কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৪৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

অস্ট্রেলিয়ায় হামলার আগে মাকে যা বলেছিলেন হামলাকারী

পুলিশের অভিযান ও অভিযুক্ত হামলাকারী। ছবি: সংগৃহীত
পুলিশের অভিযান ও অভিযুক্ত হামলাকারী। ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি বিচে ভয়াবহ হামলার আগে নিজেদের পরিবারকে বিভ্রান্ত করেছিলেন অভিযুক্ত বাবা ও ছেলে। পুলিশ ও গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ২৪ বছর বয়সী নাভিদ আকরাম এবং তার বাবা সাজিদ আকরাম পরিবারকে জানিয়েছিলেন, তারা সপ্তাহান্তে জার্ভিস বে-তে মাছ ধরতে যাচ্ছেন।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা সিডনির ক্যাম্পসি এলাকার একটি ছোট ধূসর ইটের বাড়িতে লুকিয়ে ছিলেন। এ বাড়িটি স্বল্পমেয়াদি ভাড়াভিত্তিক আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। রোববার বিকেলে নাভিদের মায়ের সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা হয়। তিনি জানান, ছেলে তাকে বলেছিল তারা সাঁতার ও স্কুবা ডাইভিং করেছে এবং গরমের কারণে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে সাজিদ এবং পরে নাভিদ ক্যাম্পসির ব্রাইটন অ্যাভিনিউয়ের একটি বাড়ি থেকে বের হন। কালো পোশাক পরা নাভিদ গাড়ির পেছনে কিছু সামঞ্জস্য করে রুপালি রঙের একটি হ্যাচব্যাক গাড়িতে উঠে পড়েন। এরপর গাড়িটি প্রায় ৪০ মিনিটের পথ পাড়ি দিয়ে পূর্ব দিকে রওনা দেয়। এর ৯০ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে বন্ডি বিচে গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা।

পুলিশের অভিযোগ, বেকার ইটশ্রমিক নাভিদ আকরাম এবং ফল বিক্রেতা সাজিদ আকরাম হানুক্কাহ উদযাপনরত মানুষের ভিড়ের ওপর নির্বিচারে গুলি চালান। এই হামলায় ১৬ জন নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন। এ সময় ঘটনাস্থলে পুলিশের গুলিতে সাজিদ নিহত হন। নাভিদও গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ গাড়ির ভেতর একটি পাইপ বোমা সদৃশ বিস্ফোরক উদ্ধার করে, যা পরে নিষ্ক্রিয় করা হয়। গাড়িতে একটি আইএস পতাকা থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয় এবং পরদিন ক্যাম্পসির ভাড়া বাড়ি থেকে আরও দুটি অস্ত্র জব্দ করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানান, সাজিদ আকরাম ১৯৯৮ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় আসেন। পরে পার্টনার ভিসা এবং একাধিকবার রেসিডেন্ট রিটার্ন ভিসা পান। নাভিদ আকরাম অস্ট্রেলিয়াতেই জন্মগ্রহণ করেন।

নাভিদের মা বলেন, তিনি বিশ্বাসই করতে পারছেন না যে তার ছেলে এমন সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে পারে। তার কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই। সে বাইরে ঘোরে না, মাদক বা মদ্যপান করে না। কাজ, বাড়ি আর ব্যায়াম—এই ছিল তার জীবন। এমন ছেলে সবাই চাইবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হোয়াইটওয়াশের মিশনে দুর্দান্ত ব্যাট করছে টাইগাররা

মেক্সিকোতে সশস্ত্র হামলায় মেয়র নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিনের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিলেন প্রফেসর ড. মজিবুল হক

তুরস্কের অঘটনে অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক জয় 

আত্মসমর্পণ করতে সিরাজগঞ্জ যাচ্ছেন আমির হামজা

খুলনায় ফজরের নামাজের সময় মসজিদে ঢুকে গুলি, আহত ২

মহারাষ্ট্রে একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা / আজকের চুক্তি মোজতবা খামেনির কাছে ট্রাম্পের আত্মসমর্পণ

ঘরে ঢুকে নৃশংসভাবে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, নেপথ্যে কী?

নবম পে-স্কেলে সুখবর: দ্বিগুণ হচ্ছে পেনশন, বাড়ছে বিভিন্ন ভাতা

১০

রামিসা হত্যা মামলা / মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২ আসামির জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করলেন হাইকোর্ট

১১

বেদে পল্লীতে এসি-সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে মাদক ব্যবসায়ীর রাজকীয় জীবনযাপন

১২

উদ্বোধনী ম্যাচে ড্র, ব্রাজিলের জন্য বড় অশনি সংকেত!

১৩

কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

১৪

প্রাথমিকের পরীক্ষায় ফি নির্ধারণ

১৫

নোয়াখালীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিল ছাত্রলীগ

১৬

নেইমারের সেই জার্সি পরেই মাঠে ছিলেন সাকিব

১৭

নলকূপ বসাতে গিয়ে ২ শ্রমিকের মৃত্যু

১৮

মমেক হাসপাতালে হাম ও হাম উপসর্গে শিশু মৃত্যু বেড়ে ৫১

১৯

সীমান্তে বিজিবির গুলিতে ভারতীয় চোরাকারবারি আহত

২০
X