রাতের অন্ধকারে মুখ ঢেকে ঢুকতেন মন্দিরে। লক্ষ্য ছিল দানবাক্স। তালা ভেঙে নিয়ে যেতেন শুধু টাকা। সোনা বা অলংকারে তার কোনো আগ্রহ ছিল না। অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন ভারতের ছত্তীসগড়ের দুর্গ শহরের ওই ব্যক্তি। বয়স তার প্রায় ৪৫।
গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশকে তিনি জানান, ঈশ্বরের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতেই মন্দিরে মন্দিরে চুরি করতেন তিনি। কারণ হিসেবে বলেন, ‘আমি এইচআইভি-আক্রান্ত। আমার এই দুর্দশার জন্য ঈশ্বরই দায়ী।’
পুলিশ জানায়, ২০১২ সালে এক মামলায় কারাগারে থাকার সময় ওই ব্যক্তির শরীরে এইচআইভি ভাইরাস শনাক্ত হয়। জেল থেকে বের হওয়ার পর সমাজে অবহেলা আর কর্মহীনতায় একসময় ক্ষোভ জন্ম নেয় তার মনে। তখনই তিনি মন্দিরে চুরির পরিকল্পনা করেন।
তদন্তে জানা গেছে, অন্তত ১০টি মন্দিরে দানবাক্স ভেঙে টাকা চুরি করেছেন তিনি। তবে পুলিশের ধারণা, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। প্রায় এক দশক ধরে চোখে ধুলো দিয়ে চুরি করলেও শেষ পর্যন্ত ধরা পড়েন গত ২৩ আগস্ট। দুর্গ শহরের উপকণ্ঠের একটি জৈন মন্দিরে চুরি করতে গিয়ে হাতে-নাতে আটক হন তিনি। পরদিন আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠান।
দুর্গের পুলিশ সুপার বিজয় আগরওয়াল স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, অভিযুক্ত স্পষ্ট জানিয়েছেন, ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস হারিয়েই তিনি এসব চুরি করতেন। চুরির টাকা দিয়েই চলত তার একার সংসার।
সূত্র : আনন্দবাজার
মন্তব্য করুন