কুমিল্লার মুরাদনগরে শিশু আব্দুর রহমানকে (৫) অপহরণ করে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং একজনকে চৌদ্দ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন কুমিল্লার আদালত। মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-৩ এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মোয়াজ্জেম হোসেন এ রায় দেন।
এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী স্পেশাল পিপি এ্যাডভোকেট মো. আমজাদ হোসেন বলেন, আশা করছি উচ্চাদালত এ রায় বহাল রাখবে। এর ফলে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে আমি মনে করি। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এ্যাডভোকেট মো. এইচ এম আবাদ।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বোড়ারচর গ্রামের বাতেন বেপারীর ছেলে মো. ময়নাল হোসেন (৩৩), আবু মুসার ছেলে নাজমুল হাছান (৩০), মো. রবিউল হাসান (৩৪) ও মো. ছালামত খানের ছেলে মো. শাহীন খান (২০)। রায় ঘোষণাকালে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালত কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়- ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী রাতে মুরাদনগর উপজেলার গাংগাটিয়া গ্রামের বাদীর বাড়ীর উত্তর পাশে চৌচালা টিনের ঘরের পূর্ব পাশের রুমের ভেতরে ভিকটিম মো. আব্দুর রহমান (৫) অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে আটক রাখা হয়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারী ভিকটিমের পিতা কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলার গাংগাটিয়া গ্রামের মৃত আবু তাহেরের ছেলে ওমান প্রবাসী মো. ফারুক মিয়া (৩৬) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মুরাদনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. হামিদুল ইসলাম আসামি মো. ময়নালকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আব্দুর রহমানকে (৫) অপহরণ করে বাদীর নিকট ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় অপহরণের ১০দিন পর ভিকটিম আব্দুর রহমানকে ময়নাল হোসেনসহ অপর আসামিরা পরষ্পর যোগসাজশে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এক পর্যায়ে আসামি ময়নালের আবাদি জমিতে মাটিতে আব্দুর রহমানকে পুঁতে রাখা হয়। পরে আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী থানা পুলিশ আব্দুর রহমানের লাশ উদ্ধার করে।
পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষে আনীত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. হামিদুল ইসলাম ২০২২ সালের ২৩ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন শেষে রাষ্ট্রপক্ষে ৭জন সাক্ষী, যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনাক্রমে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের ভিত্তিতে আসামি ময়নাল হোসেন, নাজমুল হাছান ও মো. শাহীন খান ওরফে শাহীন মিয়াকে যাবজ্জীবন ও প্রত্যেকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থ দণ্ড, আনাদয়ে আরও ০৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অপর আসামি মো. রবিউল হাসানকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড; অনাদায়ে আরও ০৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত।
মন্তব্য করুন