বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৬:৫০ এএম
আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:৫১ এএম
অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ায় হাতির পিঠে চড়ে কলেজ অধ্যক্ষের রাজকীয় বিদায়

হাতির পিঠে চড়িয়ে কলেজ অধ্যক্ষকে বিদায় সংবর্ধনা। ছবি: কালবেলা
হাতির পিঠে চড়িয়ে কলেজ অধ্যক্ষকে বিদায় সংবর্ধনা। ছবি: কালবেলা

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ছাইহাটা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আওরঙ্গজেব স্বপনকে হাতির পিঠে চড়ে রাজকীয় বিদায় জানাল কলেজ কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (২৪ সেপ্টম্বর) বিকেলে তাকে সারিয়াকান্দি ছাইহাটা ডিগ্রি কলেজে হাতির পিঠে চড়িয়ে এ বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। রাজকীয় এ বিদায় দেখতে আশপাশ এলাকা থেকে হাজারো মানুষ কলেজ চত্বরে ভিড় জমিয়েছেন।

বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ছাইহাটা ডিগ্রি কলেজের সভাপতি জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট নূর -এ- আজম বাবু।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ছাইহাটা ডিগ্রি কলেজ সাবেক সভাপতি আলহাজ আবুল কালাম আজাদ ও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মিল্লাত হোসেন মিঠু।

প্রধান অতিথি বক্তব্যে নূর-এ- আজম বাবু বলেন, ১৯৯৫ সালের ১ জুন আওরঙ্গজেব স্বপন এই প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। দীর্ঘ ৩১ বছরের কর্মজীবন শেষে অবসর গ্রহণ করলেন। এই কলেজকে একটি ছোট্ট টিনের ঘর থেকে শুরু করে তিলেতিলে পরিশ্রম করে যারা এই পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন এবং হেঁটে সাইকেলের চড়ে বিনা বেতনে, খেয়ে না খেয়ে দীর্ঘদিন শ্রম দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় তদবির করে আজকে যারা কলেজকে দাঁড় করিয়েছেন তাদের মধ্যে অধ্যক্ষ আওরঙ্গজেব স্বপন একজন। তার প্রাপ্য সম্মানটুকু আমরা দিতে পারিনি। তাই আজ তাকে সম্মান জানাতে হাতির পিঠে চড়ে বিদায় জানালাম। এর চেয়ে বেশি কিছু করতে পারলে আরও বেশি খুশি হতাম।

ছাইহাটা ডিগ্রি কলেজের সাবেক সভাপতি প্রতিষ্ঠাতা মিল্লাত হোসেন মিঠু বলেন, আওরঙ্গজেব স্বপন শুধু একজন অধ্যক্ষ ছিলেন না; তিনি ছিলেন এলাকার আলোকবর্তিকা। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি শ শ ছাত্র-ছাত্রীকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করেছেন, তৈরি করেছেন সুদক্ষ নাগরিক। বিদায়ী অধ্যক্ষ আওরঙ্গজেব স্বপন জানান, কর্মজীবনে ভাবিনি এত সম্মান পাবো। এই এলাকার মানুষের ভালোবাসা ও দোয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আজকের এ আয়োজন আমাকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অনুপ্রাণিত করবে।

বিদায় অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ স্বপনের সহধর্মিণী মনিজা বেগম ও ছেলে আদনান সৌরভও বক্তব্য রাখেন। তাদের চোখে ছিল অশ্রু, কণ্ঠে কৃতজ্ঞতার আবেগ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন অধ্যাপক হাবিবুর রহমান আকন্দ ও মিজানুর রহমান।

পুরো অনুষ্ঠান আবেগঘন পরিবেশ বিরাজ করলেও শিক্ষার্থীদের মুখে ছিল আনন্দ- গর্বের ছাপ। একজন শিক্ষককে ভালোবেসে, সম্মান জানিয়ে মানুষ কীভাবে বিদায় জানাতে পারে—ছাইহাটা ডিগ্রি কলেজ সেই অনন্য নজির স্থাপন করল।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিরতি ভেঙে নতুন গান নিয়ে ফিরছেন মেহরাব

অধ্যাপিকাকে হত্যা করতে ১৪০০ কিমি পাড়ি দিল দম্পতি

সংসদে আমির হামজা / ‘৩০টি নোটিশ দিয়েছি, কোনটার ওপর বলব জানি না’

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৪৫ নেতাকর্মী আটক

গাজীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মারা গেছেন

ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে বোর্ড পরিচালক হলেন যারা

গান শোনাতে ঢাকা আসছেন অনুপম রায়

সংসদে সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা / ‘হাসপাতাল নিজেই আইসিইউতে চলে গেছে’

ইউরোপের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে পরিচালক হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে সাঈদ ইব্রাহিম

১০

প্রেম ভাঙেনি, বরং বিয়ের পথে সজল আলি ও হামজা সোহেল

১১

শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ না করেই কারখানা বন্ধের অভিযোগ

১২

১৯ মে থেকে ৭ জুন : রামিসার জন্য বিচার প্রক্রিয়া যেভাবে এগিয়েছে

১৩

১০০ দিনের যুদ্ধ : টিকে থাকাই কি ইরানের বিজয়?

১৪

পোপ লিওর উন্মুক্ত প্রার্থনায় মাদ্রিদের রাস্তায় লাখো মানুষের ঢল

১৫

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ চায় নেজামে ইসলাম

১৬

এক বছরেই উধাও সাড়ে ৪ হাজার ডাস্টবিন

১৭

‘মিমিকে শাস্তি তাকে পেতেই হবে, তার শেষ দেখেই ছাড়ব’

১৮

প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি

১৯

সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে পরিচালক হলেন তামিম

২০
X