রাশিয়ার ভাড়াটে যোদ্ধা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওয়াগনারের বিদ্রোহকে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ সংকট বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সাড়ে ২৪ বছরের ক্ষমতায় পুতিন এ ধরনের সংকটের মুখোমুখি হননি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে সামরিক ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক পাভেল ফেলগেনহাউয়ার বলেন, ‘ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিই প্রেসিডেন্ট পুতিনের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ। এটি রুশ নেতৃত্ব ও ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট পুতিনের জন্য অত্যন্ত গুরুতর চ্যালেঞ্জ।’
তিনি বলেন, ‘আমি বলব, এটি পুতিনের সাড়ে ২২ বছরের শাসনকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংকট। এর চেয়ে ভয়াবহ আর কিছু হতে পারে না। পুতিন ও তার সেনাবাহিনীকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে এবং এটা খুব কড়াভাবেই করা হয়েছে। তাই আমি মনে করি, তিনি জীবন বাজি রেখেই লড়বেন। আর এটাই ভয়াবহ।’
এর আগে গতকাল শুক্রবার এক অডিও বার্তায় রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর নেতাদের ‘ক্ষমতাচ্যুত’ করার হুমকি দেন ওয়াগনার প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোজিন। তিনি বলেন, ‘তারা (রুশ বাহিনী) আমাদের বিভিন্ন সেনাশিবিরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় আমাদের অনেক সহযোদ্ধা মারা গেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা মস্কো অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের বাহিনীর ২৫ হাজার সদস্য এ অভিযানে যোগ দিয়েছে। যদি কেউ আমাদের প্রতিরোধ করতে চায়, সে ক্ষেত্রে আমরা সেটা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করব এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা ধ্বংস করব।’
প্রিগোজিনের এ ঘোষণার পর রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের একটি সেনা সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথা জানায় ওয়াগনার গ্রুপ।
এ দিকে এ বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িতদের সাজার মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেন, ‘যা কিছু ঘটছে, তা বিশ্বাসঘাতকতা। এটি দেশের জনগণের পিঠে ছুরি চালানোর শামিল।’
মন্তব্য করুন