

২০১৩ সালে ক্যারিয়ার শুরুর পর ‘ঘাসফুল’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রেখেছিলেন অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। তবে সেই অভিজ্ঞতার পর নিজেকে অভিনয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত মনে করেননি। দীর্ঘ বিরতি ও প্রস্তুতির পর অবশেষে রায়হান খানের হাত ধরে ঈদে বড় পর্দায় ফিরছেন তিনি। এবার তাকে দেখা যাবে বাংলাদেশের এক রোমহর্ষক সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত ‘ট্রাইব্যুনাল’ সিনেমায়।
‘দ্য ৯০’স’-এর ব্যানারে নির্মিত এ সিনেমাটির ট্যাগলাইন—‘সত্যের আড়ালে লুকানো সত্য’। এতে ‘জেসমিন’ নামের এক সংগ্রামী ও ভিকটিম নারীর চরিত্রে নিজেকে ভাঙছেন তানিয়া বৃষ্টি।
তারকাবহুল কাস্টিং ‘ট্রাইব্যুনাল’ সিনেমায় তানিয়া বৃষ্টি ছাড়াও একঝাঁক তারকাকে দেখা যাবে। সিনেমাটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন দেশবরেণ্য অভিনেতা তারিক আনাম খান। এ ছাড়া থাকছেন চিত্রনায়ক আদর আজাদ, অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ ও সায়রা আকতার জাহান। সিনেমাটিতে একটি বিশেষ চমক হিসেবে থাকছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া। আদালতের ফাইলের ভাঁজে হারিয়ে যাওয়া এক সত্য ঘটনাকে পর্দায় জীবন্ত করে তুলতে পরিচালক রায়হান খান এ শক্তিশালী টিমকে একত্রিত করেছেন।
২০১১ সালের জেসমিন হত্যা ও প্রস্তুতি সিনেমাটির গল্প গড়ে উঠেছে ২০১১ সালে চট্টগ্রামে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে। নদীর ধারের এক বস্তির তরুণী জেসমিন, যাকে তার স্বামী কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছিল। সেই জেসমিন চরিত্রেই দেখা যাবে তানিয়া বৃষ্টিকে।
চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে অভিনেত্রী নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। তানিয়া বলেন, “জেসমিন চরিত্রটা এত সুন্দর যে, পুরো গল্পটা এ মেয়েটিকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে। চরিত্রটির ‘র’ কষ্টটা বোঝার জন্য আমি বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়েছি। রোগীদের হাত ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কথা বলেছি, তাদের কষ্ট দেখেছি। আমার চুল কালো করা থেকে শুরু করে হাঁটাচলা—সবকিছুতে পরিবর্তন এনেছি।”
প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি আরও জানান, এক মাস ধরে গুণী অভিনেতা তারিক আনাম খানের কাছে রিহার্সাল করেছেন। তানিয়া বলেন, ‘স্যারের রিহার্সালে না গেলে বুঝতাম না এ চরিত্রটি আসলে কীভাবে চিন্তা করবে। আমি আমার জায়গা থেকে ১০০ ভাগ এফোর্ট দিয়েছি।’ বড় পর্দায় ফেরা ও প্রত্যাশা দীর্ঘদিন পর বড় পর্দায় ফেরা প্রসঙ্গে তানিয়া বৃষ্টি বলেন, “‘ঘাসফুল’ করার পর মনে হয়েছিল আমি প্রস্তুত নই। এখন রায়হান ভাইয়ের মতো মেন্টর এবং এমন একটি শক্তিশালী গল্প পেয়ে মনে হয়েছে—ফিল্মে ব্যাক করার জন্য এর চেয়ে বড় সুযোগ আর হতে পারে না।” তিনি আরও বলেন, “মানুষ এখন গল্প দেখতে চায়। ‘ট্রাইব্যুনাল’ শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়, এটি অবহেলা করা অসংখ্য মামলার কণ্ঠস্বর। এটি সেই নারীদের প্রতিধ্বনি, যারা কোনোদিন শিরোনামে জায়গা পাননি। আমার বিশ্বাস, দর্শক এ সত্য ঘটনাটি গ্রহণ করবেন।”
মন্তব্য করুন