কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৪, ০৯:২৬ এএম
অনলাইন সংস্করণ

রেলস্টেশন যেন পশুর খামার

কুমিল্লায় রেলস্টেশনে গবাদিপশু। ছবি : কালবেলা
কুমিল্লায় রেলস্টেশনে গবাদিপশু। ছবি : কালবেলা

কুমিল্লায় গোমতী নদীর বাঁধ ভেঙে আকস্মিক বন্যার কবলে পড়ে মারাত্মক বিপর্যস্ত জনজীবন। জেলার ১৭টি উপজেলার মধ্যে ১৪টি উপজেলাতেই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে আকস্মিক এ বন্যা।

দিশেহারা অবস্থায় বাড়িঘর ফেলে প্রাণে বাঁচতে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন মানুষ। একইসঙ্গে গবাদিপশু গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বন্যাকবলিত এলাকার খামারিরা। চারদিকে পানির কারণে রাখার জায়গা না থাকায় শত শত গরু নিয়ে খামারিরা আশ্রয় নিয়েছে রসুলপুর রেলস্টেশনে।

এদিকে আকস্মিক বন্যায় চারণভূমি ডুবে যাওয়ায় গোখাদ্যের সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে। বেশিরভাগ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে থাকার কারণে পচে যাচ্ছে গোখাদ্যের প্রধান উপকরণ খড়। উপযুক্ত বাসস্থান ও খাদ্যের অভাবে অনেক গবাদিপশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আদর্শ সদর উপজেলার রসুলপুর রেলস্টেশনে শত শত গরু বেঁধে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যাকবলিত এলাকা থেকে কিছু মানুষও আশ্রয় নিয়েছে এই স্টেশনে। হঠাৎ দেখলে মনে হবে রসুলপুর রেলস্টেশন যেন গবাদিপশুদের আশ্রয়কেন্দ্র।

কুমিল্লা সদর উপজেলার রসুলপুর এলাকার মো. আরিফ বলেন, আমার খামারে ছোট বড় মিলিয়ে ১৬০টি গরু রয়েছে। বন্যার পনিতে পুরো এলাকা ডুবে গেছে। আমার খামারের ভেতরে বুকসমান পানি। সে জন্য গরুগুলোকে নিয়ে রেলস্টেশনে আমাকে থাকতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় গরুর বাসস্থান ও খাবার নিয়ে বিপাকে পড়েছি। বাজারে এক বস্তা (৫০ কেজি) খড়ের দাম ৫৮০ টাকা। কাঁচা ঘাস তো পাওয়া যায় না। কাঁচা ঘাস না পাওয়ায় অনেক খামারি খাল-বিল, ডোবা-নালা থেকে কচুরিপানা কেটে গবাদিপশুকে খাওয়াতে বাধ্য হচ্ছে।

খামারি আবদুর রশীদ বলেন, রসুলপুর স্টেশনের অদূরে পশ্চিম দিকে আমাদের বাড়ি। বুক পরিমাণ পানি বাড়ির উঠানে। বসতঘরের অর্ধেক পানির তলে। গোয়ালঘর ভেঙে গেছে। তাই এখানে পরিবারসহ ১২টা গরু নিয়ে উঠেছি। সরকারিভাবে ডাক্তার আপা এসে গরুর জন্য বিনামূল্যে খড়, ফিট, সাইলেস, শুকনো খাদ্য ও ওষুধ দিয়ে গেছেন। আমার একটা গরু অসুস্থ হয়ে স্টেশনে পড়ে ছিল, খবর পেয়ে ডাক্তার আপা নিজে এসে চিকিৎসা ও ওষুধ দিয়ে গরুটিকে সুস্থ করে তোলেন।

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তানজিলা ফেরদৌসী লিমা জানান, বন্যার পনিতে প্রথম দিকে কিছুটা ঝুঁকি ছিল। আমরা সার্বক্ষণিক মনিটর করেছি। আপাতত গবাদিপশুর তেমন কোনো ঝুঁকি নেই। বন্যার পনিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গো-চারণভূমি ডুবে যাওয়ায় কাঁচা ঘাসের অভাব দেখা দিয়েছে। বন্যা আসার আগে খামারিদের নিয়ে বৈঠক করে এ ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। খামারিদের খড়, ফিট, সাইলেস ও শুকনো খাদ্য সংগ্রহ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকশ খামারিকে গরু, মহিষ ও ছাগলের জন্য বিনামূল্যে খড়, ফিট, সাইলেস, শুকনো খাদ্য ও ওষুধ বিতরণ করেছি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

ঘটনাপ্রবাহ: বন্যা ২০২৪
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১২০ বছর বয়সি বৃদ্ধার সঙ্গে নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর কুশল বিনিময়

অবশেষে জয়ের স্বাদ পেল নোয়াখালী

আধুনিক শরীয়তপুর গড়তে সবার দোয়া চাই : নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতি নজরুল ইসলামের সতর্কতা

বগুড়ার জিয়াবাড়ি সাজছে নতুন রূপে

‘মুস্তাফিজের জায়গায় লিটন বা সৌম্য হলে কি একই সিদ্ধান্ত নিত বিসিসিআই?’

তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চলের সফর স্থগিত : মির্জা ফখরুল

প্রিয় মাতৃভূমির বদনখানি মলিন হতে দেব না : শিক্ষা সচিব

বিএনপির চেয়ারম্যান হলেন তারেক রহমান 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক চলছে

১০

গণঅধিকার থেকে নুরুকে বহিষ্কারের তথ্যটি ভুয়া

১১

এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠন

১২

পতিত স্বৈরাচার নির্বাচন বানচাল করতে চায় : সালাহউদ্দিন আহমদ

১৩

হ্যাটট্রিক করে বিপিএলে মৃত্যুঞ্জয়ের অনন্য কীর্তি

১৪

রেকর্ড দরপতনে ইরানের রিয়াল, ডলার ছাড়াল ১৪ লাখ ৭০ হাজার

১৫

বিপিএল ছাড়ার হুমকি ঢাকা ক্যাপিটালসের

১৬

নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই : জামায়াত

১৭

প্রিমিয়ার লিগ জয়ের জন্য শক্তি বাড়াল ম্যানসিটি

১৮

যুদ্ধবিমান নিয়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তান আলোচনা, নিবিড় পর্যবেক্ষণে ভারত

১৯

আলজাজিরার এক্সপ্লেইনার / কেন বাংলাদেশে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান বিক্রি করতে চাইছে পাকিস্তান

২০
X