প্রকাশক ইমেরিটাস মহিউদ্দিন আহমেদকে শ্রদ্ধাসহকারে স্মরণ করেছেন লেখক, সাহিত্যিক, গবেষক, সাংবাদিক, প্রকাশনা জগতে যুক্ত ব্যক্তি এবং দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) কর্মীরা। প্রতিষ্ঠাতা প্রকাশক এমেরিটাস মহিউদ্দিন আহমেদ স্মরণে বৃহস্পতিবার (২২ জুন) বিকেলে ইউপিএল কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে তার সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রকাশনা জগতে মহিউদ্দিন আহমেদের অবদান স্মরণ করা হয়।
স্মরণসভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন কথাসাহিত্যিক আন্দালিব রাশদী। তিনি বলেন, দেশে প্রথম যখন গ্রন্থ নীতিমালা বা পলিসি তৈরির কথা ওঠে তখন মহিউদ্দিন আহমেদ অন্যান্য প্রকাশকরা মিলে গবেষণা করে একটি গ্রন্থ তালিকা তৈরি করেন। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তা এগোয়নি। প্রকাশনা জগতে মহিউদ্দিন আহমেদের কাজের কোনো স্বীকৃতি রাষ্ট্রীয়ভাবে দেওয়া হয়নি। ‘রিডিং সোসাইটি’র ধারণা বাংলাদেশে তিনিই তুলে ধরেন। মহিউদ্দিন আহমেদের নামে পাবলিক লাইব্রেরিতে ‘মহিউদ্দিন আহমেদ রিডিং সোসাইটি’ নামে একটি পাঠকক্ষ চালু করার কথা ভাবতে পারেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আন্দালিব রাশদী আরও বলেন, দুই বছর হলো মহিউদ্দিন আহমেদ আমাদের সঙ্গে নেই। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে আধুনিক প্রকাশক ছিলেন তিনি। মহিউদ্দিন ভাই কেবল বই প্রকাশ করেননি তিনি লেখক তৈরিও করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা বীর উত্তম রফিকুল ইসলামের লেখা আ টেল অব মিলিয়নস বইটি লিখতেও তিনি সহযোগিতা করেছেন। আলফ্রেড নফের প্রোট্রেট অফ আ পাবলিশারের মতো মহিউদ্দিন আহমেদের প্রকাশনা জীবন নিয়ে কয়েক ভলিউমের বই প্রকাশ করা দরকার। তাতে মানুষ তার জীবন ও ইউপিএলকে আরও গভীরভাবে জানতে পারবে।
মহিউদ্দিন আহমেদের বন্ধু গণসাহায্য সংস্থার চেয়ারম্যান ড. ফ র মাহমুদ হাসান বলেন, মহিউদ্দিন আহমেদ সারাজীবন কাজ করে নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছিলেন। আমি বলব, মহিউদ্দিন আহমেদ নিজের মেয়েকে ফিরে পেয়েছিলেন। কারণ যারা বাবা নন তারা বুঝবেন না মেয়ের সঙ্গে বাবার সম্পর্কের যে ভিন্ন মাত্রা থাকে, তা প্রতিষ্ঠানে বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহ্রুখ মহিউদ্দীন ইউপিএলকে বাবার প্রতিষ্ঠান থেকে দেশের প্রতিষ্ঠান, তা থেকে নিজের প্রতিষ্ঠান এবং দেশের মানুষের প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কাজ করছেন। সব মেয়েদের প্রতি আমার আবেদন, যারা বিদেশে আছ, তারা দেশে ফিরে এসো। দেশে অনেক কাজ করার আছে। এ দেশের মতো দেশ আর হয় না।
মহিউদ্দিন আহমেদের বন্ধু, সহকর্মী ও লেখক ড. নিয়াজ জামান বলেন, ১৯৫৬ সালে মহিউদ্দিন আহমেদকে প্রথম দেখি। এরপর ১৯৭১-এর পর যখন ইউপিএল শুরু করেছে তখন আমাকে ইউপিএল-এর ম্যানুস্ক্রিপ্ট পড়তে দিয়েছিলেন। মহিউদ্দিন প্রকাশিত বহু বই পড়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আমার অনেকগুলো বইয়ের প্রকাশকও ছিলেন—এটা ভেবে আমার গর্ববোধও হয়। মহিউদ্দিন আহমেদ যখন মারা যায় তখন আমি যাইনি। গতবছরও স্মরণ অনুষ্ঠানে আসিনি। এবার মাহ্রুখকে বলি আমি অনলাইনে যুক্ত হবো। কিন্তু আজ না এসে পারিনি। তিনি ছিলেন আমার বন্ধু, প্রকাশক, মেন্টর।
কবি কামাল চৌধুরী বলেন, লেখালেখি করার সুবাদে প্রকাশকদের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়। বাংলাদেশে সৃজনশীল ও মানসম্মত বই যারা প্রকাশ করেন তাদের মধ্যে মহিউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়। বাংলাদেশে প্রকাশনা শিল্পের আজকের সমৃদ্ধ অবস্থা আজ একদিনে তৈরি হয়নি। বহু মানুষের শ্রম, মেধা ও সৃজনশীলতার ফলে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। তাদের মধ্যে যিনি প্রণম্য, তিনি মহিউদ্দিন আহমেদ।
স্মরণসভায় জুমে যুক্ত হন ভারতীয় লেখক অরিন্দম বণিক, ইসলামাবাদ থেকে লেখক তাসনীম নূরানী, মহিউদ্দিন আহমেদের ছোট মেয়ে শামারুখ মহিউদ্দীন ও তার মেয়ে জামাই আদিব মাহমুদ। সভায় উপস্থিত ছিলেন মহিউদ্দিন আহমেদের সহধর্মিণী মেহতাব খানম।
মন্তব্য করুন