মুফতি আবু সালেহ
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৪, ০২:৩৭ এএম
আপডেট : ২৪ মে ২০২৪, ০৮:৫৭ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

শয়তানের অন্যতম অস্ত্র ‘চোখ’

শয়তানের অন্যতম অস্ত্র ‘চোখ’

চোখ মানুষের মনের প্রধান দরজা। অন্তরের বার্তাবাহক। চোখ কোনো কিছু অবলোকন করা মাত্রই তা মুহূর্তেই পৌঁছে দেয় অন্তরের গভীরে। তখন সেটাকে কেন্দ্র করে অন্তরে কল্পনা-জল্পনার ঝড় ওঠে। তাই চোখের হেফাজত যেমন পুরুষের জন্য আবশ্যক, তেমনি নারীর জন্যও জরুরি। অথচ বর্তমান সমাজের চিত্র খুবই ভীতিপ্রদ। পুরুষরা যেমন নারীদের থেকে দৃষ্টি সংযত করে না, তেমনি নারী দৃষ্টিও পুরুষদের প্রতি খুবই বেপরোয়া। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা নারী-পুরুষ উভয়কে দৃষ্টি সংযম ও যৌনাঙ্গের হেফাজতের আদেশ দিয়ে বলেছেন, ‘আপনি মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য রয়েছে অধিক পবিত্রতা। নিশ্চয়ই তারা যা করে আল্লাহ তা জানেন। আর আপনি মুমিন নারীদের বলুন, যেন তারা দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের গোপনাঙ্গের হেফাজত করে।’ (সুরা নুর: ৩০-৩১)।

চোখ আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত। এ নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও সদ্ব্যবহার হলো, হারাম বস্তু না দেখা, পরনারী থেকে দৃষ্টি সংযত রাখা, অভিশপ্ত নর্তকীদের নাচ-গান, ব্লু-ফিল্ম, পর্নোগ্রাফি ইত্যাদি জীবন বিধ্বংসী অশ্লীলতা দেখা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা। এসবই অভিশপ্ত শয়তানের পাতানো ফাঁদ। যে এ ফাঁদে পা রাখবে তার ধ্বংস অনিবার্য। এ ছাড়া চোখে দেখে কোরআন তেলাওয়াত, দ্বীনি বই-পুস্তক অধ্যয়ন এবং খাঁটি আল্লাহওয়ালাদের সংস্রব লাভে তাদের চেহারায় দৃষ্টিপাত চোখের সদ্ব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত। সেইসঙ্গে পিতা-মাতার প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা ও অনুকম্পার দৃষ্টিতে তাকানো, প্রিয়তমা স্ত্রীর প্রতি অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ভালোবাসার আদান-প্রদান, সন্তানদের স্নেহ-মমতার দৃষ্টিতে অবলোকন এবং অন্যান্য মানুষকে কল্যাণকামিতা ও শুভকামনার সঙ্গে দেখা ইত্যাদির মাধ্যমেও দৃষ্টিশক্তির সদ্ব্যবহার করা যায়। চোখের সদ্ব্যবহারে পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আল্লাহর সৃষ্টিরাজি দেখে তা থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং স্রষ্টার পরিচয় লাভ করাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ মর্মে পবিত্র কোরআনের বাণী খুবই চমৎকার, ‘তারা কি দৃষ্টিপাত করে না উটের দিকে, কীভাবে তা সৃষ্টি করা হয়েছে? এবং আকাশের দিকে, কীভাবে তা ঊর্ধ্বে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে? পর্বতমালার দিকে, কীভাবে তা স্থাপন করা হয়েছে? ভূমির দিকে, কীভাবে তা বিস্তৃত করা হয়েছে?’ (সুরা গাশিয়াহ : ১৭-২০)

কুনজর দেহমনে নিক্ষিপ্ত এক বিষাক্ত তীর, যা প্রথমে হৃদয়ে বিদ্ধ হয় তারপর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে এর বিষক্রিয়া। ইবলিশ মানবজাতিকে পথভ্রষ্ট করার জন্য যারপরনাই পাঁয়তারা করে! এসবের মধ্যে কুনজর তার মোক্ষম হাতিয়ার। এটাকে কাজে লাগিয়ে সে প্রথমে মানবমনে কুমন্ত্রণা ও কুচিন্তা সৃষ্টি করে, যা জন্ম দেয় কুপ্রবৃত্তি। এবার এ প্রবৃত্তি দেহমনে লাগিয়ে দেয় যৌবনের উন্মাদনার ভয়াবহ আগুন, যা জ্বালিয়ে ভস্ম করে দেয় মানুষের চারিত্রিক পবিত্রতা, আত্মিক প্রশান্তি এবং দৈহিক শক্তি। সে সৃষ্টির সেরা মানবকে জনসমাজে ধিকৃত, অপদস্থ ও লাঞ্ছিত করে। যারা কামভাব নিয়ে পরনারীর প্রতি তাকিয়ে থাকে তাদের ইহজীবন যেমন অশান্তি, অস্থিরতা ও বেদনায় পর্যুদস্ত হয় তেমনি পরকালীন জীবনও হয় অসহনীয় শাস্তি ও দুঃখ-কষ্টে লন্ডভন্ড। আবদুল্লাহ ইবনে মাসুদ সূত্রে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) মহান আল্লাহর ভাষ্য বর্ণনা করেন এভাবে—‘দৃষ্টিপাত ইবলিশের বিষাক্ত তীরসমূহের একটি। যে ব্যক্তি আমার ভয়ে তা পরিত্যাগ করে, বিনিময় হিসেবে তাকে ইমানের এমন অপার্থিব স্বাদ আস্বাদন করাই, যা সে তার অন্তরে অনুভব করে।’ (আতারগিব ওয়াত তারহিব : ৩/৮৬)

ইসলামের অনুপম শিক্ষা হলো, শরয়ি কারণ ছাড়া অন্যের ব্যক্তিগত গোপনীয় বিষয় দেখা জায়েজ নয়। যেমন কারও মোবাইলের মেসেজ, ইনবক্স, মেসেঞ্জার, গ্যালারি ইত্যাদি চেক করা নিষেধ। একইভাবে কারও ব্যক্তিগত তথ্য, চিঠিপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করা, পরীক্ষার হলে একে অন্যের উত্তর দেখে কপি করা, কারও ঘরে সদর দরজা কিংবা জানালা দিয়ে উঁকি দেওয়া বৈধ নয়। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যদি কেউ তোমার ঘরে তোমার অনুমতি ছাড়া উঁকি মারে আর তুমি পাথর মেরে তার চক্ষু ফুটা করে দাও, তাতে তোমার কোনো গুনাহ হবে না।’ (বোখারি : ৬৮৮৮)। এ ছাড়া নারী-পুরুষ একে অন্যের সতরের দিকে তাকানো নাজায়েজ। পুরুষের সতর হচ্ছে নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত। নারীর সতর মাহরামদের সামনে মুখাবয়ব, হাতের কবজি এবং পায়ের টাখনু ছাড়া বাকি দেহ। আর গায়রে মাহরামের সামনে পূর্ণ শরীর।

লেখক: ইমাম ও খতিব

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাস লেখা সম্ভব নয় : মোশাররফ

এখনো বাকি জকসুর ৩৫ কেন্দ্রের ফল

বুধবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ

ট্রেইনি অফিসার পদে নিয়োগ দিচ্ছে আরএফএল গ্রুপ

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরির সুযোগ

৭ জানুয়ারি : আজকের নামাজের সময়সূচি

চট্টগ্রামে সড়কে পড়ে ছিল মার্সিডিজ, উদ্ধার করল পুলিশ

ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে নতুন ঘোষণা ট্রাম্পের

প্রশাসনের মধ্যস্থতায় সুন্দরবনে পর্যটকবাহী নৌযান চলাচল স্বাভাবিক

ফরিদপুরে যৌথবাহিনীর অভিযানে পিস্তল, গুলি ও ককটেল উদ্ধার

১০

‘যাদেরকে আমার লোক মনে করেছি, তারা এখন জামায়াতের রুকন’

১১

জামায়াত আমিরের সঙ্গে ঢাবি উপাচার্যের সাক্ষাৎ

১২

ভারত থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল কিনবে সরকার

১৩

হাদি হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিক্রিয়া

১৪

ক্রিকবাজের দাবি / আপাতত বাংলাদেশের অনুরোধে সাড়া দেয়নি আইসিসি

১৫

নতুন যে বার্তা দিলেন ‍মুস্তাফিজ

১৬

চমক রেখে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল ঘোষণা লঙ্কানদের

১৭

২৮ ভরি স্বর্ণ জামায়াত প্রার্থীর, পেয়েছেন বিয়েতে উপহার

১৮

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের খরচ দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা টিআইবির

১৯

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জন নিয়ে যা বলছে অধিদপ্তর

২০
X