিদেশি বিনিয়োগ দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে এ সাফল্য এসেছে।
২৬ অক্টোবর সকালে তিনি বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ডি ক্রু এবং লুক্সেমবার্গের প্রধানমন্ত্রী জেভিয়ার বেটেলের সঙ্গে পৃথক দুটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বিকেলে প্রধানমন্ত্রী গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামের সমাপনী পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে যোগ দেন।
পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন। দেশটির রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক নিবিড়ভাবে বাংলাদেশের জাতীয় শ্রম পরিকল্পনা পর্যবেক্ষণ করছে।
মন্তব্য করুন