কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৪, ০৮:২৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ইসরায়েলে বসবাস করা আরব মুসলিম কারা?

জেরুজালেমে উড়ছে ইসরায়েলের পতাকা। ছবি : সংগৃহীত
জেরুজালেমে উড়ছে ইসরায়েলের পতাকা। ছবি : সংগৃহীত

ক্ষমতার দাপটে ব্রিটিশরা জোর করে মধ্যপ্রাচ্যে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। সাড়ে সাত দশকের বেশি সময় আগে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে উৎখাত করা হয় লাখো ফিলিস্তিনিকে।

কিন্তু এখনও ইসরায়েলে রয়েছে অনেক আরব মুসলিম। তাদের আত্মীয়স্বজন গাজা, পশ্চিম তীর, জর্ডান, লেবানন, সিরিয়া ও অন্যান্য দেশে থাকলেও তারা ইসরায়েলেই রয়ে গেছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ইহুদি শাসিত দেশটিতে সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘু গোষ্ঠী এই আরব মুসলিমরাই।

ইসরায়েল আগাগোড়া একটি ইহুদি রাষ্ট্র। কিন্তু দেশটিতে প্রায় ১৮ শতাংশ মুসলিম বাস করে। নিয়ম মেনে তারা পবিত্র হজও পালন করতে যান। তবে বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তা পিলে চমকানো।

বলা হচ্ছে, ইসরায়েলে ধীরে ধীরে কমছে মুসলিম জনসংখ্যা। ২০২২ সালে যেখানে ইসরায়েলে মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে জন্মহার ছিল ২.২ শতাংশ। তা গেল বছর কমে ২ শতাংশে নেমে এসেছে।

ইসরায়েলের সরকারি নথি এবং মিডিয়ায় আরব নাগরিকদের ‘আরব’ বা ‘ইসরায়েলি আরব’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও ইসরায়েলি আরবদের এভাবেই সম্বোধন করে থাকে।

১৯৪৮ সালে যখন ইসরায়েল রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়, তখন এই ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েল রাষ্ট্রের সীমানার ভেতরে রয়ে গিয়েছিল। তাদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ ১৯৪৮ সাল পরবর্তী যুদ্ধের সময় হয় ইসরায়েল ছেড়ে পালিয়ে যায় অথবা তাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হয়। বর্তমানে ইসরায়েলের গালিলি শহর এবং নেগেভ অঞ্চলে আরব মুসলিমদের জনসংখ্যা বেশি। অ-ইহুদি ইসরায়েলিদের জন্য বিভিন্ন বিধিনিষেধসহ অন্যান্য কারণে তারা এসব এলাকায় বাস করে।

ইসরায়েলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে দেশের সব নাগরিককে সমান সুযোগ সুবিধা দেওয়ার কথা বললেও আরবরা বৈষম্যের শিকার। দেশটির একাধিক আইনের বলেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় আরবদের। আর যেহেতু ইসরায়েল কেবল ইহুদিদের জন্যই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, তাই প্রকৃতিগতভাবেই অ-ইহুদিরা এখানে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক।

১৯৫০ সালের ল অব রিটার্ন অনুযায়ী, যে কোনো ইহুদি বা তার বংশদররা ইসরায়েলে আসতে পারবে সংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাবে। তবে অ-ইহুদিদের জন্য এমন অধিকার নেই।

অধিকাংশ ইহুদি ইসরায়েলির মতো আরব নাগরিকদের ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস বা আইডিএফে যোগ দিতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যদিও তারা চাইলে সেনাবাহিনীতে নাম লেখাতে পারে।

আরব ইসরায়েলিদের মধ্যে দ্রুজ ও সারকাসিয়ানরা সাধারণত সেনাবাহিনীতে তালিকাভুক্ত হয়। কিন্তু এ জন্য নিজেদের কমিউনিটিতেই একঘরে হয়ে পড়ে তারা। আইডিএফে তালিকাভুক্ত না হলে শিক্ষা, গৃহ নির্মাণ ও জমির মালিক হওয়ার মতো বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হয়।

অখণ্ড জেরুজালেমকে নিজেদের রাজধানী দাবি করে পুরো শহরের বাসিন্দাদের আদমশুমারি করে ইসরায়েল। যদিও তাদের এমন দাবি, না ফিলিস্তিনিরা মেনে নিয়েছে না জাতিসংঘ। ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের রাজধানী মনে করে। তাই পূর্ব জেরুজালেমের অধিকাংশ আরব নিজেদের কোনো দেশের নাগরিক মনে করে না। ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর তাদের ইসরায়েলের নাগরিক দিতে চাইলে অধিকাংশই তা প্রত্যাখ্যান করে। বর্তমানে তারা সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দার হিসেবে বসবাস করে। ইসরায়েলের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও তারা নির্বাচনে ভোট দিতে পারে না।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

ঘটনাপ্রবাহ: ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা

কসবায় অ্যাম্বুলেন্স-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ২

চার্জশিট পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মোবাইল ইন্টারনেট চালুর বিষয়ে জানাল গ্রামীণফোন

‘ভিক্ষা লাগবে না একটা পত্রিকা দেন, দেশের খবর জানি’ 

প্যারিস অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা থাকছে

যেভাবে দেখবেন অলিম্পিকে আর্জেন্টিনার ম্যাচ

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে খুলবে ঢাবি

স্থানীয় সরকারের ২২৩ পদে নির্বাচন স্থগিত

ভালো নেই মুরগি ব্যবসায়ীরা

১০

গাজীপুরে খুলে দেওয়া হয়েছে পোশাক কারখানা

১১

পর্যটকশূন্য কাপ্তাই পর্যটনকেন্দ্রগুলো

১২

ফিফার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

১৩

পেন্টাগনের ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ

১৪

৪ বিভাগে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস

১৫

মোবাইলে অব্যবহৃত ইন্টারনেট প্যাকেজ সম্পর্কে যা জানা গেল

১৬

আর্জেন্টিনায় হতে পারে পরবর্তী কোপা

১৭

ঢাকার রাস্তায় তীব্র যানজট

১৮

নেপালে যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত, প্রায় সব আরোহী নিহত 

১৯

চাকরির প্রজ্ঞাপনে যা আছে

২০
X