বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৪, ০৯:৫১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সাতক্ষীরায় সওজের উচ্ছেদ অভিযান, কান্না থামছে না আশ্রয়হীনদের

সাতক্ষীরায় সড়কের দুই ধারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে কান্নায় ভেঙে পড়েন আশ্রয়হীন এক নারী। ছবি : কালবেলা
সাতক্ষীরায় সড়কের দুই ধারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে কান্নায় ভেঙে পড়েন আশ্রয়হীন এক নারী। ছবি : কালবেলা

সাতক্ষীরায় সড়কের দুই ধারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। সোমবার (১ জুলাই) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা শহরের নিউমার্কেট মোড় থেকে এ অভিযান শুরু হয়। সড়ক ও জনপদ বিভাগ খুলনার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়ানুর রহমানের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানে এ সময় সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।

সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজ বলেন, সাতক্ষীরা শহর থেকে ভেটখালী পর্যন্ত ৬২ কিলোমিটার সড়কের ধারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। এর আগে বারবার মাইকিং করে এবং নোটিশের মাধ্যমে দখলদারদের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হলেও তারা তা সরিয়ে না নেওয়ায় এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এরইমধ্যে শহর থেকে ভেটখালী পর্যন্ত চার লেন সড়কের টেন্ডারও সম্পন্ন হয়েছে। সড়কের জায়গা উদ্ধারের পর বাকি কার্যক্রমও শুরু হবে।

এদিকে ইটাগাছা এলাকার খোকন বিশ্বাসসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, পূর্বে তাদের কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। রাস্তার পাশে থাকা একটি স্কাভেটর মেশিনও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মেশিনটি হস্তান্তরযোগ্য হলেও কোনো সুযোগ না দিয়ে ভেঙে দেওয়ার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তারা। এ ছাড়া রাস্তার ধারে বসবাসকারী গরিব মানুষগুলোও পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। এমনকি ঘরে থাকা খাবারগুলোও সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইটাগাছা বস্তির জবেদা বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, বৃষ্টির দিনে প্রতিবন্ধী মেয়েদের নিয়ে কোথায় যাব? কোথায় থাকবো? কী হবে আমাদের? ভিক্ষা করে সংসার চালায়। দুই প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে খুপড়ি ঘর বেঁধে বহুবছর ধরে এখানে থাকি। স্বামী ছিল, সেও ছেড়ে চলে গেছে। যে ঘরটি ছিল তাও কেড়ে নিল। এখন যাব কোথায়?

জবেদার মতো গৃহহীন হয়ে পড়েছে রোকেয়া, লিলি, জাহারানা, রিক্তাসহ অসংখ্য নারী প্রধান পরিবার। এদের কেউ স্বামী পরিত্যাক্তা, কেউবা বিধবা। রাস্তার পাশের সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমিতে সন্তান-সন্তানাদি নিয়ে বসবাস করতেন তারা। তবে, এক দুই বছর নয়, এদের কেউ কেউ এ বস্তিতে ঠাঁই নিয়েছেন দুই তিন যুগ আগে।

জবেদার ঠিক পাশে ঘর থেকে জিনিসপত্র বের করে নিয়ে মাঠের ধারে নাতনিকে নিয়ে বসে ছিলেন জামের আলী। কান্নাজিড়ত কণ্ঠে তিনি বলেন, পথে বসে গেছি। এই ছোট বাচ্ছা নিয়ে কোথায় যাব জানি না। যা ছিল সব ভেঙে চুরে দেছে। সব শেষ। আল্লাহই জানে আমাদের কপালে এখন কী আছে।

রেশমা নামে আরেক নারী বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে এ জায়গায় থাকি। এখন আমাদের আর মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই।

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, সড়ক উন্নয়ন খুবই কাঙ্ক্ষিত। কিন্তু আশ্রয় হারানো মানুষগুলো যাবে কোথায়? বার বার বলা সত্ত্বেও তাদেরকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন মানুষগুলোকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে তিনি যেন নির্দেশ প্রদান করেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত সেনা সার্জেন্ট সেলিমের লাশ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু, সন্দেহের তীর মা ও সৎ বাবার দিকে

নিষিদ্ধ সংগঠনের পোস্টার লাগানোর অভিযোগে মামলা, আসামি শতাধিক

এইচএসসিতে নকলের দায়ে ৭ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার, ৫ শিক্ষককে অব্যাহতি

হলে ছাত্রদল নেতার সিট দখল ও মারধরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

টানা বর্ষণে পেকুয়ায় জনজীবন স্থবির, প্লাবিত অন্তত ২০ গ্রাম

বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

চবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা

সালমান খানের নতুন লুক ভাইরাল, ভক্তদের উচ্ছ্বাস

আবারও শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনার ঘোষণা

১০

ভারতে পালানোর সময় ঝিনাইদহ স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি গ্রেপ্তার

১১

বিশ্বকাপ জিতবে কোন দেশ, সবশেষ ভবিষ্যদ্বাণীতে জানাল সুপার কম্পিউটার

১২

নতুন দায়িত্বে ৭ মন্ত্রী

১৩

মার্কিন হামলায় ইরানের ৮ সেনা নিহত

১৪

ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ে অবস্থান করা দুঃখজনক: চসিক মেয়র

১৫

এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করায় বাদীকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ

১৬

ইবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মিথুন, সদস্য সচিব রাফিজ

১৭

জলাবদ্ধ বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রাখার নির্দেশ চট্টগ্রামে

১৮

বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য ফ্রি শাটল সার্ভিস চালু 

১৯

র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান হারাল আর্জেন্টিনা

২০
X