কারও কোনো হুমকি-ধমকি আর নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কাই করল না যুক্তরাষ্ট্র। আপত্তি সত্ত্বেও অবশেষে ইউক্রেনকে নিষিদ্ধ ক্লাস্টার বোমার চালান পাঠিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। রুশ সেনাদের দমনে ভয়ংকর এই অস্ত্র পাঠানোর ঘোষণার ছয় দিনের মাথায় ইউক্রেনে পৌঁছে গেছে বিপজ্জনক বোমা। তবে কী পরিমাণ বোমা পাঠানো হয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা হয়নি। খবর রয়টার্স ও গার্ডিয়ানের।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন বিষয়টি নিশ্চিত করে বিবৃতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, পুতিন বাহিনীর শক্ত প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য এই বোমা সবচেয়ে কার্যকরী অস্ত্র হবে। যদিও এই বোমার ব্যবহার বিশ্বের ১২০টি দেশে নিষিদ্ধ। কারণ এই মারণাস্ত্র দীর্ঘদিন পর্যন্ত বেসামরিক মানুষের জন্যও বিপদের কারণ হতে পারে।
মূলত এটি রকেটসদৃশ একটি বোমার ভেতর অনেক ছোটো ছোটো বোমা থাকে। যখন বোমাটি ছোড়া হয় তখন ছোটো বোমাগুলো মাটিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক একের পর এক বিস্ফোরিত হতে থাকে।
তবে এ বোমার সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো, ছোট আকারের সব বোমাই সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরিত হয় না। আর এই অবিস্ফোরিত বোমা কয়েক বছর পর্যন্ত তাজা থাকে। ফলে যুদ্ধপরবর্তী সময়ে এগুলো বেসামরিকদের জন্য ভয়াবহতা ডেকে আনে। নিষিদ্ধ এই বোমা ভিয়েতনাম যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল। সেগুলো এখনো বিস্ফোরিত হয়ে প্রাণহানি ঘটে।
ইউক্রেনকে এ অস্ত্র দেওয়ার আগে কয়েক মাস বিষয়টি পর্যালোচনা করেন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা। এরপর গত সপ্তাহে শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকে কিয়েভকে ক্লাস্টার বোমা দিতে সম্মত হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইউক্রেনে যে বোমা পাঠানো হয়েছে, সেগুলোর অবিস্ফোরিত থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।
নিষিদ্ধ এই বোমা পাঠানো নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে জার্মানি। বার্লিন বলছে, এ ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার যাতে না হয়, সে জন্য একটি চুক্তি হয়েছিল ২০০৮ সালে। সেই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী অন্যতম দেশ হলো জার্মানি।
চুক্তিতে বলা হয়েছিল, এ ধরনের বোমা বেসামরিক মানুষের ক্ষতির কারণ হতে পারে। কারণ, এ বোমা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করে না; বরং চারদিকে ছড়িয়ে যায়। ফলে এ বোমা ব্যবহার করলে বহু মানুষ আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে। এর ফলে এ বোমায় আক্রান্ত হতে পারেন বেসামরিক মানুষও। অবশ্য ক্লাস্টার বোমাবিরোধী চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র নেই। ফলে ইউক্রেনকে এ ধরনের বোমা দিতে উত্তর আমেরিকার এ দেশটির আইনি কোনো সমস্যাও নেই।
মন্তব্য করুন