প্রকাশকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অমর একুশে গ্রন্থমেলার সময় দুদিন বাড়ানোয় এবার মেলা গড়িয়েছে মার্চে। কিন্তু গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে মেলার ছিল না সেই চিরচেনা রূপ। ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড় থাকলেও কেনাকাটা হয়েছে স্বাভাবিক দিনের মতোই। আজ শনিবার শেষ হচ্ছে মেলা। আজও এমন গেলে বাড়তি দুদিনের সুফল মিলবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশকরা বলছেন, স্বাভাবিকভাবে মেলার শেষ দুদিনে যেমন বিক্রি হয়, মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা আগাম আসায় তা হয়নি। শুক্রবার ছুটির দিনেও মেলার পরিবেশ ছিল বেশ নিরিবিলি। কথা প্রকাশ প্যাভিলিয়নের ব্যবস্থাপক পরিচালক মোহাম্মদ ইউনূস বলেন, বৃহস্পতিবার যদি মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা আসত, তাহলে মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা পুরোপুরি পাওয়া যেত। মেলায় আজ (গতকাল) টুকটাক পাঠক এসেছেন, কিন্তু তা আশানুরূপ নয়।
মেলায় ঘুরতে এসেছিলেন দুই বোন স্কুল শিক্ষার্থী দ্রোহী ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া লাভলী হক। তারা অন্যপ্রকাশের প্যাভিলিয়ন থেকে লেখক মৌরী মরিয়মের ‘ফানুস’ উপন্যাসটি নেড়েচেড়ে দেখছিলেন। এ সময় তাদের সঙ্গে কথা হলে কালবেলাকে তারা বলেন, এবারের বইমেলায় তিন-চারবার আসা হলো। সময় বাড়ানো কোনো প্রয়োজন ছিল না। এতে করে মেলার ঐতিহ্যও কিছুটা ক্ষুণ্ন হয়েছে। মেলা আজ (গতকাল) তুলনামূলকভাবে দর্শনার্থীর সংখ্যা কম, তবে যারা এসেছেন, তারা অধিকাংশই ক্রেতা।
সাহিত্য বিলাস প্রকাশনীর স্টলে কথা হলো লেখক ফারুক উদ্দিন মানিকের সঙ্গে। বইমেলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এত লোক এখন মেলায় আসছেন, কিন্তু বই তেমন বিক্রি হয়নি। যারা প্রকৃতই বই কিনতে চান, ভিড়ের জন্য তারা স্বস্তিতে বই যাচাই-বাছাই করতে পারেন না। অনিন্দ্য প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী আশিক রহমান বলেন, আজ (গতকাল) মেলার অতিরিক্ত দুদিনের প্রথম দিন অনুযায়ী মেলায় তেমন বিক্রি হয়নি। তবে সন্ধ্যার পর পাঠকের ভিড় বাড়ার সম্ভাবনা আছে। আশা করি, তখন বিক্রি ভালো হবে।
পলল প্রকাশনীর স্টল কর্মী সজীব নিতি বলেন, আমাদের প্রকাশনীর অধিকাংশ বই গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট। এগুলোর মেলায় বেশ ভালো চাহিদা ছিল। মেলায় সময় বাড়ানোর ফলে পাঠক যেভাবে বাড়বে বলে আশা করেছিলাম, সেভাবে বাড়েনি।
এদিকে গতকাল পর্যন্ত নতুন বইয়ের তালিকা করেছে বাংলা একাডেমি। তাদের হিসাবে এবার মেলায় নতুন এসেছে ৩ হাজার ৪৭৫টি বই। সবচেয়ে বেশি কবিতার বইয়ের সংখ্যা ১ হাজার ২৫২টি। উপন্যাস দ্বিতীয় স্থানে, ৫১৩টি। আর গল্পের বই এসেছে ৪৮৮টি। এ ছাড়া প্রবন্ধের ১৮১টি, জীবনী ১২০টি, ছড়া ৯৮টি, গবেষণা গ্রন্থ ৭৩টি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ৬৫টি, বিজ্ঞানবিষয়ক ৬০টি এসেছে। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু, ইতিহাস, রাজনীতি, নাটক, ভ্রমণ, চিকিৎসা, অভিধানসহ বিভিন্ন বিষয়ের বই প্রকাশিত হয়েছে।
গতকালও মেলায় এসেছে কথাপ্রকাশ থেকে অধ্যাপক আফসান চৌধুরীর ‘দ্য মিডিয়া ইন বাংলাদেশ’ ও মুহম্মদ মনিরুল হুদার প্যারা সাইকোলজি উপন্যাস ‘ওনারা’। এ ছাড়া ঐতিহ্য থেকে প্রকাশিত ধ্রুব এষের ‘কুঁড়েঘর ভর্তি সন্ধ্যার পাখি’, মাহফুজ আলমের ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও সমকালীন জনমত ১৯২১-১৯৪৭; বইসহ বেশ কয়েকটি বই।
আজ শনিবার অমর একুশে বইমেলার সমাপনী দিন। মেলা শুরু হবে সকাল ১১টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৫টায় সমাপনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা ভাষণ দেবেন একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৪’-এর সদস্য সচিব ডা. কে এম মুজাহিদুল ইসলাম। প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমদ। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। অনুষ্ঠানে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার, রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার এবং শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করা হবে।