পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৫, ০১:৪৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

জিপিএ-৫ পেয়েও কলেজে ভর্তি অনিশ্চিত মায়ার

বাবা-মায়ের সঙ্গে মায়া। ছবি : কালবেলা
বাবা-মায়ের সঙ্গে মায়া। ছবি : কালবেলা

এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েও কলেজে ভর্তি অনিশ্চিত মারুফা আক্তার মায়ার। পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন তার স্বজনরা।

জানা যায়, মারুফা আক্তার মায়া উপজেলার ধরঞ্জী ইউনিয়নের নন্দইল গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক মুরশিদুলের মেয়ে ও ধরঞ্জী কুতুবিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার বাবা যেদিন ভ্যান চালিয়ে আয় করতে পারেন সেদিন পরিবারের সবার ভাত জোটে, নয়তো সবাইকে উপোস থাকতে হয়। হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান মায়া ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পড়ালেখা চালিয়ে আসছিল।

মায়ার বাবা জানান, ছোট থেকেই আমার মেয়ে পড়ালেখার প্রতি খুবই আগ্রহী। কিন্তু টাকার অভাবে কিছুই দিতে পারিনি। অধিকাংশ দিনই না খেয়ে স্কুলে যেত। পড়াশোনা ছাড়া তাদের কোনো চাহিদা নেই। নিজ মেধাগুণে এ পর্যন্ত আসতে পেরেছে। আমার সহায় সম্বল বলতে তেমন কিছুই নেই। ভ্যান চালিয়ে যে টাকা পাই তা দিয়ে মেয়েসহ পাঁচ সদস্যের পরিবারের সবার মুখের ভাত জোটাই। এ ছাড়া অসুস্থতার কারণে পরিবারের কিছু ঋণও আছে সেগুলোও এখন পরিশোধ করতে হবে। মেয়ের পরীক্ষার এমন ভালো রেজাল্ট শুনে যেমন খুশি লাগছে, আবার মেয়েকে টাকার অভাবে ভালো কলেজে ভর্তি করাতে না পেরে হতাশায় দিন কাটছে।

মায়া বলেন, ছোট থেকেই স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে পড়ালেখা করে ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করব। কিন্তু এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হলেও অর্থের অভাবে কলেজে ভর্তি হতে পারব কি না সেই শঙ্কায় দিন কাটছে। আমি পড়াশোনা করতে চাই।

প্রতিবেশী গোলাম মোস্তফা বলেন, আমাদের গ্রামের মেধাবী মেয়ে মায়ার বাবা একজন হতদরিদ্র ভ্যানচালক। তাদের সংসারে সর্বদাই অভাব লেগেই থাকে। এ কারণে মেয়েটার পড়ালেখা আগামীতে অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে।

ধরঞ্জী কুতুবিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মেয়েটি খুব কষ্ট করে লেখাপড়া চালিয়েছে। আমি তার ভবিষ্যৎ জীবনে সাফল্য কামনা করি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন রাষ্ট্রপতি

তিন মাস পর কারাবন্দি ২৩ ভারতীয় জেলের মুক্তি 

আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড / চূড়ান্ত পর্যায়ে বিচারিক প্রক্রিয়া, রায় যে কোনো দিন

জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব সদস্য হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার বেড়ে ৬

হাইআতুল উলয়ার কেন্দ্রীয় পরীক্ষা শুরু, পরীক্ষার্থী ২৪ হাজার

গাজীপুরে জাল টাকার কারখানার সন্ধান, আটক ৩

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি, নিহত অন্তত ৫০

বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না থাকায় যা বললেন ডি ভিলিয়ার্স

জেএসডির ৬৩ নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান

পোস্টাল ব্যালট বাতিলে নতুন নির্দেশনা ইসির

১০

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ফের ডিম নিক্ষেপ

১১

ঘরে সহজেই যেভাবে ‘বান্নি ইয়ার ক্যাকটাস’ লাগাবেন ও যত্ন নেবেন

১২

বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের জন্য আমাদের খারাপ লাগছে : ট্রুডি লিন্ডব্লেড

১৩

‘তোর ভাইকে মাথায় গুলি করিয়ে মেরেছি, তোকে মারতে আমি যাব’

১৪

বিশ্বকাপ বয়কটের কোনো পরিকল্পনা নেই ডাচদের

১৫

৯ ঘণ্টা পর তিন রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

১৬

১১৫ বছরে প্রথমবার দলিল ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন

১৭

ডাকসু ইস্যুতে সেই নেতার বিরুদ্ধে জামায়াতের অ্যাকশন

১৮

চট্টগ্রাম-২ আসনে হাইকোর্টে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন বিএনপির সারোয়ার

১৯

বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ায় আইসিসির ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন পাক কিংবদন্তি

২০
X