গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১২:২৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

পাথরবিহীন রেলপথে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রেন

পাথরবিহীন রেলপথে চলছে ট্রেন। ছবি : সংগৃহীত
পাথরবিহীন রেলপথে চলছে ট্রেন। ছবি : সংগৃহীত

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ বাজার থেকে দৌলতদিয়া ঘাট পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ রেললাইনে চলাচল করছে ট্রেন। উঁচুনিচু ও আঁকাবাঁকা রেললাইনে নেই পাথর। খুলে গেছে সংযোগ পয়েন্টের নাট-বল্টু। বহু বছরের পুরানো কাঠের স্লিপারগুলো পচে যাওয়ায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এদিকে ট্রেনের গতি কমিয়ে চলাচলের নির্দেশনা দিয়েই দায় সারছে রেল কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এ রেল রুট দিয়ে প্রতিদিন খুলনা থেকে নকশীকাঁথা একপ্রেস মেইল ট্রেন যাত্রী নিয়ে গোয়ালন্দঘাট রেলস্টেশনে আসে। এ স্টেশন থেকে যাত্রী নিয়ে ট্রেনটি আবারও খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এ ছাড়া এ রুট দিয়ে প্রতিদিন কুষ্টিয়ার পোড়াদহ থেকে গোয়ালন্দঘাট রেলস্টেশন পর্যন্ত দুটি শাটল ট্রেন চলাচল করে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জরাজীর্ণ রেললাইনে ছিটকে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রেন। লাইনের ওপর রেল উঠতেই তিন থেকে চার ইঞ্চি ডেবে যায় স্লিপার। উঁচুনিচু আর আঁকাবাঁকা রেললাইনে নেই পাথর। অধিকাংশ ফিসপ্লেট জং ধরে ক্ষয় হয়ে গেছে। খুলে গেছে সংযোগ পয়েন্টের নাট-বল্টু। বহু বছরের পুরানো কাঠের স্লিপারগুলো পচে গেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, গত ১০ বছরে সারাদেশে রেলের উন্নয়নে সরকারের খরচ হয়েছে ৭২ হাজার কোটি টাকা। অথচ সেসব উন্নয়নের ছিটেফোঁটাও লাগেনি রাজবাড়ীর এ রেললাইনটিতে। ঝুঁকিপূর্ণ এ রেললাইনে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা।

স্থানীয়রা জানান, এ রেল লাইনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। রেললাইনে পাথর নেই। কাঠের স্লিপারগুলো ব্রিটিশ আমলের। এর বেশির ভাগ পচে গেছে। রেললাইনে নাট-বল্টু নেই। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। গত ২৮ আগস্ট এ রেল রুটে নকশীকাঁথা এক্সপ্রেস ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে রুটটিতে ১১ ঘণ্টা বন্ধ থাকে রেল যোগাযোগ। লাইনটি সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্কুলছাত্র আরিফ শেখ জানায়, রেললাইনের পাশ দিয়ে তাদের স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। যখন হেলেদুলে ট্রেন আসে তখন মনে হয় যেন গায়ের ওপরে পড়ছে। অনেক ভয়ে থাকতে হয়।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশীর সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা মো. হারুনুর রশিদ বলেন, গোয়ালন্দ বাজার থেকে গোয়ালন্দঘাট দৌলতদিয়া ঘাট পর্যন্ত রেল লাইনটি অনেক পুরোনো। ঝুঁকি বিবেচনায় এ রুটে ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালাতে চালকদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। লাইনটি সংস্কারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা রয়েছে। যথাসময়ে হয়তো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিএনপিতে যোগ দিলেন শতাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বী

টিভিতে আজকের যত খেলা

উত্তর সিরিয়ায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

প্রথমবার এলএনজি রপ্তানির চুক্তি করল ভেনেজুয়েলা

ইরানে নতুন নেতৃত্ব দরকার : ট্রাম্প

১৮ জানুয়ারি : কী ঘটেছিল ইতিহাসের এই দিনে

যৌথবাহিনীর অভিযানে জামায়াতের সাবেক নেতাসহ আটক ২

সফল হতে নাশতার আগেই যেসব কাজ করবেন

ইবনে সিনায় চাকরির সুযোগ

রোববার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ

১০

টানা ৩ দিন ৭ ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

১১

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম

১২

২৪-০ গোলে জিতলেন ঋতুপর্ণারা

১৩

ডাকসু নেতার ‘কোটা না সংস্কার’ স্লোগানের বিপরীতে শিক্ষার্থীদের ‘ইউরেনিয়াম, ইউরেনিয়াম’

১৪

বাংলাদেশের প্রস্তাবে সাড়া দিল না আয়ারল্যান্ড

১৫

জামালপুরের একমাত্র নারী প্রার্থী পূথির মনোনয়ন বৈধ

১৬

বিএনপি জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করে : শামা ওবায়েদ

১৭

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তির সমন্বিত কাজ অপরিহার্য : উপদেষ্টা ফরিদা

১৮

খোলা জায়গায় প্রস্রাব করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা

১৯

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : সেলিমুজ্জামান

২০
X