অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলা চালায় হামাস। ওই দিন হামলা চালিয়ে ১৪০০ ইসরায়েলি হত্যার পাশাপাশি দুই শতাধিক ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিককে গাজায় জিম্মি করে নিয়ে যায় হামাস। হামাসের এই হঠাৎ হামলা ইসরায়েলি সরকার বা গোয়েন্দা সংস্থা কেউ আঁচ পর্যন্ত করতে পারেনি। এই হামলার পর থেকেই সরকার ও বিরোধী এবং জিম্মি পরিবারের কাছ থেকে দ্বিমুখী চাপের মুখে রয়েছেন নেতানিয়াহু। খবর সিএনএনের।
এমন পরিস্থিতিতে গতকাল রোববার (২৯ অক্টোবর) এই হামলা নিয়ে আগাম গোয়েন্দা তথ্য দিতে না পারার ব্যর্থতার দায় দেশের গোয়েন্দা প্রধানদের ওপর চাপিয়ে নিজেকে রক্ষা করতে চেয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে শেষ পর্যন্ত এখানেও সফল হলেন না তিনি। উল্টো দেশের বিভিন্ন স্তর থেকে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এমনকি সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
হামাসের হামলার আগাম গোয়েন্দা তথ্য দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গতকাল রোববার সকালে এক এক্সবার্তায় ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের প্রধান রনেন বার এবং সামরিক গোয়েন্দা প্রধান অ্যাহারন হালিভার দিকে আঙুল তুলেন নেতানিয়াহু। এরপরই বিরোধী ও নিজ সরকারের শরিকদের তোপের মুখে পড়েন তিনি।
ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য বেনি গ্যান্টজ দেশের গোয়েন্দা প্রধানদের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে নেতানিয়াহুকে তার বিবৃতি প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান। রোববার এক্সবার্তায় তিনি বলেন, আজ সকালে, বিশেষ করে, আমি সব নিরাপত্তা বাহিনী ও আইডিএফের সেনাদের জোর সমর্থন দিতে চাই। তাদের মধ্যে রয়েছেন সেনাপ্রধান, আইডিএফপ্রধান ও শিন বেতের প্রধান প্রমুখ।
গোয়েন্দা প্রধানদের সমর্থনের পাশাপাশি নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ করে গ্যান্টজ বলেছেন, যুদ্ধের সময় দেশের নেতাদের দায়িত্ববোধ দেখাতে হবে।
বিরোধীদলীয় নেতা ও ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার ল্যাপিডও নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু রেড লাইন অতিক্রম করেছেন। দোষ এড়ানো এবং নিরাপত্তা সংস্থার ওপর দোষ চাপানোর প্রচেষ্টা ইসরায়েলি সেনাদের দুর্বল করবে।
সরকার ও বিরোধীদের সমালোচনার মুখে নিজের এক্সবার্তা সরিয়ে নিয়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ‘আমার ভুল হয়েছে। আমার এমনটা বলা উচিত হয়নি। আমি এ জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। ইসরায়েলের নিরাপত্তা প্রধানদের প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।’
অন্যদিকে গাজায় হামাসের হাতে জিম্মি দুই শতাধিক ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিকের পরিবাবের দিক থেকেও চাপে রয়েছেন নেতানিয়াহু। জিম্মিদের যেকোনো মূল্য মুক্ত করে আনার পক্ষে এসব পরিবার। দিন দিন গাজায় ইসরায়েলি হামলা জোরদারের সঙ্গে সঙ্গে তাদের নিরাপক্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। এরই মধ্যে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আট হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিশু রয়েছে। ফলে এসব ইসরায়েলি পরিবার থেকেও তাদের মুক্ত করে আনতে সরকারের ওপর চাপ আসছে।
গত শনিবার রাজধানী তেলআবিবে জিম্মিদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। সেখানেও তাদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। এসব পরিবার গাজায় বন্দি তাদের প্রিয়জনদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা জানতে চান। তারা হামাসের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে জিম্মিদের মুক্তির দাবি করেছেন। গত শনিবার হামাসও ইসরায়েলের সঙ্গে এ ধরনের বন্দি বিনিময় চুক্তি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে নেতানিয়াহুকে জিজ্ঞেস করা হয়। সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এসব পরিবারের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করেছেন বলে স্বীকার করেছেন নেতানিয়াহু।
মন্তব্য করুন