শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৪, ০৯:৫১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সাতক্ষীরায় সওজের উচ্ছেদ অভিযান, কান্না থামছে না আশ্রয়হীনদের

সাতক্ষীরায় সড়কের দুই ধারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে কান্নায় ভেঙে পড়েন আশ্রয়হীন এক নারী। ছবি : কালবেলা
সাতক্ষীরায় সড়কের দুই ধারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে কান্নায় ভেঙে পড়েন আশ্রয়হীন এক নারী। ছবি : কালবেলা

সাতক্ষীরায় সড়কের দুই ধারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। সোমবার (১ জুলাই) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা শহরের নিউমার্কেট মোড় থেকে এ অভিযান শুরু হয়। সড়ক ও জনপদ বিভাগ খুলনার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়ানুর রহমানের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানে এ সময় সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।

সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজ বলেন, সাতক্ষীরা শহর থেকে ভেটখালী পর্যন্ত ৬২ কিলোমিটার সড়কের ধারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। এর আগে বারবার মাইকিং করে এবং নোটিশের মাধ্যমে দখলদারদের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হলেও তারা তা সরিয়ে না নেওয়ায় এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এরইমধ্যে শহর থেকে ভেটখালী পর্যন্ত চার লেন সড়কের টেন্ডারও সম্পন্ন হয়েছে। সড়কের জায়গা উদ্ধারের পর বাকি কার্যক্রমও শুরু হবে।

এদিকে ইটাগাছা এলাকার খোকন বিশ্বাসসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, পূর্বে তাদের কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। রাস্তার পাশে থাকা একটি স্কাভেটর মেশিনও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মেশিনটি হস্তান্তরযোগ্য হলেও কোনো সুযোগ না দিয়ে ভেঙে দেওয়ার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তারা। এ ছাড়া রাস্তার ধারে বসবাসকারী গরিব মানুষগুলোও পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। এমনকি ঘরে থাকা খাবারগুলোও সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইটাগাছা বস্তির জবেদা বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, বৃষ্টির দিনে প্রতিবন্ধী মেয়েদের নিয়ে কোথায় যাব? কোথায় থাকবো? কী হবে আমাদের? ভিক্ষা করে সংসার চালায়। দুই প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে খুপড়ি ঘর বেঁধে বহুবছর ধরে এখানে থাকি। স্বামী ছিল, সেও ছেড়ে চলে গেছে। যে ঘরটি ছিল তাও কেড়ে নিল। এখন যাব কোথায়?

জবেদার মতো গৃহহীন হয়ে পড়েছে রোকেয়া, লিলি, জাহারানা, রিক্তাসহ অসংখ্য নারী প্রধান পরিবার। এদের কেউ স্বামী পরিত্যাক্তা, কেউবা বিধবা। রাস্তার পাশের সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমিতে সন্তান-সন্তানাদি নিয়ে বসবাস করতেন তারা। তবে, এক দুই বছর নয়, এদের কেউ কেউ এ বস্তিতে ঠাঁই নিয়েছেন দুই তিন যুগ আগে।

জবেদার ঠিক পাশে ঘর থেকে জিনিসপত্র বের করে নিয়ে মাঠের ধারে নাতনিকে নিয়ে বসে ছিলেন জামের আলী। কান্নাজিড়ত কণ্ঠে তিনি বলেন, পথে বসে গেছি। এই ছোট বাচ্ছা নিয়ে কোথায় যাব জানি না। যা ছিল সব ভেঙে চুরে দেছে। সব শেষ। আল্লাহই জানে আমাদের কপালে এখন কী আছে।

রেশমা নামে আরেক নারী বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে এ জায়গায় থাকি। এখন আমাদের আর মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই।

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, সড়ক উন্নয়ন খুবই কাঙ্ক্ষিত। কিন্তু আশ্রয় হারানো মানুষগুলো যাবে কোথায়? বার বার বলা সত্ত্বেও তাদেরকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন মানুষগুলোকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে তিনি যেন নির্দেশ প্রদান করেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জ্যারেল কোয়ানসাকে ২ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করল ফিফা

যুদ্ধের মাশুল ট্রাম্প কীভাবে দেবেন?

‎প্রাথমিক বৃত্তি / ফল প্রকাশের আগেই ওয়েবসাইটে আপলোড, কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থার সুপারিশ

সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ তালিকা থেকে সরানোর ঘোষণা ট্রাম্পের

‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’ ভেঙেছে যুক্তরাষ্ট্র, অভিযোগ ইরানের

ফ্রান্সের বিপক্ষে মহারণের আগে মরক্কোর সংবাদ সম্মেলনে হাতাহাতি

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা

হাতিয়ায় ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে উপকূল বিপর্যস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে আরাগচির ফোনালাপ

১০

অভিবাসনের ইতিহাস মূলত স্বপ্ন থেকে বাস্তবে গড়ে ওঠা সংগ্রামের ফলাফল

১১

সিলেটে জেলা পরিষদের দেড় কোটি টাকার জমি উদ্ধার

১২

বাংলাদেশে আসছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী

১৩

চট্টগ্রামে ৫৯ স্থানে এআই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনা

১৪

পরিবেশ মেলার স্টল ঘুরে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী, উপহার পেলেন শিশুদের আঁকা ছবি

১৫

ফেনীর উত্তর আনন্দপুর যেন এক টুকরো ‘আর্জেন্টিনা’ 

১৬

বিশ্বকাপের পরই এমএলএসে এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন মেসি

১৭

চট্টগ্রামে বন্যা ও ভূমিধসকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন বিরোধীদলীয় নেতা

১৮

হেরে যাওয়ায় ব্রাজিলের সমর্থকরা হতাশ: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী 

১৯

‘ওয়ারিশ সূত্রে’ কে ইনকিলাব সেন্টারের দাবি করেছে, প্রশ্ন ওসমান হাদির বোনের

২০
X