রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
ডা. মো. শরীফুল আলম
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১৩ জুন ২০২৫, ০৮:৪৫ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাস্থ্য পরামর্শ

এনজিওগ্রাম সম্পর্কে যা জানা প্রয়োজন

এনজিওগ্রাম সম্পর্কে যা জানা প্রয়োজন

এনজিওগ্রাম কী: এনজিওগ্রাম হলো একটি নিরীক্ষা পদ্ধতি। যেখানে এক্স-রে বা অন্যান্য চিত্রায়ণের মাধ্যমে রক্তনালির ভেতরে রক্তপ্রবাহের অবস্থা নির্ণয় করা হয়। এ পরীক্ষায় শরীরে একটি কন্ট্রাস্ট ডাই (বিশেষ রং) প্রবেশ করানো হয়, যা রক্তনালির অবস্থা স্পষ্ট করে তোলে। রক্তনালিতে ব্লকেজ বা সংকীর্ণতা থাকলে এটি শনাক্ত করা সহজ হয়।

এনজিওগ্রাম কেন করা হয়: এনজিওগ্রামের মাধ্যমে চিকিৎসক বিভিন্ন রোগ, যেমন করোনারি আর্টারি ডিজিজ, পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ, রক্ত জমাট বাঁধা বা অ্যানিউরিজম শনাক্ত করতে পারেন। রক্তনালির ক্ষতি বা বাধা সঠিকভাবে নির্ণয় করার জন্য এবং চিকিৎসার পরিকল্পনা করার জন্য এ পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পরীক্ষার প্রস্তুতি: এনজিওগ্রামের আগে চিকিৎসক রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা এবং কিডনির কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করতে পারেন। পরীক্ষার দিন সকালে শুধু স্বচ্ছ তরল পান করতে হবে এবং অলংকার বা মূল্যবান জিনিসপত্র বাড়িতে রেখে আসতে হবে।

এনজিওগ্রামের সময় কী হয়: এনজিওগ্রামের সময় হাতের কবজি বা কুঁচকির ওপরে অবশ করা হয়। এরপর একটি সূক্ষ্ম টিউব বা ক্যাথেটার রক্তনালিতে প্রবেশ করানো হয়। এ টিউব দিয়ে কন্ট্রাস্ট ডাই প্রবাহিত করা হয়, যা এক্স-রে মনিটরে রক্ত প্রবাহের ছবি দেখায়। এ সময় কিছুক্ষণের জন্য শরীর গরম অনুভব হতে পারে।

পরীক্ষা শেষে কী করবেন: পরীক্ষার পরে ক্যাথেটার সরিয়ে নেওয়া হয় এবং রক্তক্ষরণ এড়াতে ব্যান্ডেজ লাগানো হয়। হাতের কবজিতে কমপক্ষে চার ঘণ্টা এবং কুঁচকির ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা ব্যান্ডেজ চেপে রাখা হয়। এরপর বাড়ি ফিরে ভারি কাজ বা ওজন বহন থেকে দুদিন বিরত থাকতে হয়।

এনজিওগ্রামের ঝুঁকি: এনজিওগ্রামের ঝুঁকি খুব কম হলেও সামান্য কিছু জটিলতা হতে পারে, যেমন রক্তক্ষরণ, সংক্রমণ বা রক্তনালির আঘাত। কন্ট্রাস্ট ডাইয়ের প্রতি অ্যালার্জি থাকলে তা জানিয়ে দেওয়া জরুরি। কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে ডাই ব্যবহার করার কারণে কখনো কখনো ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হতে পারে।

ফল ও চিকিৎসা: পরীক্ষার পর চিকিৎসক ব্লকেজের মাত্রা নির্ধারণ করেন। ছোট ব্লকেজ থাকলে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন বা ওষুধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বড় ব্লকেজ থাকলে এনজিওপ্লাস্টি বা বাইপাস সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।

এনজিওগ্রাম হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা, যা রক্তনালির স্বাস্থ্য নির্ণয়ে কার্যকর। পরীক্ষাবিষয়ক কোনো প্রশ্ন থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন।

ডা. মো. শরীফুল আলম

কনসালট্যান্ট, ক্লিনিক্যাল ও ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

চেম্বার: আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০

কালবেলা
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আরেক ফুটবলারের অভিষেক

সিরিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৩৫

রাজবাড়ীতে সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ

শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকায় আগুন, এক ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে

বিলাসবহুল গাড়িতে পাওয়া গেল কোটি টাকার গাঁজা

ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ভারতের প্রাচীন বৌদ্ধ স্থান সারনাথ

পরিচয় মিলল চলন্ত ফেরি থেকে পদ্মায় ঝাঁপ দেওয়া নিখোঁজ সেই নারীর 

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র, সম্পাদক শুভাশীষ কুমার

রাওয়ার উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

রিয়ালে এক পা বিশ্বকাপের গোল্ডেন বলজয়ী তারকার!

১০

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপি নেতা গুলিবিদ্ধ 

১১

ফ্যামিলি কার্ড নিয়োগ পরীক্ষায় ছাত্রদলের ২ নেতার মারামারি

১২

মেসি আর্জেন্টিনার নন! রক্তে ব্রাজিলের ছোঁয়া, গবেষণায় বেরিয়ে এলো পারিবারিক ইতিহাসের এক অজানা অধ্যায়

১৩

গোপনে কারামুক্ত হলেন তৌহিদ আফ্রিদি

১৪

মৌলভীবাজারে দায়ের কোপে নারীর পা বিচ্ছিন্ন

১৫

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি থেকে পদ্মায় ঝাঁপ, নারী নিখোঁজ

১৬

ঈশানের প্রত্যাবর্তন আর তিলকের তাণ্ডবে নতুন রেকর্ড ভারতের

১৭

দুর্নীতি করলে আওয়ামী লীগের চেয়েও খারাপ পরিণতি হবে: সারজিস আলম

১৮

কবর জিয়ারতকালে ২ ভাইয়ের ওপর আ.লীগ নেতার হামলা

১৯

আমাদের সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হতে হবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ

২০
X