বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩৩
কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৫, ০৮:৪৩ পিএম
আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৫, ১০:৩৩ এএম
অনলাইন সংস্করণ

ইরানের শাহেদ-১৩৬ ড্রোন কতটা ভয়ংকর?

ইরানের আলোচিত সুইসাইড ড্রোন। ছবি : সংগৃহীত
ইরানের আলোচিত সুইসাইড ড্রোন। ছবি : সংগৃহীত

বিভিন্ন ফ্রন্টের যুদ্ধে রণাঙ্গন কাঁপাচ্ছে ইরানের তৈরি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন। মিত্র রাশিয়াকেও ভয়ংকর এই ড্রোন দিয়েছে তেহরান। রাশিয়ায় এটিকে বলা হয় ‘গেরান-২’। এ ড্রোনটি মূলত সুইসাইড ড্রোন। অর্থাৎ লক্ষ্যবস্তুতে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করে দেয় নিজেকেই। এর বাইরেও ইরানি এই ড্রোনের রয়েছে আরও বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য। যে কারণে এই ড্রোন পেতে মুখিয়ে থাকে যে কোনো দেশ।

অপ্রতিরোধ্য বাজেট অস্ত্র

একটি রুশ ক্যালিবার ক্রুজ মিসাইলের দাম প্রায় ১০ লাখ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি টমাহক মিসাইলের দাম ২০ লাখ ডলার। সেখানে ইরানের তৈরি শাহেদ ১৩৬-এর দাম মাত্র ১০ থেকে ২০ হাজার ডলার! অর্থাৎ এটি একটি গড় আমেরিকান গাড়ির চেয়েও সস্তা।

সোয়ার্ম ড্রোন : একটি ধ্বংসাত্মক কৌশল

এককভাবে না চালিয়ে এই ড্রোনগুলো ‘সোয়ার্ম’ বা দলবদ্ধভাবে ছোড়া হয়। অর্থাৎ, একসঙ্গে ৫ থেকে ১০টি ড্রোন নিক্ষেপ করে। প্রতিপক্ষের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম মোতায়েন করা থাকলেও অন্তত ২-১টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনে সব ধ্বংস করে দেয়।

ইঞ্জিন ও শব্দেই ভয় পায় শত্রুপক্ষ

এটি সস্তা ‘মোপেড ইঞ্জিনে’ চলে। সাধারণত ইজিবাইকে এটি ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের ইঞ্জিন চীন থেকে আমদানি করে ইরান। মজার বিষয় হলো— এই ড্রোনের শব্দ অনেকটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত জার্মান ‘স্টুকা’ বিমানগুলোর মতো, যা শত্রুর মধ্যে ভয় তৈরি করত।

গাইডেন্স সিস্টেম

আমেরিকার জিপিএস সিস্টেম বাদ দিয়ে রাশিয়ার গ্লোনাস প্রযুক্তির সাহায্যে দিক নির্ণয় করে চলে এই ড্রোন। এতে রকেট অ্যাসিস্টেড টেক-অফ প্রযুক্তি রয়েছে, যা দ্রুতগতিতে ড্রোনটিকে লঞ্চ করতে সাহায্য করে।

ফাঁকি দিতে পারে শত্রুর রাডার

স্টেলথ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে শাহেদ-১৩৬ ড্রোন। ফলে, রাডার, তাপমাত্রা সিগন্যাল, বা অন্যান্য সেন্সরের মাধ্যমে ড্রোনটি শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া একদম নিচ দিয়ে উড়তে সক্ষম হওয়ায় এটিকে ইন্টারসেপ্ট বা ধ্বংস করাটাও বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়।

রয়েছে সীমাবদ্ধতাও

• গাইডেন্স দুর্বলতা ড্রোনের গাইডেন্স সিস্টেম জ্যাম বা ধ্বংস করা সম্ভব হলে এটি লক্ষ্যচ্যুত হতে পারে। • ধীর গতি এর গতি কম হওয়ায় স্টিংগার বা জ্যাভেলিন মিসাইল দিয়ে এটি ধ্বংস করা সহজ। • অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট প্রতিরোধ জার্মানির জাপার্ড এন্টি-এয়ারক্রাফট গান বা সোভিয়েতের ইউ-২৩ এই ড্রোন প্রতিরোধে কার্যকর।

সীমাবদ্ধতা থাকার পরেও ভয়ঙ্কর

যদিও এককভাবে এই ড্রোনটি ধ্বংস করা সম্ভব, তবে একসঙ্গে পাঁচ বা দশটি ড্রোন লঞ্চ করা হলে একটি অন্তত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাবেই। এই সস্তা কিন্তু কার্যকর ড্রোন শত্রুকে মনস্তাত্ত্বিক চাপে ফেলতে এবং তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে বাধ্য করছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জনসভা সকালে, রাত থেকে জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা

আগামী প্রজন্মকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান সেলিমুজ্জামানের

শ্বশুরবাড়ি গিয়ে ধানের শীষে ভোট চাইলেন তারেক রহমান

বিএনপির নির্বাচনী থিম সং প্রকাশ

ক্রিকেটারদের সঙ্গে জরুরী বৈঠকে বসবেন ক্রীড়া উপদেষ্টা

শ্বশুরবাড়িতে তারেক রহমান

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ঢাকায় আসছে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৭ সদস্য

সোনাগাজী উপজেলা ও পৌর বিএনপির সঙ্গে আব্দুল আউয়াল মিন্টুর মতবিনিময়

মেহেরপুরে জামায়াতের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

শ্বশুরবাড়ির পথে তারেক রহমান

১০

ভোজ্যতেলে পুষ্টিমান নিশ্চিত করতে হবে

১১

পে-কমিশনের প্রস্তাবে কোন গ্রেডে বেতন কত?

১২

নারায়ণগঞ্জে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

১৩

শাহজালালের মাজার ও ওসমানীর কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান

১৪

বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের বার্ষিক ব্যবসায়িক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

১৫

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন মারা গেছেন

১৬

বিশ্বকাপ খেলতে মিরাকলের আশা বিসিবি সভাপতির

১৭

প্রতীক পেয়েই প্রচারণা, হাতপাখার প্রার্থীকে জরিমানা

১৮

সবার জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব : রাবি উপাচার্য

১৯

কুমিল্লায় প্রতীক পাননি বিএনপির ২ প্রার্থী

২০
X