চট্টগ্রামে ভবন নির্মাণ করতে হলে নকশা অনুমোদনের জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে (সিডিএ)। এ জন্য ফরমপ্রতি ২ হাজার টাকা নগরের কোতোয়ালি এলাকায় সিডিএ ভবন-সংলগ্ন পূবালী ব্যাংকের শাখায় জমা দিতে হয়। কিন্তু চার বছর ধরে একটি চক্র ব্যাংক স্লিপ জাল করে সিডিএর কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সিডিএর কিছু কর্মী জড়িত বলে জানা গেছে।
সিডিএ সূত্র জানায়, গত ২৮ আগস্ট প্রথম একটি জাল স্লিপ এক কর্মকর্তার নজরে আসে। পরে তিনি স্লিপটি যাচাইয়ের জন্য ওই ব্যাংকে যান। সেখানে গিয়ে আরও কিছু জাল স্লিপ পান, যার বেশিরভাগেই রয়েছে সিডিএর দুজন কর্মচারীর স্বাক্ষর।
বিষয়টি গ্রাহকরা জানতে পারলে ওই দুই কর্মচারীর কাছে টাকা ফেরত চান। বাধ্য হয়ে টাকা ফেরতও দেন তারা। একইভাবে ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্রের জন্য জমা দেওয়া নথিতেও ব্যাংক স্লিপ জাল করে জমা দেওয়ার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। ফলে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র অনুমোদন আপাতত বন্ধ করে দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ নিয়ে গত ৩১ আগস্ট সিডিএর কোটি টাকা রাজস্ব আত্মসাৎ এবং তদন্তপূর্বক শাস্তির জন্য ব্যবস্থা নিতে প্রতিষ্ঠানটির সচিব বরাবরে চিঠি দেন সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস। তিনি বলেন, এ ঘটনায় সিডিএর সুনাম নষ্ট হয়েছে।
সিডিএর এক কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, আরও দুই বছর আগে এ ধরনের একটি ঘটনা আমার সঙ্গে ঘটেছিল। তখন বিষয়টি আমি মৌখিকভাবে জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো প্রমাণ ছিল না। একই ঘটনা আবারও ঘটেছে। তার মানে এখানে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারী থেকে শুরু করে অনেকেই জড়িত। সই জাল করে সিডিএর কোটি কোটি টাকা লুট হচ্ছে।
এ বিষয়ে সিডিএর চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি যতদিন দায়িত্বে আছি ততদিন অনিয়ম করে কেউ পার পাবে না।
মন্তব্য করুন